Sunday, December 5, 2021

কবিতা || লোকটা || নবকুমার

লোকটা



লোকটাকে চেনে না কেউ 

যদিও তাতে ওর কিছু যায় আসে না ।


গাঁয়ের পাশে নদী

লোকটি প্রতিদিন বিকেলে

নদীর বালিতে পা ছড়িয়ে বসে

বালি দিয়ে তৈরি করে ঘর

সে ঘরে মানুষ থাকে না -

থাকে তার নিজস্ব হৃদয় ।


কখনো কখনো বালি দিয়ে তৈরি করে মন্দির

এ মন্দিরে কি দেবতা থাকে ?

জিজ্ঞেস করলে বলে -না,

দেবতারা এ ঘরে থাকে না 

থাকে দামি দামি মন্দিরে ।


লোকটির একাকী জীবন-

লোকে বলে 'পাগল'

এক পাগলের বিস্তৃত সুন্দরবন।

কবিতা || আহ্বান || হরিহর বৈদ্য

 আহ্বান

 


জাতের কভু নেই ভেদাভেদ
    এই কথাটি জানি,
ভাই হয়ে তবু ভাইয়ের রক্তে
     এত কেন হানাহানি?
হিন্দু-মুসলিম এক জাতি মোরা
        একসাথে আছি গাঁথা,
দলাদলির লড়াই তথাপি
          মনে বাজে বড় ব্যথা!
কে বলে হিন্দু, কে বলে মুসলিম?
     আমরা একই জাতি,
অশ্রু ঝরাই কাঁদলে সবাই---
         সুখেও সবাই হাসি।
জীবনের দাম সবারই সমান
     নেই সেথা ভেদাভেদ,
পুরান- কোরান- বাইবেল বা
      খুলে দেখো তুমি বেদ।
জন্ম-মৃত্যু, সৃষ্টি- বিনাশ---
          একই নিয়মে বাঁধা,
তব দেহে যেমনি রক্ত
      মোর দেহের সেই ধারা।
তাই সবাই মিলে ভাববো 
     মোরা একে অপরের ভাই,
কারো উপর ঘটলে আঘাত
       যেন সকলেই ব্যথা পাই।
মতভেদ আজ যত থাক 
      তবু একটা কথাই খাঁটি,
সবার উপরে এটাই সত্য
        আমরা মানব জাতি।
সব ভুলে তাই হাতে হাত রেখে
       শুধু এই কথাটাই বলি,
ভুল বোঝাবুঝি শেষ করে
     এসো একসাথে মোরা চলি।

কবিতা || স্মৃতিচারণা || মিলি দাস

 স্মৃতিচারণা



নির্বাক নিস্তব্ধ নারীগুলি 

যখন উন্মুক্ত বক্ষে দ্বিপ্রহরে

প্রদক্ষিণ করে চলেছে কারুকার্য মন্দির,

হাতুড়ি ছেনি শলাকা রেখে

সমান্তরাল প্রবাহে অন্বেষণে

প্রত্যক্ষ করি গুহা গহবরের চিকচিক করছে বৃষ্টি ফোঁটা মাখা শ্রাবণী মেঘেরা,

ওদের চোখের বিষণ্ণতা ধরা দিয়েছিল

প্রতিটি ভাস্কর্যের অন্তরে।

রিরংসার উৎকণ্ঠা জাগ্রত হয়নি

পাথুরে ঘন ছায়ায়,

বরং মনে পড়েছিল একযুগ আগে ফেলে আসা স্ত্রী,

প্রেয়সী কিংবা রক্তে ভেজা সুডৌল কন্যার কথা।

কবিতা || ছেড়ে দাও || ফরমান সেখ

 ছেড়ে দাও




যাকে তুমি জীবনের বিনিময়ে--

দিতে চেয়েছিলে একটা স্বচ্ছ জীবন

ভালোবাসার বেড়া দিয়ে

 করেছিলে লালন-পালন...


সে তোমার স্বপ্ন ভেঙে--

তোমার বেড়া করেছে পার

সাহস আর বিশ্বাস নিয়ে--

মেরেছে ছুট

প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় !


তাকে আর ধরে লাভ নেই

তাকে ছেড়ে দাও

স্বাভাবিক উদ্ভিদের মত


যদি ফেরে কপালের চাকা

ঠিক সে নিজেকে সামলে নেবে,

দাঁড়াবে নিজের পায়ে,

উঠবে বেড়ে নিজের মত

ছড়াবে নতুন শাখা-প্রশাখা...

কবিতা || স্বপ্নের রানী || শেখ নজরুল

 স্বপ্নের রানী



কি অপরূপ আঁখি তোমার,দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।

সত্যি অসাধারণ তোমার গোলাপী ঠোঁটের হাসি,সেই জন্যই তো আজও তোমাকেই বড় ভালোবাসি।

তোমার পাগল করা কেশে, আমি হারিয়ে যাই স্বপ্নের দেশে।

তোমার কি অপরূপ মহিমা, হাসলেই ঝড়ে পড়ে মধুচন্দ্রিমা।

তোমার ঐ বাঁকা চোখের চাউনি,মন ভরে ওঠে তাকাই যখনই।

হৃদয় জুড়ায় তোমার শাড়ির ভাঁজে,তাইতো ছুটে আসি সকাল-সন্ধ্যা সাঁঝে।

কানে আসে যখন আলতা পরা পায়ের নুপুরের শব্দ, হৃদয় তখন তোমার প্রেমে জব্দ।

বেঁধেই রেখেছো আমায় মায়ার বাঁধনে,তোমার কথা মনে পড়ে হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে।

কবে রাখবো তোমার কোলে মাথা,প্রানভরে বলবো আমার মনের কথা।

মন চায় থাকতে তোমার চোখের কাজল হয়ে,সারাজীবন থাকবো তোমার শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে।

সর্বসুখ বিরাজমান মোদের স্বপ্নের দেশে,হাজারো স্বপ্ন ফুটে উঠবে আলিঙ্গনের শেষে।

কবিতা || আমি || সৈয়দ শীষমহাম্মদ

 আমি 

    


কে আমি কিবা পরিচয়,

রয়েছি কোন ক্ষমতায় ?

আগে পিছে খুঁজে না পাই 

ধোঁয়াশা কুয়াশাতে রই,

এই আছি তো এই নেই 

ভাবে ভবে আছি শূন্যেই l

কবিতা || এ সকাল || আশীষ কুন্ডু

 এ সকাল 



এ সকাল ডেকে আনে মুঠোশীত

নতুন কিছু সুর, জীবনের গীত

এ সকাল বোলায় রঙের মেলা 

শীতের চাদর গায়ে খুশির বেলা।

কবিতা || হাহাকার || উদয়ন চক্রবর্তী

 হাহাকার 

 


রাক্ষসের খিদে নিয়ে ঘুরে মরছে শূন্যতা 

বৃষ্টি ভেজা যাপনে রৌদ্রস্নাত আশ্রয়ের খোঁজ 


পাখিদের ওড়া দেখে মানুষ উড়েছে ক্রমশ 

যারা চলে গেছে বলতে চাইছে ইতিহাস 


খিদে কামনা সবই রাক্ষস সাজে সময়ে

কাটাকুটি খেলার ছক ভরে সুযোগ বুঝে নিয়ে 


শরীর জমাট বাধে ডিপফ্রিজের নিস্তব্ধতায়

বেঁচে থাকা সহজ বেশি উত্তাপ সইলে বারংবার


ঘরে ঘরে শঙ্খ বাজায় লেডি ম্যাকবেথ

রাজা হবার স্বপ্ন আঁকে রান্না ঘরের কোনায়


বিধ্বস্ত চারদেওয়াল ভুত হয়ে ঘুমিয়ে থাকে

ওরাই তো জানে-না পাওয়ার যন্ত্রণার হাহাকার।

কবিতা || উড়ন্ত পত্রে জীবন গাথা || চাঁদ রায়

 উড়ন্ত পত্রে জীবন গাথা

      


প্রবল বাতাসের স্রোতে উড়ছে পাতা

ধূলোবালি চোখের প্রতিবর্তে

সরিয়ে দিচ্ছে অশ্রুকণা

যত আবর্জনা। 

এখনো সাধিকা রমণী পুষ্প আহরণে ব্যস্ত

যেন তোমার সুন্দর বাগানে আমি

উড়ছে তবু পাতা---

এসো, ঐ পাতায় লিখি

আমার, আমাদের জীবন গাথা।

কবিতা || পাশ ফেল || অরবিন্দ সরকার

 পাশ ফেল

              


একই দলেতে নাম তাহলে তো ফেল,

পরিবর্তন না হ'লে পাশ হবে কবে,

এদল সেদল ঘুরে পাকা পোক্তা রবে,

ডক্টরেট ডিগ্রি পাবে যদি হয় জেল।


দূর্নীতি, মিথ্যা ভাষনে শুরু কত খেল্,

চোরাকারবারি লুঠ কাটমানি খাবে,

পঞ্চবার্ষিকী মেম্বার গোগ্রাসে যা পাবে,

উন্নয়নে চাবিকাঠি কড়ি ফেলে তেল।


টিপছাপে মন্ত্রী হলে ভোটে হেড টেল্,

জোর যার মুল্লুকের ভার তার আগে,

বসন্ত সদা জিতলে হোলি মাঘ ফাগে,

ভিত্তিপ্রস্তর বপন যত্রতত্র রেল

আন্দোলনের মাথায় লাঠি মারো রাগে,

বুথদখলে লেঠেল থাকলেই হবে।

কবিতা || নিখোঁজ || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 নিখোঁজ



শূন্যতা এখন সন্ন্যাস নিয়েছে

চুপিচুপি নিঃশ্বাস ফেলে যায়

অগনিত আষাঢ় তোমার মেঘে

আমার আকাশ জুড়ে যুদ্ধ ঘনায়

ভালোবাসা নামের স্টেশনে 

হয়তো জন্মান্তর নামে রোজ

আমি মুছে নিই শরীর থেকে ঘাম, 

আর চোখ থেকে রক্ত, হৃদয় নিখোঁজ।

কবিতা || যৌবন || মিঠুন রায়

 যৌবন




তোমার ভালোবাসার ছোঁয়ায় শাণিত এই জীবন 

স্বপ্নিল ঢেউয়ের মাঝে অনন‍্যা অনুভূতি,

রয়েছে তার গভীর গোপন অভিসার।

বিরহীনির ডাকে জঠরের কান্না ভেসে আসে

শ্মশানের পোড়াঘ্রাণে অনুভব করি

বিরহীনির গোপন যৌবন।

কবিতা || কুয়াশার আলিঙ্গনে প্রকৃতি || সুমিত্রা পাল

 কুয়াশার আলিঙ্গনে প্রকৃতি



শীতের সকালে প্রকৃতির এ এক 

অপরূপ লাবণ্যে ভরা রূপ।

চারিদিক সাদা কুয়াশার আবরণ ,

পাখিরাও জাগেনি ,একদম নিশ্চুপ।

ঘুমিয়ে আছে প্রকৃতি মায়ের আঁচলে,

পরম স্নেহ-মমতার চাদরে।

সারি সারি আম, জাম , কাঁঠালের গাছ,

লজ্জায় রাঙা কুয়াশার আদরে।

বাঁশ গাছ সপসপে ভেজা কাপড়ে,

লজ্জায় দাঁড়িয়ে আছে নতমুখে।

টুপটাপ টুপটাপ করে কুয়াশার

জল পড়ে ওই মৃত্তিকার বুকে।

কচু পাতা থেকে মুক্তোর মতো 

টলটলে জল পড়ছে গড়িয়ে।

লাবণ্যময়ী প্রকৃতির কোমল দেহখানি,

নিবিড় আলিঙ্গনে কুয়াশা আছে জড়িয়ে।