Sunday, December 5, 2021

কবিতা || ছেড়ে দাও || ফরমান সেখ

 ছেড়ে দাও




যাকে তুমি জীবনের বিনিময়ে--

দিতে চেয়েছিলে একটা স্বচ্ছ জীবন

ভালোবাসার বেড়া দিয়ে

 করেছিলে লালন-পালন...


সে তোমার স্বপ্ন ভেঙে--

তোমার বেড়া করেছে পার

সাহস আর বিশ্বাস নিয়ে--

মেরেছে ছুট

প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় !


তাকে আর ধরে লাভ নেই

তাকে ছেড়ে দাও

স্বাভাবিক উদ্ভিদের মত


যদি ফেরে কপালের চাকা

ঠিক সে নিজেকে সামলে নেবে,

দাঁড়াবে নিজের পায়ে,

উঠবে বেড়ে নিজের মত

ছড়াবে নতুন শাখা-প্রশাখা...

কবিতা || স্বপ্নের রানী || শেখ নজরুল

 স্বপ্নের রানী



কি অপরূপ আঁখি তোমার,দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।

সত্যি অসাধারণ তোমার গোলাপী ঠোঁটের হাসি,সেই জন্যই তো আজও তোমাকেই বড় ভালোবাসি।

তোমার পাগল করা কেশে, আমি হারিয়ে যাই স্বপ্নের দেশে।

তোমার কি অপরূপ মহিমা, হাসলেই ঝড়ে পড়ে মধুচন্দ্রিমা।

তোমার ঐ বাঁকা চোখের চাউনি,মন ভরে ওঠে তাকাই যখনই।

হৃদয় জুড়ায় তোমার শাড়ির ভাঁজে,তাইতো ছুটে আসি সকাল-সন্ধ্যা সাঁঝে।

কানে আসে যখন আলতা পরা পায়ের নুপুরের শব্দ, হৃদয় তখন তোমার প্রেমে জব্দ।

বেঁধেই রেখেছো আমায় মায়ার বাঁধনে,তোমার কথা মনে পড়ে হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে।

কবে রাখবো তোমার কোলে মাথা,প্রানভরে বলবো আমার মনের কথা।

মন চায় থাকতে তোমার চোখের কাজল হয়ে,সারাজীবন থাকবো তোমার শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে।

সর্বসুখ বিরাজমান মোদের স্বপ্নের দেশে,হাজারো স্বপ্ন ফুটে উঠবে আলিঙ্গনের শেষে।

কবিতা || আমি || সৈয়দ শীষমহাম্মদ

 আমি 

    


কে আমি কিবা পরিচয়,

রয়েছি কোন ক্ষমতায় ?

আগে পিছে খুঁজে না পাই 

ধোঁয়াশা কুয়াশাতে রই,

এই আছি তো এই নেই 

ভাবে ভবে আছি শূন্যেই l

কবিতা || এ সকাল || আশীষ কুন্ডু

 এ সকাল 



এ সকাল ডেকে আনে মুঠোশীত

নতুন কিছু সুর, জীবনের গীত

এ সকাল বোলায় রঙের মেলা 

শীতের চাদর গায়ে খুশির বেলা।

কবিতা || হাহাকার || উদয়ন চক্রবর্তী

 হাহাকার 

 


রাক্ষসের খিদে নিয়ে ঘুরে মরছে শূন্যতা 

বৃষ্টি ভেজা যাপনে রৌদ্রস্নাত আশ্রয়ের খোঁজ 


পাখিদের ওড়া দেখে মানুষ উড়েছে ক্রমশ 

যারা চলে গেছে বলতে চাইছে ইতিহাস 


খিদে কামনা সবই রাক্ষস সাজে সময়ে

কাটাকুটি খেলার ছক ভরে সুযোগ বুঝে নিয়ে 


শরীর জমাট বাধে ডিপফ্রিজের নিস্তব্ধতায়

বেঁচে থাকা সহজ বেশি উত্তাপ সইলে বারংবার


ঘরে ঘরে শঙ্খ বাজায় লেডি ম্যাকবেথ

রাজা হবার স্বপ্ন আঁকে রান্না ঘরের কোনায়


বিধ্বস্ত চারদেওয়াল ভুত হয়ে ঘুমিয়ে থাকে

ওরাই তো জানে-না পাওয়ার যন্ত্রণার হাহাকার।

কবিতা || উড়ন্ত পত্রে জীবন গাথা || চাঁদ রায়

 উড়ন্ত পত্রে জীবন গাথা

      


প্রবল বাতাসের স্রোতে উড়ছে পাতা

ধূলোবালি চোখের প্রতিবর্তে

সরিয়ে দিচ্ছে অশ্রুকণা

যত আবর্জনা। 

এখনো সাধিকা রমণী পুষ্প আহরণে ব্যস্ত

যেন তোমার সুন্দর বাগানে আমি

উড়ছে তবু পাতা---

এসো, ঐ পাতায় লিখি

আমার, আমাদের জীবন গাথা।

কবিতা || পাশ ফেল || অরবিন্দ সরকার

 পাশ ফেল

              


একই দলেতে নাম তাহলে তো ফেল,

পরিবর্তন না হ'লে পাশ হবে কবে,

এদল সেদল ঘুরে পাকা পোক্তা রবে,

ডক্টরেট ডিগ্রি পাবে যদি হয় জেল।


দূর্নীতি, মিথ্যা ভাষনে শুরু কত খেল্,

চোরাকারবারি লুঠ কাটমানি খাবে,

পঞ্চবার্ষিকী মেম্বার গোগ্রাসে যা পাবে,

উন্নয়নে চাবিকাঠি কড়ি ফেলে তেল।


টিপছাপে মন্ত্রী হলে ভোটে হেড টেল্,

জোর যার মুল্লুকের ভার তার আগে,

বসন্ত সদা জিতলে হোলি মাঘ ফাগে,

ভিত্তিপ্রস্তর বপন যত্রতত্র রেল

আন্দোলনের মাথায় লাঠি মারো রাগে,

বুথদখলে লেঠেল থাকলেই হবে।

কবিতা || নিখোঁজ || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 নিখোঁজ



শূন্যতা এখন সন্ন্যাস নিয়েছে

চুপিচুপি নিঃশ্বাস ফেলে যায়

অগনিত আষাঢ় তোমার মেঘে

আমার আকাশ জুড়ে যুদ্ধ ঘনায়

ভালোবাসা নামের স্টেশনে 

হয়তো জন্মান্তর নামে রোজ

আমি মুছে নিই শরীর থেকে ঘাম, 

আর চোখ থেকে রক্ত, হৃদয় নিখোঁজ।

কবিতা || যৌবন || মিঠুন রায়

 যৌবন




তোমার ভালোবাসার ছোঁয়ায় শাণিত এই জীবন 

স্বপ্নিল ঢেউয়ের মাঝে অনন‍্যা অনুভূতি,

রয়েছে তার গভীর গোপন অভিসার।

বিরহীনির ডাকে জঠরের কান্না ভেসে আসে

শ্মশানের পোড়াঘ্রাণে অনুভব করি

বিরহীনির গোপন যৌবন।

কবিতা || কুয়াশার আলিঙ্গনে প্রকৃতি || সুমিত্রা পাল

 কুয়াশার আলিঙ্গনে প্রকৃতি



শীতের সকালে প্রকৃতির এ এক 

অপরূপ লাবণ্যে ভরা রূপ।

চারিদিক সাদা কুয়াশার আবরণ ,

পাখিরাও জাগেনি ,একদম নিশ্চুপ।

ঘুমিয়ে আছে প্রকৃতি মায়ের আঁচলে,

পরম স্নেহ-মমতার চাদরে।

সারি সারি আম, জাম , কাঁঠালের গাছ,

লজ্জায় রাঙা কুয়াশার আদরে।

বাঁশ গাছ সপসপে ভেজা কাপড়ে,

লজ্জায় দাঁড়িয়ে আছে নতমুখে।

টুপটাপ টুপটাপ করে কুয়াশার

জল পড়ে ওই মৃত্তিকার বুকে।

কচু পাতা থেকে মুক্তোর মতো 

টলটলে জল পড়ছে গড়িয়ে।

লাবণ্যময়ী প্রকৃতির কোমল দেহখানি,

নিবিড় আলিঙ্গনে কুয়াশা আছে জড়িয়ে।

কবিতা || উত্থিত প্রেমে || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

 উত্থিত প্রেমে




না ছুঁয়ে-থাকা ভালবাসার অমৃত ফলের

অপ্রাপ্তিতে মন তখন ভীষণ উচাটনে।

কাজে বুঝি শুখা-শুখা মানসিক ছোবলে

জীবনের মানে বদলে যেতে অতি তৎপর।

কেন দরকারী প্রেম? সেটাই তালে হেম,

চারপাশে হেলাফেলা প্রকাশিত বিক্ষিপ্ত মননে।

অতএব তন্নতন্ন দারুণ তালাশে বাঁচার রসদ

ভালবাসায় আরোগ্যলাভ অতি কাম্য যখন-তখন।

কিন্তু কিন্তু তবুও মনোভাবে সাহসের আকাল

প্রেমের উৎস-সন্ধানে ব্যর্থতাই এক পরিহাস!

আড়ষ্টতা মুছে ফেলে সাহসী দৃপ্ত পদক্ষেপে

মিলতেও পারে সহজ স্বাভাবিক তৃপ্ত নিঃশ্বাস।

না ছুঁয়ে থাকা আশনাই খুব তিক্ত বিরক্তিতে

ছেয়ে ফেলে বিশ্বটা অনায়াসে অনামী আস্বাদনে।

সেই গোলকধাঁধার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে

সেই চরম অতৃপ্তির দুনিয়ার সাথে বিচ্ছিন্নতায়

আসুক না একবার নতুনত্ব উল্লাসের আপ্যায়নে।

কবিতা || সবার প্রিয় মারাদোনা || নীতা কবি মুখার্জী

 সবার প্রিয় মারাদোনা




আমাদের সবার প্রিয় তুমি, মারাদোনা

তোমার গল্পকথা যায় না যে গোনা

বিশ্বের বিস্ময়, বিস্ময় পুরুষ তুমি

তোমার চরণ-চুমে সকল ফুটবল-ভূমি।


ফুটবল দুনিয়া ভুলবে না কখনো তোমায়

ফুটবলের রাজপুত্র বলে সেলাম জানায়।


বিশ্বকাপ জিতে হয়েছো বিশ্ব-বিজয়ী

একা লড়ে গেছো, তাই তুমি কাল-জয়ী।


জন্ম হোক যথা-তথা, কর্ম হোক মহান

সেই বিশ্বাসটুকু দুনিয়াকে করেছো দান।


জন্ম তব হতদরিদ্র অনামী এক সমাজে

রাজ-সম্মানে ভূষিত হয়েছো নিজ-কাজে।


শোক, তাপ, ধিক্কার সবই ছিলো জীবনে

তবুও লক্ষ্য ছিলো অসাধ্যসাধনে।


তোমার পায়ের যাদু সর্বজন বিদিত

ব্যাখ্যা হয় না তার, সবাই বিস্মিত।


শিল্পীর মৃত্যু নেই, তুমি মৃত্যুঞ্জয়

সবার হৃদয়ে অমর রবে তুমি নিশ্চয়।


বিদায় বন্ধু, সখা, এই হিংস্র পৃথিবী হতে

সগর্বে ফিরো আবার এই ফুটবল দুনিয়াতে।

কবিতা || স্বরলিপি || মহীতোষ গায়েন

 স্বরলিপি



কবিতা লিখেছি মৃত্যু লিখেছি কত

আশা ভালোবাসা মরেছে অবিরত,

এবার লিখবো হাজার তারার গান

সুসময়ে ফেরে নবান্নের কলতান।


লিখেছি অনেক সব হারানো ব‍্যথা

করিনি কখনো অন‍্যায়ে নত মাথা,

এবার লিখবো মানুষদের কথামুখ

অবিরত যাদের কষ্টে ফেটেছে বুক।


এবার লিখবো প্রেমহীন ভালোবাসা

যেখানে শুধু চাওয়া পাওয়াটাই বড়,

কেটেকুটে সব লিখবো জীবননাট‍্য

স্বপ্নপূরনের সেই স্বরলিপি হবে পাঠ‍্য।