Tuesday, September 5, 2023

রাজ্যে আবার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ ২০২৩, মাসিক বেতন ১৬,০০০ টাকা || WB Data entry Recruitment 2023 || WB govt job news


 


 রাজ্যে আবার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ ২০২৩, মাসিক বেতন ১৬,০০০ টাকা || WB Data entry Recruitment 2023 || WB govt job news




রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদের জন্য সুখবর। এতদিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্যে চাকরি নিয়োগ বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গের চাকরি প্রার্থীদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। রাজ্যে ভূমি দপ্তরে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
তাই বর্তমানে যেসমস্ত চাকরি প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। কোন কোন পদে নিয়োগ করা হবে, মাসিক বেতন কত দেওয়া হবে, বয়সসীমা কত থাকতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি লাগবে এবং কিভাবে আবেদন করতে হবে তা নিচে থেকে পরপর জেনে নেব।



আবেদনকারী কারা- পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো জেলার প্রার্থীরা এখানে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। 


পদের নাম: ডেটা এন্ট্রি অপারেটর।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিটি প্রার্থীকে স্নাতক উত্তীর্ণ হতে হবে এবং কম্পিউটারের জ্ঞান থাকা আবশ্যক এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


বয়সসীমা:  প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর।

বেতন: ১৬,০০০/- টাকা প্রতি মাসে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া: প্রথমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শর্ট লিস্ট করা হবে এবং সব শেষে ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।



আবেদন পদ্ধতি: শুধু মাত্র অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সমস্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিগুলি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে পিডিএফ হিসাবে পাঠাতে হবে।


আবেদনের শেষ তারিখ: ০৫/০৯/২০২৩


আবেদন করার E-mail ID-

_________________________________________


চাকরি সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন




Telegram group-



Whatsapp group-

Friday, September 1, 2023

প্রবন্ধ || বাউল-প্রসঙ্গে লালন-কথা || শংকর ব্রহ্ম || Baul prosonge lalon kotha - Sankar Brhama || Article

বাউল-প্রসঙ্গে লালন-কথা


শংকর ব্রহ্ম



(এক).



          বাউল একটি বিশেষ ধর্মমত ও লোকাচার।  


এই বাংলার মাটিতেই এই মতের সৃষ্টি হয়েছে। লালন সাঁই(বাউলকূল শিরোমণি)-এর গানের মধ্য দিয়ে বাউল মত পরিচিতি লাভ করে। 


বাউল গান যেমন জীবন দর্শন সম্পর্কিত তেমনই সুরসমৃদ্ধ গান। বাউলরা সাদামাটা কৃচ্ছ্রসাধনার জীবন-যাপন করে আর একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়, গান শুনিয়ে একদিনের চলার মতো গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহ হলেই তাদের চলে যায়। সাধারণ গৃহস্থের মতো আগামী কালের খাবার সংগ্রহে রাখা তাদের স্বভাব বিরুদ্ধ। 


২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্বের মৌখিক এবং দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে বাউল গানকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।



     বাউল শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে নানামত প্রচলিত রয়েছে। বাউল শব্দের অর্থ অনেকে, অনেকে রকম করেছেন। 


          ক্ষিতিমোহন সেনের মতে , বাউল এসেছে ব্যাকুল শব্দ থেকে, কেননা বাউলরা আত্মানুসন্ধানে ব্যাকুল। তারা মুক্তপুরুষ, তাই সমাজের কোনো বাঁধনে তারা ধরা দেন না।



      এই কথার ধারণা মেনে নিয়ে একজন আবার লিখেছেন বায়ু+ল= বাউল। আরেকজন বলেছেন, হিন্দি শব্দ বাউর থেকে বাংলায় বাউল শব্দটি এসেছে।


           হরেন্দ্রচন্দ্র পাল ( আরবি-পারশি ভাষার পণ্ডিত) মনে করছেন ‘আউল’ ‘ওয়ালী’ শব্দ থেকে আউল বাউল শব্দের জন্ম।



ফকির দুদ্দু শাহ্ বলছেন- ‘যে খোঁজে মানুষে খোদা সেই তো বাউল।’ 


আবার কেউ বলছেন, বাউ+উল= বাউল; হচ্ছে বাতাস অনুসন্ধানকারী, সু বাতাসে যে চলে সেই বাউল।


    অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে ‘ঈশ্বরপ্রেমে মাতাল, বস্তুজ্ঞানবর্জিত, উদাসীন ভক্ত’-এই অর্থে বাউল শব্দ একাধিক বার ব্যবহৃত হয়েছে।


            অতিপ্রাচীনকাল থেকে বাউল শব্দটির প্রচলন লক্ষ করা যায়। আনুমানিক সপ্তদশ শতক থেকে বাউল নামের ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়, চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের আদিলীলা অংশে এর ব্যবহার লক্ষ করা করা যায়, চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে মহাপ্রভু, রামানন্দ রায় ও সনাতন গোস্বামীর নিকট কৃষ্ণ বিরহ বিধুর নিজেকে মহাবাউল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সেই থেকে অনুমান করা হয়, বাউল শব্দের উৎপত্তির কথা। বাউলের মধ্যে রয়েছে নানাবিধ শাখাপ্রশাখা, একেক সম্প্রদায়ের বাউলেরা একেক মত অনুযায়ী চলে , সেগুলো তাদের সম্প্রদায় ভেদে ধর্মীয় উপাসনার একটি অংশ হিসাবে বিচার্য হয়।


      বাউলেরা উদার মানসিকতার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধর্মসাধক। তারা সর্বদা মানবতার বাণী প্রচার করে থাকেন। 


বাউল মতবাদের সঙ্গে বৈষ্ণবধর্ম এবং সূফীবাদের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। 


বাউলরা সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় আত্মাকে। 


তাদের মতে আত্মাকে জানলেই পরমাত্মা বা সৃষ্টিকর্তাকে জানা যায়। আত্মা দেহে বাস করে, তাই তারা দেহকে পবিত্র জ্ঞান করে। 


সাধারণত প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও, বাউলরা জীবনদর্শন সম্পর্কে অনেক গভীর কথা ভাবেন, এবং তা প্রকাশ করেন গানের মধ্য দিয়ে।


   বাউল সাধকদের শিরোমণি ফকির লালন সাঁই। লালন তার বিপুল সংখ্যক গানের মাধ্যমে বাউল মতের দর্শন এবং অসাম্প্রদায়িকতার প্রচার করেছিলেন। বাউল সমাজে তিনি "সাইজিঁ" ও তার গান "সাইজিঁর কালাম" হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও বাউল কবিদের মধ্যে জালাল খাঁ, 


রশিদ উদ্দিন, হাছন রাজা, রাধারমণ, সিরাজ সাঁই, পাঞ্জু সাঁই, পাগলা কানাই, শীতলং শাহ, দ্বিজদাস, হরিচরণ আচার্য, মহর্ষি মনোমোহন দত্ত, লাল মাসুদ, সুলা গাইন, বিজয় নারায়ণ আচার্য, দীন শরৎ (শরৎচন্দ্র নাথ), রামু মালি, রামগতি শীল, মুকুন্দ দাস, আরকুম শাহ্‌, সৈয়দ শাহ নূর, শাহ আব্দুল করিম, উকিল মুন্সী, চান খাঁ পাঠান, তৈয়ব আলী, মিরাজ আলী, দুলু খাঁ, আবেদ আলী, উমেদ আলী, আবদুল মজিদ তালুকদার, আবদুস সাত্তার, খেলু মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, আলী হোসেন সরকার, চান মিয়া, জামসেদ উদ্দিন, গুল মাহমুদ, প্রভাত সূত্রধর, আবদুল হেকিম সরকার, আবুল কাসেম তালুকদার, বাউল সুনীল কর্মকার, ক্বারী আমীর উদ্দিন আহমেদ, ফকির দুর্বিন শাহ, শেখ মদন, দুদ্দু সাঁই, কবি জয়দেব, কবিয়াল বিজয় সরকার, ভবা পাগলা, নীলকণ্ঠ, দ্বিজ মহিন, পূর্ণদাস বাউল, খোরশেদ মিয়া, মিরাজ উদ্দিন পাঠান, আব্দুল হাকিম, আলেয়া বেগম, দলিল উদ্দিন বয়াতি, মাতাল রাজ্জাক, হালিম বয়াতি, মালেক দেওয়ান, খালেক দেওয়ান ও আক্কাস দেওয়ান, মনির দেওয়ান প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।



(দুই).



            সময়ের এই জটিল সন্ধিক্ষণে, যখন সারা পৃথিবী জুড়ে জাতিগত বিদ্বেষ সম্প্রসারণের পথে দ্রুত ধাবিত , তখন যার কথা খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, তার নাম মহাত্মা 'লালন ফকির'। তাঁর জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা ও ভাবনার সময় এসেছে আবার নতুন করে।



            লালনের জন্মবৃত্তান্ত কুহেলিকাময়। তাঁর 


জীবন সম্পর্কে বিষদ কিছু জানা যায় না।


তিনি নিজেও জীবদ্দশায় এ'বিষয়ে আলোচনায় খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। শিষ্যরা এ'বিষয়ে তার কাছে বেশী কিছু জানতে পারেননি। তবে তাঁর সম্পর্কে যায় শোনা যায়, তিনি অবিভক্ত বাংলার ঝিনাইদহ জেলার, হরিণাকুন্ড উপজেলার হবিশপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।


          কোন কোন লালন গবেষক মতে, কুষ্টিয়ার কুমীরখালি থানার চাপড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। লালনের জন্ম কেউ বলেন - ১৭৭২ সালে, আবার কেউ বলেন ১৭৭৪ সালে। তার মৃত্যু হয় ১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর। আবার কেউ বলেন, ১৮৯১ সালের ১৭ই অক্টোবর।


      লালন নিজে একজন স্বনাম ধন্য মানুষ ছিলেন। কবিগুরু তার গান ও নাম প্রচারের আলোয় আনেন। তিনি তার গানের মানবিক ভাব দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রায় দেড় শতাধিক গান রচনা করেন। তিনি লালনের কথা বারবারই নানা আলোচনায় প্রকাশ করেছেন।


মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ,সত্যেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে লালনের পরিচয় ছিল। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ লালনের একটি প্রতিকৃতি আঁকেন। সেটা আজও রক্ষিত আছে। নন্দলাল পরবর্তীকালে লালনের একটি স্কেচ আঁকেন। সেটি বহুল প্রচারিত।


     


         কেউ বলেন,নতার পদবী দাস, কেউ বলেন সেন, কেউ বলেন কর, আবার কেউ বলেন তার পদবী শাহ ছিল। কেউ বলেন তিনি হিন্দু, কেউ আবার বলেন তিনি মুসলমান ছিলেন। লালন নিজে অবশ্য তাকে ফকির বলে পরিচয় দিতেন।


" সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে?


লালন বলে,জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে,


ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান,নারী লোকের হয় কি বিধান?


বামুন চিনি পৈতায় বামনী চিনি কি দেখে?


কেউ মালা কেউ তসবির গলে, তাই দেখে জাত ভিন্ন বলে . . . "



  শোনা যায়, তিনি একবার বাউল দাসের সঙ্গে তীর্থ ভ্রমণে বার হন, পথের মধ্যে তার গুটিবসন্ত রোগ হয়। মারত্মক আকার ধারণ করে, তার শ্বাস ক্ষীণ হয়ে আসে, তখন তার নাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে, সহ-তীর্থযাত্রীরা তখন তাঁকে মৃত ভেবে নদীতে ভাসিয়ে দেন। এবং তারা গ্রামে ফিরে এসে বলেন, পথের মধ্যে লালন বসন্ত রোগে মারা গেছেন।


 অলৌকিক ভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।


        যখন তিনি নদীতে ভেসে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে দেখতে পান এক সাত্ত্বিক প্রকৃতির মহিলা (জাতে মুসলমান তাঁতী) নাম মতিজান। তিনি সন্তানহীনা ছিলেন। আল্লার কাছে প্রতিদিন সন্তানের কামনা করতেন। তিনি তাঁকে আল্লার দান মনে করলেন। তিনি যখন তাকে দেখেন,


তার দেহ পঁচাগলা অবস্থায় ছিল।তিনি তাঁকে তুলতে ভরসা পেলেন না। তিনি তার স্বামী মলম শাহকে ডেকে আনলেন, রমলম শাহ তাঁকে কলাপাতায় করে তুলে ঘরে নিয়ে এলেন। তিনি জড়িবুটির চিকিৎসা জানতেন। তার আর তার স্ত্রী মতিজানের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রাণপন সেবা যত্নে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্ত তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর নাম রাখার জন্য নাকি মলম শাহ কোরাণ হাদিস এনে জড়ো করলে, মতিজান বলেন, এ'সব দিয়ে কি হবে? মলম শাহ বললেন, নতুন অতিথির নাম রাখা হবে।


মতিজান বলল, আমি ওকে লালন পালন করেছি যখন, তখন ওর নাম হবে - লালন।


মতিজানদের পরিবারের গুরু ছিলেন সিরাজ সাঁই। সেখানেই তাঁর সাথে পরিচয় হয় লালনের।


         সুস্থ হয়ে উঠে কিছুদিন সেখানে থাকার পর তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে, মতিজান বলল, 


হ্যাঁ বাপ, তুমি তোমার বাপ মায়ের কাছে ফিরে যাও।


দেখো তোমায় ফিরে পেয়ে তারা কত খুশি হবেন।


লালন সেইমত নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। কিন্তু তার মা পদ্মাবতী দেবী, (বুক ফেটে গেলেও) সামাজিক প্রতিবন্ধকতার দায়ে, তাকে ঘরে তুলতে পারেননি। তার স্ত্রী তার সহগামী হতে চাইলেও সমাজপতীদের বাঁধায়, তা হতে পারেননি।নফলে, লালন মনে মনে ভীষণ আঘাত পান, পরে সন্যাসী হয়ে নানা স্থানে ঘুরতে ঘুরতে কালীগঙ্গার ধারে ছেঁউড়িয়া গ্রামে একটি বটগাছের নীচে অধিবেশন করেন। এই গ্রামের মলম শাহ একজন স্বাতিক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন( সেই মলম শাহ,যিনি তার পঁচাগলা দেহ উদ্ধার করে তাতে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন)। তিনি সেই বটতলা থেকে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন। স্বামী স্ত্রী দু'জনে মিলে ভক্তি ভরে তার সেবাযত্ন করেন। এমন কি নিজের জমিজমা তার নামে লিখে দেন। তারা নিজেরা তাঁর আশ্রমের বাসিন্দা হিসাবে সেখানে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কালে কালে তার অনেক শিষ্য জুটে যায়।


         লালনের আশ্রমে আম জাম কাঠালের গাছ ছিল।বালকেরা ইচ্ছে মতো সেই বাগানের ফলমূল খেতো, লালন কখনই তাতে বিরক্ত হতেন না। তার আশ্রমের জমি লাখোরাজ ছিল। ইহা রবীন্দ্রনাথের অবদান। পরবর্তী কালে প্রয়োজনে তার কিছুটা বিক্রি করে চার বিঘার উপর নতুন আশ্রমটি গড়ে তোলা হয়। এক মুসলমান তাঁতীকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু তাকে লোক চক্ষুর আড়ালে রাখতেন।


       শোনা যায় তিনি খুব পান খেতেন, দিনে শতাধিক। তাঁর জন্য একজন শিষ্য সারারাত ধরে মিহি করে সুপারী কাটতেন। তাঁর জন্য নাকি একটা পানের বরোজ ছিল। সেখানে কখনও তিনি কাজ করতেন, কোন কাজে


তার হীনমন্যতা ছিল না।


      তার আশ্রমে মণিরুদ্দীন নামে একজন পন্ডিতব্যক্তি পাঠশালা চালাতেন। আর লালন একটি জলচৌকিতে বসে গান করতেন। জলচৌকিটি এখনও আশ্রমে সংরক্ষিত আছে। মোট তিনি ২৮৮ টি গান রচনা করেছেন। সবগুলির সুর দিয়ে যেতে পারেননি। তিনি দেখতে সুপুরুষ ছিলেন।


তার একটি ঘোড়া ছিল। তিনি ঘোড়ায় চড়ে দূরের শিষ্যদের বাড়িতে যেতেন। পন্ডিত মণিরুদ্দীন এই ঘোড়ার সহিস ছিলেন।


লালনের গান রচনা শেষ হলে, তিনি পরের দিন সকালে তার শিষ্যদের তা ডেকে শেখাতেন। আবার সন্ধ্যাবেলা বসতেন সেই গান নিয়ে। শিষ্যদের কাছে তা শুনতে চাইতেন। কেউ কোন ভুলচুক করলে তাকে শংকর মাছের চাবুক দিয়ে নিষ্ঠুর ভাবে প্রহার করতেন, তাতে কারও কারও গা কেটে যেতো।


        লালন নিজে বেশী দূর লেখাপড়া করার সুযোগ পাননি। কিন্তু তার গানে মেধা ও মননশীলতার কোন ঘাটতি ছিল না।


  " তারে ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়,


খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।"


কিংবা,


" কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ


যে রে?


হারায়ে সেই মানুষে খুঁজে বেড়াই দেশ বিদেশ . . . "


 


        এই ধরণের বহু জ্ঞানগর্ভ গান তিনি রচনা করেছেন।


  তাঁর তেরোজন শিষ্য ছিল, তাদের মধ্যে প্রায় সকলেই ধনী ও শিক্ষিতব্যক্তি ছিলেন। তারা সকলেই সংসারী ছিলেন। স্ত্রী সহবাস করতেন, কিন্ত স্ত্রীগর্ভে বীজ বপন করেননি। তাদের মিলন উর্দ্ধগমী পদ্ধতিতে হতো। একসময় তারা সকলে ঘর বাড়ি ত্যাগ করে এসে আশ্রমে কঠোর অনুশাসনের মধ্যে কাটাতেন। তাদের মধ্যে মলম শাহ, ভোলা শাহ, মণিরুদ্দীন শাহ, ভাঙুরানী ফকিরানী উল্লেখযোগ্য।


         লালনের গান ও দর্শনদ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, এলেন গীন্সবার্গ (আমেরিকান কবি), তিনি তাঁকে নিয়ে After Lalon নামে একটি কবিতা লেখেন।


        ১৯৬৩ সালে তার ছেউড়িয়া আখড়া ঘিরে 'লোক সাহিত্য কেন্দ্র ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় 'লালন একাডেমী'। তার মৃত্যুদিনে ১৭ই অক্টোবর ' লালন স্মরণ উৎসব' - এ দেশ বিদেশের ভক্তরা এসে উপস্থিত হন। এখন উৎসব চলে পাঁচদিন ব্যাপী।


       লালনকে নিয়ে নাটক লেখা হয়েছে,


'উত্তর লালন চরিত', ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ে খুব সুনাম অর্জন করেছিল। তাকে নিয়ে উপন্যাস লেখা হয়েছে। রঞ্জিত কুমারের লেখা উপন্যাস,


'সেন বাউল রাজারাম', সুনীল গাঙ্গুলীর 'মনের মানুষ'। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উপন্যাস 'গোড়া'-র শুরু লালনের গান দিয়ে-' খাঁচার ভিতর অচিন পাখি


কেমনে আসে যায়।'


সুনির্মল বসু ' লালন ফকিরের ভিটে ' নামে একটি ছোটগল্প লিখেছন। শওকত ওসমান লালনকে নিয়ে ছোটগল্প লিখেছেন, 'দুই মুসাফির'। 


   লালনকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। ১৯৭২ সালে সৈয়দ হাসান ইমাম পরিচালনা করেন ' লালন ফকির'। 


শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৬ সালে ওই একই নামে একটি ডকুমেন্টারী ছবি করেন। তানভির মোকাম্মেল ১৯৯৬ সালে তথ্যচিত্র করেন 'লালন' নামে। এটি জাতীয় পুরস্কার পায়। ২০১০ সালে সুনীল গাঙ্গুলীর উপন্যাস অবলম্বনে গৌতম ঘোষ নির্মান করেন, 'মনের মানুষ', যা ওই বছর ' জাতীয় সেরা পুরস্কার পায়। ২০১১ সালে মুক্তি পায় হাসিবুর রেজা কল্লোল পরিচালিত ' অন্ধ নিরাঙ্গম'।


       গান্ধীজীর আগেই তিনি মহত্মা উপাধীতে ভূষিত হয়েছেন। তাকে বাউলদের জনক বলা হয়। উনিশ শতকে তিনি বাউল গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন। অধিকাংশ বাউলরাই তাকে ভক্তি শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।


তিনি ১১৬ বছর বেঁচে ছিলেন। শেষদিকে তিনি চলাফেরা করতে পারতেন না। পেটের অসুখে আর বাতের ব্যথায় ভুগতেন। তার খাদ্য ছিল শুধু দুধ। তিনি সে সময় খুব মাছ খেতে চাইতেন।


    তিনি ধর্ম ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরোধী ছিলেন। ধর্ম ও ঈশ্বর নিয়ে তাঁর গানে,নানা প্রশ্ন তোলায়, ধার্মিকরা তাঁকে ঘৃণা করতেন, কাফের ভাবতেন। সাম্প্রদাযিক ধর্মবাদীরা তাকে অসাম্প্রদায়িক বলে নিন্দা করতেন।


        তাই আজ লালন প্রাসঙ্গিকতা আরও বেশী

 করে প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে এই জটিল সময়ের প্রেক্ষাপটে।











গল্প || রীনা কে বলে দিও উৎপল দা || উৎপল মুখার্জী || Rina ke bole dio utpal da- Utpal Mukherjee || Bengali story || Short story

রীনা কে বলে দিও উৎপল দা

               উৎপল মুখার্জী


"হেরে গেছি আমি, জিতলে তুমি, হলো তো তর্কের বিনাশ" - রাগে গজরাতে গজরাতে বলতে থাকে রীনা, হারধন কে। 

সুন্দর সংসার তাদের, একটি মাত্র ছেলে, অত্যাধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যেই ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনায় ক্লাস দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। 

পাড়ায় সব চাষীভূষা, আধুনিকতা ছাপ বড়োই কম, রীনা যা হোক করে টেনে টুনে মাধ্যমিকের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিল বটে কিন্তু শিক্ষার অশিক্ষায় প্রতিশ্রুতির বন্যায় হতাশার কিশোরী, যৌবনের মাধূরী বেলা হঠাৎ এসে উপস্থিত। তারপর ই ঢাক ঢোল পিটিয়ে ,গ্ৰামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, হারাধনের বিয়ে, -কোতুলপুরে রায় বংশের তখনকার দিনে বি. এ পাশ করা চাকরি করা সাতাশ বছরের ছেলের সাথে আঠারো বছরের রুইদাস পরিবারে মদন মুচির মেয়ে রীনার সাথে বিয়ে হয়ে গেলো। 

বেশ কিছু মাস সংসার জীবন কাটতে না কাটতে শুচিবাই শাউরীর সাথে মনোমালিন্য ঘটলে, হারাধন অন্য জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করে। জাতের ধর্ম অনুযায়ী সমাজের আটপৌরে আধুনিকতার চাক চিক্কন রীনার চোখে ধরা পড়ে, স্বামীর বেতনের পয়সা জমিয়ে, সোনার একটা ২ভরির হার, দুটো বাউঠি , দুটো সোনার চুরি , দুজনের দুটো পুরুষ্ঠ আংটি গড়িয়ে, বর্তমানে ছেলের একটা রূপার তক্তি বানিয়ে তবেই হয়েছে ক্ষান্ত। 

পিছনের বৎসরের গাজনে, ইটভাটার মালিকের ঘরে কাজ করতে গিয়ে শুনেছিল, ফর্সা কাকীমা, ইট ভাটা মালিকের বৌ, রত্না দাস, তাঁর ছোট ছেলেটার মুখে ইংরেজি কথার বন্যা বাংলার ভূমে পাখ পাখালি নিঝুম হয়ে শুনছে, অপরদিকে কাকের কর্কশ স্বর ইমারতি বিল্ডিং এ, বিদ্রুপ করে জানান দিচ্ছে , এ কি হলো রে, বাংলা যাদের মাতৃভাষা, তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে পরের দেশের ভাষার তর্জনির চাপে, ফর্ সাকাকীমাকে স্তব্দ করে দিয়েছে, যার মানে বোঝায় যা ....তা... ! 

কাকীমা গর্বের সঙ্গে বলে," দেখ, ইংরেজি শিক্ষার দাম কত? 

সেই থেকে শখ করেই বাবা বাংলা মাধ্যমে শিক্ষক হলেও খোকন কে বা রীনার ছেলেকে, কলকাতার দামী ইংরেজি স্কুলে নার্সারিতে আবাসিকে ভর্তি করে এসেছে, তাই আজ তাঁর আনন্দের সীমা নেই, ছোট শিশু স্বপ্নের কলকাতা দেখবে, দেখবে ভারী যানবাহন, দেখবে মাটির তলায় রেল, আকাশে উড়োজাহাজ, বড়ো নদী, গঙ্গায় স্ট্রীমারের যাতায়াত ইত্যাদি...ইত্যাদি! 

হারাধন, আমার ই বন্ধু, এক ই স্কুলের মাস্টার। সে আমাকে সব কিছু বলে, কোন সুখ দুঃখের কথা চেপে রাখে নি, তাঁর বিয়ের কথায় বলেছিল, যে রীনা, হারাধনের ঘরের কাজের লোক , সেই রীনার উত্তেজনা র সুড়সুড়ি তে পা মেলাতে গিয়ে ই হারাধন কুপোকাত, তখনই জীবন যৌবনে জড়িয়ে পড়ে কোন এক ফাঁকা ঘরের আওয়াজ,- পেটে রীনা র আসে অপত্য। রীনা মুচিদের মেয়ে। পাড়া জানাজানি হওয়ার আগেই হারাধনের বাবা, মদনকে বলে বিয়ে দিয়ে দেয় তাঁর ছেলের সাথে, এতে পাড়ার পার্টি দাদারা কমিশন না পেয়ে গোটা গ্ৰাম কেই জানাজানি করে, বিশেষ ভাবে রীনার প্রথম ছেলে, খোকনের জন্মের ইতিহাস প্রচারের আলোকে , কোন এক অবৈধ সময়ের। খোকন কে -" বেধো "- ছেলে বলতে ও দ্বিধা রাখে নি, তাই তাড়াতাড়ি ছেলে পুর্নাঙ্গ রূপে পরিনত হওয়ার আগেই কলকাতায় স্থানান্তর। চিন্তার আধারে ই ছেলে কে গতকালই দিয়ে এসেছে টালিগঞ্জের জর্জ মেরিমাস স্কুলে। 

বাপ- মা কে ছেড়ে থাকতে হবে জেনে খুবই দুঃখে ছিল খোকন। 

দুর্গা পূজার ছুটি তে আবার তারা নিয়ে আসবে জানায়, কিন্তু তাঁর মনের অন্দরের কষ্ট সে ছাড়া কে জানবে? 

প্রায় একমাস হয়ে গেল, প্রতি পনের দিন অন্তর হারাধন কলকাতা যাই, মিশনে দেখে বেশ তাঁর ছেলে সবার সাথে মানিয়ে নিয়েছে, শুধুমাত্র তাঁরাই, রীনা- হারাধন তাদের ঘরে দুশ্চিন্তা ভোগ করে। একদিকে সংসারে উপদেষ্টা র অভাব, হারাধনের বাবা -মা কাছে থাকতেও ভ্রুনাক্ষরে খবর নেয় না, অপর দিকে রীনার বাক্যবাণে কেউ তাদের কাছে আসতে পারে না! গোটা গ্ৰামের মানুষ হারাধন কে স্বার্থন্বেষী ছেলে বলে। 

সেদিন সোমবার, হারাধন স্কুলে, হঠাৎ কলকাতা থেকে ফোন আসে, "আপনার ছেলের রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে", - তাড়াতাড়ি আসবার চেষ্টা করুন, ভালো আছে চিন্তা করবেন না "! 

হারাধন শুনেই চমকে উঠে, বাড়ি যাবার সময় না হলে ওখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে টালিগঞ্জের সেই বিশেষ ঠিকানা জর্জ মেরিমাস বিদ্যালয়ের দিকে প্রস্থান করে, পরে সে আমাকে জানায়, "খোকন গাড়ি চাপায় মারা গেছে, পোস্টমর্টেমে চলে গেছে, রীনা কে বলে দিও, উৎপল দা....।

গল্প || রক্ত || প্রদীপ সেনগুপ্ত || Rokto - Prodip sengupta || Bengali story || Short story

 রক্ত

প্রদীপ সেনগুপ্ত 



হারু মন্ডলের আদি বাড়ি কোথায় ছিল কেউ জানে না, তবে হারু মন্ডলের বাপ গোসাবায় অনেকটা জমি কিনে বাড়ি, পুকুর সবই করেছিল। সেই বাড়িতে এখন শুধু হারু মন্ডলই থাকে, সাথে গোলক দাস - হারু মন্ডলের খাস লোক। গোলকের বয়স আশি পার করলে কি হবে, গায়ে এখনো বেশ শক্তি ধরে। কত্তা হারু মন্ডলও একশ' ছুঁই ছুঁই। 

হারু মন্ডলের তিন ছেলের একজনও বেঁচে নেই। সবাই কেমন ষাট পার করার আগেই চলে গেল। অথচ এই বংশে হারু মন্ডল পর্যন্ত সবাই তো একশ ছুঁয়ে গেছে। হারু মন্ডলের বাপ না কি একশ' পাঁচ বছর বেঁচে ছিল। ওর দুই ভাই পঁচা নব্বই পার করে গেছে। শুধু ছোট ভাইটার খবর জানা নেই। ওকে বাপে ত্যজ্য পুত্তুর করেছিল। আসল কথাটাই তো বলাহয় নি, মন্ডলদের ব্যবসা ছিল চুরি করা। হারু মন্ডলের ছোট ভাই বেঁকে বসেছিল চুরি করবে না বলে। তার বাপ তাকে জুতো পেটা করে তাড়িয়েছিল। তারপর সেই ছেলের কোন হদিস পাওয়া যায় নি। শোনা যায়, কলকাতায় গিয়ে নাকি স্বদেশীদের দলে নাম লিখিয়েছিল। 

ছেলেটার নাম ছিল পরী। মেয়েদের মত না কি দেখতে ছিল ছোট বেলায়! 

সেই ছেলেই ' চুরি করতে পারব না ' - বলে বেঁকে বসেছিল বলে বাড়িতে জায়গা হয় নি। 

হারু মন্ডল তার খাস লোক গোলককে নিয়ে ভালোই আছে। তার বংশধরেরা আর কেউ জাত ব্যবসায় থাকে নি। এদিক ওদিক মিলিয়ে সাত নাতি আর একটি নাতনি, সবার কোলকাতাতেই বাস , তবে তারা কিন্তু গোসাবার বাড়িতে মাঝে মধ্যেই বেড়াতে আসে। গোলক একদিন বলেছিল, 

' কত্তা, আপনার নাতি নাতনি কিন্তু আপনার খোঁজ খবর নেয়। '

হারু মন্ডল হাসে, বলে -

' আমার খোঁজ নিতে থোড়াই আসে, ওরা জানে আমার কাছে এমন একখান বস্তু আছে - যা' সাত রাজার ধনের মত।'

গোলক হাসে, 

' সেটা ওদের দিয়ে দিলেই হয়, সবাই সমান ভাগ করে নি তো। '

হারু মন্ডল শুকনো হাসে, 

' সেই অধম্ম আমি করতে পারব না রে। আমি খবর পেয়েছি, আমার ভাই পরীর ছেলে আছে - নাতি আছে। ওদেরও তো দাবি আছে জিনিষটায়। এরা হাতে পেলে - তাদের ভাগ্যে কিচ্ছুটি জুটবে না। তবে, এ' বাড়ি,জমি জমা আমি রাখব না। বেঁচে দিলে অনেক টাকা পাব। তারপর সেই টাকায় কোলকাতায় একটা ছোট বাড়ি কিনে বাকি টাকার সুদে চলে যাবে আমার। তারপর মরলে পরে সেই টাকা ওরা ভাগ করে নেবে। শুধু দুই ভাগ তোর কাছে থাকবে। পরীর ছেলে বা নাতি - কেউ এলে দিয়ে দিবি। 

সে'দিন রাতে বেশ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হঠাৎ সদর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। গোলক দৌঁড়ে দরজা খুলতেই দেখে, একজন অল্প বয়সী ছেলে - ভদ্রলোকের ছেলে বলেই মনে হল। ছেলেটা কাচুমাচু হয়ে বলল, 

' ওষুধ ফেরি করি। বাজারের কাছে ডাক্তারবাবু কাছে এসেছিলাম, দেখি ডাক্তারখানা বন্ধ - আর বৃষ্টিটাও নেমে এল... '

গোলক বলল, 

' ঠিক আছে, ভিতরে বস। বৃষ্টি ধরলে যেও খন। '

হারু মন্ডল গোলককে জিজ্ঞাসা করল, 

' কে এল এই বৃষ্টি বাদলায়? '

গোলক বলল, 

' কোন ভদ্রলোকের ছেলে মনে হল কত্তা, চাঁদপনা মুখ - ওষুধের কারবারি। বাদলায় আটকে গেছে। '

হারু মন্ডল বলল, 

' এই রাতে কোথায় যাবে আর, খাবারের ব্যবস্থা কর। '

একই সাথে খেতে বসল হারু মন্ডল ছেলেটার সাথে। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে কত্তা একটু উন্নাসিক। রুচিমত খাবার না হলে তার চলে না। গরম খিঁচুরি আর নানাবিধ ভাজা সহযোগে রাতের খাওয়া শেষ হল। হারু মন্ডল ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করল, 

' বাছার নামটি তো জানা হল না! '

ছেলেটি বলল, 

' আজ্ঞে, আমার নাম পরীক্ষিত নস্কর। '

হারু মন্ডল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছিল ছেলেটিকে। এবার বলল, 

' এবার শুতে যাও, সকালে জল খাবার খেয়ে যেও। '

রাত গভীর হতেই পরীক্ষিত বুড়ো বট গাছটার তলে একটু খুঁড়তেই বেরিয়ে এল সেই ছোট্ট বাক্স। সাবধানে ধরে উঠে দাঁড়াতেই বুঝতে পারল পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে। হারু মন্ডলের কন্ঠস্বর শুনতে পেল, 

' যাক, এতদিনের অপেক্ষা সার্থক হল। '

পরীক্ষিত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল। 

' কি করে বুঝলে বাক্সটা ওখানেই আছে? '

পরীক্ষিত মাথা নিচু করেই উত্তর দিল। 

' ঠাকুর্দা বলেছিলেন, আপনি আপনার গোপন যা কিছু বটগাছের তলাতেই লুকিয়ে রাখতেন, তাই.... '

হা হা করে হেসে উঠল হারু মন্ডল, ' 'তোকে আমি কাল রাতেই চিনেছি, একদম আমাদের পরীর মুখ বসানো। শোন, কাল সকাল হলেই কাকপক্ষী ওঠার আগেই চলে যাবি। আর যেটা পেলি - সেটা তোর। পরীর খবর কি রে?' 

' ঠাকুর্দাদা তো দু' বছর আগেই মারা গেছেন আর বাবাও গত বছর চলে গেলেন। '

হারু মন্ডল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, 

' বে' থা করেছিস? '

পরীক্ষিত মাথা নিচু করে বলল,

'আজ্ঞে না। '

পরদিন সকালে হারু মন্ডল যখন ঘুমিয়ে তখন পরীক্ষিত বড় ঠাকুর্দার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেই হারু মন্ডল বলল, 

' জেগেই 

কবিতা || ময়লার সাথে যাদের আবাস || পাভেল রহমান || Moilar sathe jader abas - Pavel Rahaman || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 ময়লার সাথে যাদের আবাস

                  পাভেল রহমান




ময়লার সাথে যাদের আবাস, তাহাদের কেন করো ঘৃণা!

বিবেকের কাছে করো প্রশ্ন ইহা উচিত কিনা।

ময়লার সাথে যাদের আবাস

তাহারাও ছড়াবে সুবাস

পেলে একটি সুযোগ – ইহা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

যারা সংগ্রহ করে বিষ্ঠা,

তাহারাও যদি রাখে নিষ্ঠা

বড় সুকর্ম করিবারে, তবে তাহারাও হবে বড়

-বন্ধু, আমার এই উক্তিটি খন্ডাতে কি পারো?





কবিতা || অদেখা কোনো ঠিকানায় || পাপু মজুমদার || Odekha kono Thikanai || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 অদেখা কোনো ঠিকানায়

            পাপু মজুমদার


অসহায় মূখগুলো

কথা বলতে গিয়ে যেন থমকে গেছে ! 

ঐ দূরে অপ্রাপ্তির গল্প নিয়ে মিছিল জমেছে

গাছেরা অধিকার চাইছে, 

গরীব মানুষগুলো চাইছে ঘাম ঝরাতে

আর কিছু ভরসা পেতে

সবাই যখন

একথা সেকথা বলছে

সময়ের পাখিগুলো

কোথায় যেন স্বেচ্ছায় হারিয়ে গেছে, 

যেখানে স্বপ্ন দেখা পাপ

জীবনের মানেই যেখানে অভিশাপ

সেরকম অদেখা কোনো ঠিকানায়। 

কবিতা || ভাস্কর || গোবিন্দ মোদক || Vaskar - Gobinda modak || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 ভাস্কর 

গোবিন্দ মোদক 



ছেনি হাতুড়ি হাতে 


দাঁড়িয়ে আছেন রামকিঙ্কর,


সামনে দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড়,


কঠিন থেকে কঠিনতম চূড়াময় ভাস্কর্য 


তাকিয়ে থাকে তাঁর দিকে,


তাঁর পায়ের কাছে এক টুকরো আগ্নেয় শিলা 


অপেক্ষা করে থাকে 


রূপ থেকে অরূপের প্রতীক্ষায় ....



বাতাস হাঁক দিয়ে ডাকে, বলে —


ওহে রামকিঙ্কর! কতো আর ভাববে! 


রামকিঙ্কর ছেনি হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন,


পায়ের কাছে রূপান্তরিত শিলাখণ্ড...


নাক... চোখ... মুখ... বুক... নিতম্ব... 


শিরা-উপশিরা... বিভঙ্গ ...


একসময় ভাস্কর্য কথা বলে ওঠে... 


ঘাড় ফেরায়... উষ্ণতা ছড়ায়...



রামকিঙ্কর হাতুড়ি নামিয়ে 


কপালের ঘাম মোছেন;


আর, একটা প্রিয় রৌদ্র হাত 


তাঁর দিকে তুলে ধরে অভয়মুদ্রা।

কবিতা || ঝড় তুফান || আনন্দ গোপাল গরাই || jhar Tufan - Ananda Gopal gorai || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 ঝড় তুফান

আনন্দ গোপাল গরাই



এমন একটা ঝড় উঠুক

যাতে উড়ে চলে যায় অভয়ার আতঙ্ক

কামদুনির কদর্যতা

মণিপুরের বীভৎসতা

মালদহের লজ্জা! 

এমন একটা তুফান উঠুক

যাতে ধুয়ে চলে যায়

কামুকের কদর্য লালসা

পুরুষের বিকৃত যৌনতা

ক্ষমতার অন্ধ মাদকতা

অত্যাচারির আদিম বর্বরতা! 


সেই ঝড় তুফানের শেষে

মাটির বুকে জেগে থাকবে

ভালোবাসার পলি

সহিষ্ণুতার অঙ্কুর

প্রেম প্রীতি স্নেহ মমতার


একরাশ নির্মল বাতাস! 

কবিতা || যমের হাত ধরে প্রেম || মিঠু বিশ্বাস || Jomer hat dhore prem - Mithu Biswas || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 যমের হাত ধরে প্রেম

           মিঠু বিশ্বাস



ছুটে এসে বসল শব্দ শব্দনা গরম রক্ত

তোর পাশ থেকে এলে পর পুরুষের গন্ধ ।



ফুল ফোটার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে

স্মৃতি কি এতই হিংসুটে 

তোর স্বপ্ন দেখে কষ্ট উঠে বুকে ।



ঝড়ে রক্তাক্ত শহর, কান্না বোঝাই করা জাহাজ ভেসে উঠে

জাতীয় পতাকা শুধু ঈশ্বর খুঁজে উড়ে ।



খুলে গেছে ফুটপাত ল্যাম্পপোস্টের নিচে ক্ষুধার্ত যৌনকর্মীর হাট স্বপ্ন দেখে ভারত স্বচ্ছ ভোটার কার্ড। 



শ্মশানের কালো ধোঁয়া অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে

আমার মৃত্যু দেহ কবে থেকে যে পড়ে আছে।



প্রেম যমের হাত ধরে ছুটে আসে স্টেশন

 মানুষ সন্দেহের হাত ধরে পড়ে থাকে রেললাইনে।





কবিতা || তুমি স্থিতধি , তুমি নির্বিকার || অসীম কুমার সমাদ্দার || Tumi sthiodi, tumi nirbikar || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

  তুমি স্থিতধি , তুমি নির্বিকার

                 অসীম কুমার সমাদ্দার



তুমি হেঁটে চলেছো অজানা পথ দিয়ে নীরবিচ্ছিন্নভাবে

সৃষ্টির ঊষাকাল থেকে নৈবেদ্য সাজিয়ে , কখনো বাঁকা পথে বা দুর্গম সমান্তরালে অদৃশ্য শক্তি ভর করে

 কখনো আলিঙ্গন করেছো নিদাঘ প্রকৃতি অকুতভয়ে

তৃষ্ণায় কাতর হলেও মেলেনি শান্তিবারি বহুদিন

 অভিযোগ নৈব নৈব চ ,শুধু যন্ত্রনা বয়ে চলেছো আজও

ডাইন অপবাদ দিল কয়েকজন , নির্দেশ দিয়ে যথোপযুক্ত শাস্তির ।

মাংস খুবলে নিল এক গভীর রাতে , শেষে দেহটাকেও জ্বালায় জনসমক্ষে ।

ঠিক কিছুদিন আগে এই তোমাকেই মেরেছিল পাথরের আঘাতে , উপহার দিল অভুক্ত শকুনকে

সকলেই আমরা ছিলাম নীরব দর্শক , যারা ভোজনে শুধু মত্ত তোমার নগ্ন দেহটাকে ।

  ব্যত্যয় বলতে কিছু অবলা জীব ভয়ে , আতঙ্কে পালিয়ে গেলো , উড়ে গেলো কতগুলো পাখি অদ্ভুত শব্দ করে 

তুমি অগুনতিবার বীরগতি প্রাপ্ত হলে শেষ দেখে ,

পরক্ষনে বেঁচে ওঠার উদগ্র বাসনা জন্মালো ফিনিক্স পাখির চিতা ছুঁয়ে ,

 আসলে এই তুমি হতে কোটি কোটি তুমি হও সবকালে ও সকলের প্রয়োজনে ,

ভালোবাসা আর ভালোলাগা খুলে দিল নিষিদ্ধ জানালা বিসর্জনের ভ্রূকুটি উড়িয়ে তোমার পাদপদ্মে

 ধুয়ে গেলো ধরিত্রীর সব প্রাগৈতিহাসিক জঞ্জাল তোমার স্পর্শে ,

  আবার চোখের পলকে রক্তে ভেসে গেলো তোমার উন্মুক্ত দেহ এই চরাচরে ।

কিন্তু তুমি স্থিতধি , নির্বিকার হয়ে গেয়ে চলেছো জীবনের গান প্রতি মুহূর্তে।



Thursday, August 31, 2023

কবিতা || মন বিবাগী || দীপঙ্কর বেরা || Mon Bibagi - Dipankar bera || Bengali Poem || বাংলা কবিতা

 মন বিবাগী

দীপঙ্কর বেরা


বাতাসে তার উড়নচণ্ডী মেঘ বিকেলের চলাফেরা

বিবাগী হয় ঘর ছাড়া সুখ ফেরারি মন স্বপ্ন ঘেরা।

আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তালে চর জেগেছে বুকের মাঝে

রঙ জীবনের এইটুকু পথ খুঁজছে পীরিত সকাল সাঁঝে।

ও পাখি তোর বাসা ফেলে চললি কোথায় দূর সীমানা

আকাশ বড়ো মাটির মোহ করছে কে আর নিষেধ মানা?

খুব কাছে নয় পথ চলা পথ লক্ষ্য পূরণ যাওয়া আসা

বিচিত্র তার রূপ গভীরে আছে যত ভালোবাসা।

আগস্ট সংখ্যা ২০২৩ || August Sonkha 2023 || আগস্ট সংখ্যার সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র

 



সম্পাদকীয়:


চেতনার অপর প্রান্তে যে সুখ আছে, যে দুঃখ আছে তা শুধু মাত্র একজন সাহিত্যিকই অনুভব করতে পারেন।

প্রাণ সখীর সম্ভাষণ কিংবা চাতকের চাহনি এই অনুভবটিও সাহিত্যিকই করতে পারে। প্রাণ চঞ্চল হৃদয়ে দুদন্ড সময় দিন সাহিত্য চর্চাতে। ভালোবাসা নিয়ে গড়ে উঠুক নতুন ভাষার উন্মাদনা। 

সাহিত্য চর্চা করুন। সাহিত্যের পাশে থাকুন। সাহিত্যকে ভালোবাসুন। আপনাদের সকলের প্রিয় পত্রিকা ওয়ার্ল্ড সাহিত্য আড্ডা ব্লগ ম্যাগাজিন এর মধ্যে সমস্ত রস লুকিয়ে আছে। এই রস পেতে হলে গভীর এ যেতে হবে। 
আমাদের পত্রিকা পড়ুন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পেতে থাকুন সাহিত্য রস।

                                    ধন্যবাদান্তে
    World Sahitya Adda সম্পাদকীয় বিভাগ 

_____________________________________


আগস্ট সংখ্যার সূচিপত্র:

কবিতা - দীপঙ্কর বেরা, অসীম কুমার সমাদ্দার, মিঠু বিশ্বাস, আনন্দ গোপাল গড়াই, গোবিন্দ মোদক, পাপু মজুমদার, পাভেল রহমান।


গল্প- প্রদীপ সেনগুপ্ত, উৎপল মুখার্জি।


প্রবন্ধ - শংকর ব্রহ্ম

________________________________________
বি.দ্র. :- সকল কবি ও লেখক তাদের লেখা এই সংখ্যাতে থাকছে তারা প্রত্যেকে এই হোম পেজে নীচের দিকে যান তারপর 'view web virsion' এ ক্লিক করুন । তারপর ঐ মেন পেজে ডানদিকে সূচিপত্রের লিস্ট পাবেন। সেই লিস্ট নিজের নামে ক্লিক করলেই লেখা গুলো দেখতে পাবেন। সেটাই আপনার লেখার লিংক। এই নিয়ম শুধু মাত্র স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য। যারা কম্পিউটার এ খুলবেন তারা সরাসরি মেন পেজ পাবেন সেখানে সূচিপত্র পাবেন।

Friday, August 25, 2023

ঝিঙে আলু পোস্ত' রান্নার প্রনালী || কি ভাবে রান্না করবেন 'ঝিঙে আলু পোস্ত'? || 'Jhinge Aloo Posto' Cooked by Joyiti Banerjee. || Recipes || Bengali Recipe || রেসিপি || বাঙালি রান্না বান্না


 


ঝিঙে আলু পোস্ত' রান্নার প্রনালী। কি ভাবে রান্না করবেন 'ঝিঙে আলু পোস্ত'। 'Jhinge Aloo Posto' Cooked by Joyiti Banerjee.


বিভাগ - রান্নাটাও শিল্প

কলমে জয়তী বন্দ্যোপাধ্যায় 



উপকরন: ঝিঙে 500 গ্ৰাম, আলু 300 গ্ৰাম, পোস্ত বাটা 2 টেবিল চামচ, সরষে বাটা 1টেবিল চামচ, কাঁচা লঙ্কা 6টি, লবন, চিনি, হলুদ গুঁড়ো, কালো জিরে, জল পরিমাণ মতো।


প্রনালীঃ ঝিঙে, আলু ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ধুয়ে নিতে হবে। রান্নার আগে সরষে ও পোস্ত এক সাথে দুটি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে বেটে নিন,

কড়াইয়ে সরষের তেল দিয়ে, তেল গরম হয়ে আসলে সামান্য পরিমাণ কালো জিরে ও পরিমাণ মতো কাঁচা লঙ্কা দিয়ে, কেটে রাখা আলু গরম তেলে ছেড়ে দিয়ে হালকা করে ভেজে নিয়ে তারপর টুকরো করা ঝিঙে কড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে ভাজা আলুর সাথে ঝিঙে হালকা করে ভেজে নিন। 

তারপর লবন, হলুদ গুঁড়ো, সরষে ও পোস্ত বাটার সাথে সামান্য জল মিশিয়ে একটি মসলার মিশ্রন তৈরী করে, ঝিঙে ও আলুর মধ্যে মসলার মিশ্রন টি দিয়ে কম আঁচে ভালো করে কষিয়ে নিন।

এরপর এক চা চামচ চিনি ও সামান্য পরিমাণ জল দিতে হবে,জল শুকিয়ে আসলে রান্নাটি নামিয়ে নিন, পরিবারের সকলকে গরম ভাতের সঙ্গে 'ঝিঙে আলু পোস্ত' পরিবেশন করে উপভোগ করুন।


ঝিঙের উপকারীতা : পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়ে নিয়মিত ঝিঙে খেলে এবং খাবারও সহজে হজম হয়। ঝিঙে সবজিতে পেপটাইড এনজাইম রক্তের চিনির পরিমাণ কমায় এবং রক্তের ইনসুলিনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী। সর্দি কাশির চিকিৎসায় ঝিঙে খেলে উপকার মেলে। এটি সাইনাসের সমস্যা,বাতের ব্যাথা,গর্থবতী মহিলা ও কিডনির পাথর অপসারণের জন্য উপকারী। এটি ওজন হ্রাস, কোষ্ঠকাঠিন্যর জন্য খুবই উপকারী, তাছাড়া ঝিঙে শরীরকে ডিটক্সিফাই করে।