আমার প্রেম
কাজল মৈত্র
আমার প্রেম পরের তরে
সাম্যের গান গায়
আমার প্রেম জীবন ভরে
বিদ্বেষ বিষ নেভায়
আমার প্রেম হৃদয় জুড়ে
ভালবাসা বিলায়
আমার প্রেম রক্তের দরে
পরিশ্রমই শেখায় ।
আমার প্রেম
কাজল মৈত্র
আমার প্রেম পরের তরে
সাম্যের গান গায়
আমার প্রেম জীবন ভরে
বিদ্বেষ বিষ নেভায়
আমার প্রেম হৃদয় জুড়ে
ভালবাসা বিলায়
আমার প্রেম রক্তের দরে
পরিশ্রমই শেখায় ।
আমিই ইতিহাস
শুভজিৎ ব্যানার্জী
আমি ডাক শুনেছিলাম!
আমি পেয়েছিলাম তোমার পরিচয়,
জেনেছিলাম তোমার নিদারুণ সংগ্রামের খবর,
রেখেছিলাম তোমার ক্রুদ্ধ চোখে চোখ।
আমি ডাক শুনেছিলাম!
আমার কাছে অসম্ভবের সম্ভাব্য সতর্কতা ছিল,
আমার কাছে আরো ছিল পরাজয়ের আশংকা,
পিছু ডেকে ভয় বলেছিল আমায় শিয়রে শমন ,
মনের কোথাও হয়তো অন্ধ সাহস ছিল।
আমার কাছে অসম্ভবের সম্ভাব্য সতর্কতা ছিল!
আমার না ছিল জেতার তাগিদ না ছিল হারের ভয়,
আমি বিশ্বাসে বিশ্বাসী,
আমি প্রত্যয়ের প্রত্যাশী,
আমি গর্বিত অহংকার,
আমি আমার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী,
আমার না ছিল জেতার তাগিদ না ছিল হারের ভয়!
ইতিহাস লেখা হয়েছিল আমার জন্য,
লেখা হয়েছিল আমার প্রতিটা সংগ্রাম,
থামার আগে ভুলেছি থামতে,
শুরুর আগেই সৃষ্টি করেছি,
বোঝার আগে তত্ত্ব করেছি তৈরী,
জেতার আগেই পড়েছি জয়মাল্য,
ইতিহাস লেখা হয়েছিল আমার জন্য!
(প্রথম গুহামানবের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ)
মহা নিষ্ক্রমণ
পরাগ চৌধুরী
লোকটা আলিবাবার মতো রওনা দিয়েছিলো
স্বাধীনতার বন্ধ গুহার সামনে
চিচিং ফাঁক হাঁকতে
কিন্তু ঠিক কাশিমের মতো দেশের শরীরটা
দু'টুকরো হয়ে গেলো...
লোকটা রাতপরীর মতো বেরিয়ে প'ড়েছিলো
দেশটাকে সোনা করার
ছু মন্তরি জাদুকাঠি আনতে
কিন্তু ফুস মন্তরের অভাব না থাকায়
খাদ মিশে গেলো চাওয়া-পাওয়ায়...
মল্লার রঙের বশ্যতা
আবদুস সালাম
ঘনিষ্ঠ জীবনের সজীবতা লিখি মল্লার রঙে
অপ্রস্তুত শরীরে সোহাগের নদী টলোমলো
নিষিদ্ধ চুম্বনে সুর তোলে প্রতীক্ষার বাঁশি
অযাচিত সম্ভাবনার আলিঙ্গনে লেখা হয় প্রণয় আখ্যান
প্রাচীন ইঁদারায় কিংকর্তব্যহীন আফশোষ দেখি কাল্পনিক বলয়ে তার বিবর্ণ উচ্ছ্বাস
ভালোবাসা ভর্তি নির্বিকার স্থাপত্য কেঁপে ওঠে
বিমূর্ত মিনারের শরীরে আঁকা হয় পাল ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস
অন্তঃসারশূন্য কাঙাল বন্দরে ফোটে বাসনার ফুল
গান শোনায় অলৌকিক ভ্রমর
যাপনশৈলীর সারমর্ম খুঁজি রোমিং এরিয়াই
সুরের মোহনায় রং পাল্টায় নির্লজ্জ মিথ্যাচার
ক্ষুধার্ত ,হ্যাংলা গ্রাসে গিলে নিই বাঁধাধরা প্ররোচনা
তারপর আক্ষেপ আর অপেক্ষা স্পর্ধা দেখায়
অন্দর মহল ঘিরে বশ্যতার চক্রব্যূহ
মুক্তির নিঃশ্বাসে খসে পড়ে আস্ফালনের পোশাক
বিষন্ন ফুলে দোল খায় অবাধ্য প্রজাপতি
নীরব শহর
সোমা রায়
এই শ্রাবণের সন্ধ্যায়
তোমার শহরের মাদকতা গ্রাস করে আমায়
কত স্বপ্ন হারায় চিরন্তন নীরবতায়
আধারের ঘনঘটায় খুঁজে ফিরি তোমায়
এই শহর তুমি চিনিয়ে ছিলে আমায়
আজ এই শহরই ছিনিয়ে নিল তোমায়
অবশেষে কিছু মধুর স্মৃতি রইল পড়ে
স্মৃতির মাঝেই খুঁজিবো তোমায় বারে বারে ।
গন্তব্য আর কতদূর
সতু মালাকার
দিগ দিগন্তের অলিগলি ঘুরে ঘুরে
ক্লান্তির সুস্পষ্ট ছাপ শরীরে,
অবহেলার হাতছানিতে
বিষাদে অন্তর পুড়ে।
পিছুটান ধরে
মনের আবেগঘন অন্ধকারে,
পিছু হতে;
আওয়াজ ভেসে আসে কানেতে।
সুস্পষ্ট শুনতে পাই -
কে যেন বলে ওরে অভাগা;
ও অভাগা খানিকটা দাঁড়াও,
দাঁড়িয়ে দুদণ্ড বিশ্রাম নাও..!
মলিনতার ঘাম বেয়ে
চেতনা জাগ্রত হয় শরীরে,
আর মনে মনে ভাবতে থাকি
আর কত দূর!
কতপথ যেতে হবে ক্লান্তি পাড়ি দিয়ে।
পলকে পলকে থেমে যায় হৃৎস্পন্দন,
তপ্ত মরুর মধ্যদেশে দাঁড়িয়ে
বোধোদয় হয় এই বুঝি হবে মরণ।
গন্তব্যে পৌঁছতে লাগবে আর কতক্ষণ.!
তিস্তা তোমাকে
জয়ন্ত সাহা
ফেনা ফেনা জলরাশির চিৎকারে
বোহেমিয়ান জীবনের আস্বাদ,
আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত চেতনা
দীর্ঘ পথচলা যে এখনো বাকী।
ক্ষয়াটে চাঁদের দেশে মরুভূমি
মিশরের নীলনদের আঘ্রাণ--
পূর্ব পশ্চিম এক ক'রে দিয়ে
চাপা কান্নার মতো গোঙানি,
বেরঙা জীবনে রামধনুর ছোঁয়া
হয়তো বুজরুকি বা ভুল অনেকটাই।
পেছনে ফেরা নাই বা হ'লো জীবনে
সমুদ্রের লোনা স্বাদ চাই বারংবার,
একমুঠো রোদ্দুরকে সাক্ষী রেখে
আজ তোমাকে কথা দিলাম তিস্তা।
অন্ধকার ভাঙাচোরা পথে এলোমেলো পা
হোঁচট খেলেও মনে থাকে না হয়তো--
শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েও
তোমার মতই বয়ে চলবো
সমুদ্রের লোনা জলে একা দাঁড়িয়ে
তোমাকে সেই কথাই দিলাম তিস্তা।
বিষ্ঠার মাঝে অন্নের খোঁজ কারী
পাভেল রহমান
বিষ্ঠার মাঝে নিষ্ঠার সাথে যাহারা খোঁজে অন্ন,
আমাদের এই সমাজ মাঝারে তাহারা হয়ত ঘৃণ্য।
আমি কিন্তু তাঁদের মাঝেই দেখিয়াছি বিধাতা,
যাহারা বিষ্ঠার মাঝে অন্নের খোঁজ কর্তা।
তারাই শেখায় কিভাবে হওয়া যায় জীবন যোদ্ধা।
বিষ্ঠার মাঝে নিষ্ঠার সাথে যারা অন্নের খোঁজ কারী,
শেষ নিঃশ্বাস তক যেন গাই জয়গান তাহাদেরই।
আমার বেদনা
রূপায়ন হালদার
নও সার্বজনীন
সিক্তা পাল
ঢাকের কাঠি বোল তুলেছে
ঢ্যাঙ কুরাকুর কুর,
আয়রে তোরা সবাই ছুটে
মায়ের পুজার সুর।
মা আমাদের জগৎ জননী
দশ হাতে ধরেন অস্ত্র,
অসুর যতো করেন নিকাশি
করি পুজা গলদ-বস্ত্র।
চারটি দিনে মায়ের পুজায়
সবাই মাতে আনন্দে,
বাঁধ ডাঙা জনরাশির বন্যায়
ভাসছে নগরী স্বানন্দে।
শহর গ্রামে রকমারি প্যান্ডেলে
চোখ হচ্ছে ছানা বড়া,
জন- প্লাবন ঠেলতে ঠেলতে
হচ্ছি শুধু দিশে হারা।
আলোর রোশনাই তে মুখরিত
পথ ভূমি মাঠ প্রান্তর,
আঁধার বুঝি আজ শিহরিত
মুখ লুকাতে গুহান্তর!
মলিন মুখের শুষ্ক দৃষ্টি-ধারা
ইতি উতি কেবল চায়,
তাদের আপন নয় শালঙ্কারা
দিনান্তে 'মা কষ্ট সাজায়।
জীবন নদী অঙ্গারের পথে বায়
শারদীয়ায় শুকছে টাকা,
'তারই স্রোত যত্রতত্র ভেসে যায়
স্বপ্ন যে তার শূণ্যে ঢাকা।
চারটি দিনে বইছে কতো সম্ভার
পেসাদের অধীর অপেক্ষা,
আধা খাওয়া পরিত্যক্ত খাবার
কুড়ায় তড়া, করি 'উপেক্ষা।
দিনান্তে ঝুপরিতে সারে আহার
পরম তৃপ্তির ঢেকুর ওঠে,
সারমেয়র সাথে উচ্ছিষ্ট খাবার
ভাগে খায় হাসি ঠোঁটে।
উদরের জ্বালায় নেই তো অমিল
দুপেয়ে আর চারপেয়ে তে,
সার্বজনীন মা মানতে কষ্টে 'নীল
তাই আঁধার মন দুঃখেতে।
বৃষ্টি-বালিকা
বদরুদ্দোজা শেখু
মাঝ রাতে আজ বৃষ্টি নামলো,নামলো অঝোরে
একটু থামলো, আবার নামলো , নামলো সজোরে
গর্জন নাই বর্ষণ শুধু ঘনঘোর বরষাত
আজ শুধু ধারাপাত-- ধারাপাত সারারাত ।
বৃষ্টি-বালিকা আসে চঞ্চল মঞ্জীর চরণে
ষোড়শী যেন সে নাচে শ্যামল কোমল বরণে
কাজল সজলাকাশে চলছে চপল তার কীর্তি হাসছে নিশীথকালে তাপিত তৃষিত পৃথ্বী,
নন্দিত করি তারে বন্দিত বন্ধু সে ললনা
ওরে আজ প্রাণ খোল্ দোলা তোর আনন্দ-দোলনা
বাদলের তালে তালে সুন্দর অন্তর-বিতানে
যেন সে পরীয়া থাকে বিনিদ্র রজনী শিথানে,
শঙ্কারা শ্লথ আজ-- বিমগ্ন নিমগ্ন চেতনা
দুলে উঠে মায়াতরুর মৃদুল পৃথুল দ্যোতনা
ছলনার ছায়াতরু সেজেছে সৃষ্টির তরুতে
আজ শুধু ধারাস্নান নীরব বিবশ মরুতে
পরতে পরতে শুধু অম্লান অযুত ঝরনা
আসান ভাসান হবে আসন্ন প্রসন্ন-বরণা
বর্ষার কল্যাণে , কাঙ্ক্ষিত নিশীথ জাগো হে
মধুর মেদুর সুখ এই খুশ -নসীবের আবহে ,
বৃষ্টির মধু-ধারা সমস্ত সৃষ্টির পালিকা
হাসছে নাচছে দ্যাখো শ্যামল কাজল বালিকা ।
চিকণ আলো
মিলি দাস
স্লেট পেন্সিলে যদি ঘুণধরা বর্ণহীন
আগুনের গায়ে
আদর লিখে দিই ,
তোমার রাষ্ট্রের কোন
শিরা উপশিরাতে
কি পদ্ম ফুল জন্ম নেবে?
কৃষিকাজের পর আল্পনা আঁকি গোয়াল ঘরে,
শিকারীর রতিসুখের বিদ্রোহের পর
চিকণ আলো এসে পড়লে
তুমি হাতের তালু প্রসারিত করে বলো এই তো আমার আকাশ অঙ্গ,
বিষণ্ণতায় আলোর অভীপ্সা
বাঁচার মত অরণ্য মন,
তুমি শাপলা ফোটাও অন্ধকারে।
মহাপ্রস্থানের পথে
আনন্দ গোপাল গরাই
স্মৃতির গ্যালারি থেকে একে একে মুছে যাচ্ছে
একটা একটা করে ছবি
পোকায় কেটে দিচ্ছে বহুযত্নে সংরক্ষিত
মনের অ্যলবাম -- ধূসর বিবর্ণ সব!
দিন দিন শেষ হয়ে আসছে মগজের ব্যালান্স
কিছুদিন পরে হয়ে যাবে নিল
ফেল হবে রিচার্জও
অকেজো হয়ে যাবে ব্যাটারি
চেঞ্জ করলেও সেট হবে না পুরোনো সেটে।
ডিভাইস থেকে ডিলিট হয়ে যাবে সবকিছু
তারপর ব্রেনডেথ
আই সি ইউ-তে থেকে
আবছা আলো আঁধারে চিনে নেওয়া
মহাপ্রস্থানের পথ!