Saturday, October 28, 2023

নদীকথা - দিবাকর মণ্ডল || Nodikotha - Dibakar Mondal || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 নদীকথা

         দিবাকর মণ্ডল


আবার এলাম ফিরে নদীটির কাছে...

মজা দহ, দুই তীরে ধূপধূপি বালি

এখানেই ডুবেছিল শবরীবালার যত আশা...

সজনে ডালের মতো ভেঙেছিল কিশোরীর বুনো ভালোবাসা।

কামধেনু চরেছিল এরই দুই তীরে

আড়বাঁশি বেজেছিল ভরা জ্যোৎস্নায়

তারপর হা-রাই বলে কেঁদেছিল যশোদাদুলাল।

বনো শালিখের ঝাঁক এখানেই একদিন লীন হয়েছিল,

শাঁখচিল গেয়েছিল করুণ বেহাগ।

মাদল ধিতাং নাচে গম্ভীর সিং মুড়া নেচেছিল ছৌনাচ আসরে।

সে নদী এখন মৃত, মমিময়...

মিশরীয় সভ্যতাই জানে।

মাঝদরিয়া - রথীন পার্থ মণ্ডল || Majhdoria - Rothin Partha mondal || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 মাঝদরিয়া

      রথীন পার্থ মণ্ডল



রাত্রির বুক চিরে নেমে আসে মেঘ

তোমার ভালোবাসা মাখা হাতের স্পর্শে

একদিন ভেঙেছিল ঘুম।

ঘুম ঘুম চোখে দেখেছিলাম 

তারাদের আনাগোনা,

তুমি তো ছিলে আমারই পাশে

হাতে হাত রেখে... 

দমকা হাওয়ায় নিভে গেল সব

অন্ধকারে তোমার হাত হাতড়াতে হাতড়াতে 

মাঝদরিয়ায় ভেসে চলি

কিনারার খোঁজে।

ভাঙাচোরা কবিতা - পলাশ পোড়েল || Vanga chora Kobita - Palash Porel || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 ভাঙাচোরা কবিতা

        পলাশ পোড়েল


বাউণ্ডুলে ভালোবাসা নেমে আসে একা একা

ভিজে যায় রোজ রোজ কিশোরী শ্রাবণে, 

বিষাদ এল অজানা দু'মুঠো বালি উড়িয়ে

বড় বেশি অভিমান রেখে যায় কথোপকথনে। 


অভিমানী চোখ মাঝে মাঝে কুল ভাসায়

উজানে একলা চিনেছি সবুজ বন, 

ভাঙে শস্য ভরা মাটি..... অবুঝ মন

ক্ষয়ে ক্ষয়ে পাল্টে যায় স্বপ্ন- বোনা জীবন। 


কখনো জেগে থাকে স্মৃতি মাটির বুকে

সোঁদা সোঁদা গন্ধ ছুঁয়ে জাগে জোছনা রাত, 

শুধু একবার দাঁড়াও আমাদের স্বজন ডাঙায়

দেখো ফুলে - ফলে - ফসলে ভরে যাবে হাত। 

আমার প্রেম - কাজল মৈত্র || Amar Prem - Kajal maitra || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 আমার প্রেম

     কাজল মৈত্র 


আমার প্রেম পরের তরে

সাম্যের গান গায়

আমার প্রেম জীবন ভরে

বিদ্বেষ বিষ নেভায়

আমার প্রেম হৃদয় জুড়ে

ভালবাসা বিলায়

আমার প্রেম রক্তের দরে

পরিশ্রমই শেখায় ।

আমিই ইতিহাস - শুভজিৎ ব্যানার্জী || Amiy Itihas - Subhajit Banerjee || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 আমিই ইতিহাস

       শুভজিৎ ব্যানার্জী



আমি ডাক শুনেছিলাম!

আমি পেয়েছিলাম তোমার পরিচয়, 

জেনেছিলাম তোমার নিদারুণ সংগ্রামের খবর,

রেখেছিলাম তোমার ক্রুদ্ধ চোখে চোখ।

আমি ডাক শুনেছিলাম!


আমার কাছে অসম্ভবের সম্ভাব্য সতর্কতা ছিল,

আমার কাছে আরো ছিল পরাজয়ের আশংকা,

পিছু ডেকে ভয় বলেছিল আমায় শিয়রে শমন ,

মনের কোথাও হয়তো অন্ধ সাহস ছিল।

আমার কাছে অসম্ভবের সম্ভাব্য সতর্কতা ছিল!


আমার না ছিল জেতার তাগিদ না ছিল হারের ভয়, 

আমি বিশ্বাসে বিশ্বাসী, 

আমি প্রত্যয়ের প্রত্যাশী,

আমি গর্বিত অহংকার,

আমি আমার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী,

আমার না ছিল জেতার তাগিদ না ছিল হারের ভয়!


ইতিহাস লেখা হয়েছিল আমার জন্য,

লেখা হয়েছিল আমার প্রতিটা সংগ্রাম,

থামার আগে ভুলেছি থামতে,

শুরুর আগেই সৃষ্টি করেছি,

বোঝার আগে তত্ত্ব করেছি তৈরী,

জেতার আগেই পড়েছি জয়মাল্য,

ইতিহাস লেখা হয়েছিল আমার জন্য!



(প্রথম গুহামানবের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ)



মহা নিষ্ক্রমণ - পরাগ চৌধুরী || Moha Niskraman - Parag Choudhary || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 মহা নিষ্ক্রমণ

    পরাগ চৌধুরী

       


লোকটা আলিবাবার মতো রওনা দিয়েছিলো

স্বাধীনতার বন্ধ গুহার সামনে

চিচিং ফাঁক হাঁকতে

কিন্তু ঠিক কাশিমের মতো দেশের শরীরটা

দু'টুকরো হয়ে গেলো...


লোকটা রাতপরীর মতো বেরিয়ে প'ড়েছিলো

দেশটাকে সোনা করার

ছু মন্তরি জাদুকাঠি আনতে

কিন্তু ফুস মন্তরের অভাব না থাকায়

খাদ মিশে গেলো চাওয়া-পাওয়ায়...


                               

মল্লার রঙের বশ্যতা - আবদুস সালাম || Mollar Ronger Bossata || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 মল্লার রঙের বশ্যতা

     আবদুস সালাম



ঘনিষ্ঠ জীবনের সজীবতা লিখি মল্লার রঙে 

অপ্রস্তুত শরীরে সোহাগের নদী টলোমলো 

 নিষিদ্ধ চুম্বনে সুর তোলে প্রতীক্ষার বাঁশি    

  অযাচিত সম্ভাবনার আলিঙ্গনে লেখা হয় প্রণয় আখ্যান


প্রাচীন ইঁদারায় কিংকর্তব্যহীন আফশোষ দেখি কাল্পনিক বলয়ে তার বিবর্ণ উচ্ছ্বাস

ভালোবাসা ভর্তি নির্বিকার স্থাপত্য কেঁপে ওঠে

  বিমূর্ত মিনারের শরীরে আঁকা হয় পাল ভাঙ্গা উচ্ছ্বাস


অন্তঃসারশূন্য কাঙাল বন্দরে ফোটে বাসনার ফুল

গান শোনায় অলৌকিক ভ্রমর    

যাপনশৈলীর সারমর্ম খুঁজি রোমিং এরিয়াই

সুরের মোহনায় রং পাল্টায় নির্লজ্জ মিথ্যাচার


ক্ষুধার্ত ,হ্যাংলা গ্রাসে গিলে নিই বাঁধাধরা প্ররোচনা

তারপর আক্ষেপ আর অপেক্ষা স্পর্ধা দেখায়

অন্দর মহল ঘিরে বশ্যতার চক্রব্যূহ


মুক্তির নিঃশ্বাসে খসে পড়ে আস্ফালনের পোশাক

বিষন্ন ফুলে দোল খায় অবাধ্য প্রজাপতি

নীরব শহর - সোমা রায় || Nirab Sahar - Soma Ray || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 নীরব শহর 

            সোমা রায় 



এই শ্রাবণের সন্ধ্যায়

তোমার শহরের মাদকতা গ্রাস করে আমায়

কত স্বপ্ন হারায় চিরন্তন নীরবতায়

আধারের ঘনঘটায় খুঁজে ফিরি তোমায় 

এই শহর তুমি চিনিয়ে ছিলে আমায় 

আজ এই শহরই ছিনিয়ে নিল তোমায়

 অবশেষে কিছু মধুর স্মৃতি রইল পড়ে 

স্মৃতির মাঝেই খুঁজিবো তোমায় বারে বারে ।

গন্তব্য আর কতদূর - সতু মালাকার || Gontobbo arr koto dure - Satu malakar || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

  গন্তব্য আর কতদূর

     সতু মালাকার

           


দিগ দিগন্তের অলিগলি ঘুরে ঘুরে 

ক্লান্তির সুস্পষ্ট ছাপ শরীরে,

অবহেলার হাতছানিতে

বিষাদে অন্তর পুড়ে।


পিছুটান ধরে 

মনের আবেগঘন অন্ধকারে,

পিছু হতে;

আওয়াজ ভেসে আসে কানেতে।


সুস্পষ্ট শুনতে পাই -

কে যেন বলে ওরে অভাগা; 

ও অভাগা খানিকটা দাঁড়াও,

দাঁড়িয়ে দুদণ্ড বিশ্রাম নাও..!


মলিনতার ঘাম বেয়ে 

চেতনা জাগ্রত হয় শরীরে,

আর মনে মনে ভাবতে থাকি

আর কত দূর! 

কতপথ যেতে হবে ক্লান্তি পাড়ি দিয়ে।


পলকে পলকে থেমে যায় হৃৎস্পন্দন,

তপ্ত মরুর মধ‍্যদেশে দাঁড়িয়ে 

বোধোদয় হয় এই বুঝি হবে মরণ।

গন্তব্যে পৌঁছতে লাগবে আর কতক্ষণ.!

তিস্তা তোমাকে - জয়ন্ত সাহা || Tista tomake - Jayanta Saha || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 তিস্তা তোমাকে

         জয়ন্ত সাহা


ফেনা ফেনা জলরাশির চিৎকারে

বোহেমিয়ান জীবনের আস্বাদ,

আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত চেতনা

দীর্ঘ পথচলা যে এখনো বাকী।

ক্ষয়াটে চাঁদের দেশে মরুভূমি

মিশরের নীলনদের আঘ্রাণ--

পূর্ব পশ্চিম এক ক'রে দিয়ে

চাপা কান্নার মতো গোঙানি,

বেরঙা জীবনে রামধনুর ছোঁয়া

হয়তো বুজরুকি বা ভুল অনেকটাই।

পেছনে ফেরা নাই বা হ'লো জীবনে

সমুদ্রের লোনা স্বাদ চাই বারংবার,

একমুঠো রোদ্দুরকে সাক্ষী রেখে

আজ তোমাকে কথা দিলাম তিস্তা।

অন্ধকার ভাঙাচোরা পথে এলোমেলো পা

হোঁচট খেলেও মনে থাকে না হয়তো--

শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েও

তোমার মতই বয়ে চলবো

সমুদ্রের লোনা জলে একা দাঁড়িয়ে

তোমাকে সেই কথাই দিলাম তিস্তা।

বিষ্ঠার মাঝে অন্নের খোঁজ কারী - পাভেল রহমান || Bisthar majhe Onner kojh Kari - Pavel Rahaman || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 বিষ্ঠার মাঝে অন্নের খোঁজ কারী

                পাভেল রহমান 



বিষ্ঠার মাঝে নিষ্ঠার সাথে যাহারা খোঁজে অন্ন,

আমাদের এই সমাজ মাঝারে তাহারা হয়ত ঘৃণ্য।

আমি কিন্তু তাঁদের মাঝেই দেখিয়াছি বিধাতা,

যাহারা বিষ্ঠার মাঝে অন্নের খোঁজ কর্তা।

তারাই শেখায় কিভাবে হওয়া যায় জীবন যোদ্ধা।

বিষ্ঠার মাঝে নিষ্ঠার সাথে যারা অন্নের খোঁজ কারী,

শেষ নিঃশ্বাস তক যেন গাই জয়গান তাহাদেরই।



আমার বেদনা - রূপায়ন হালদার || Amar bedona - Rupayan Haldar || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 আমার বেদনা 

       রূপায়ন হালদার 


আমার বেদনা নিরপরাধ,
আমার বেদনা প্রতারকের কাছে উল্লাসের হাসি,
কিংবা মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অমানুষিক মনের প্রতিচ্ছবি।

চোখের জল মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির মতো সমুদ্র নয়,
মনের অব্যক্ত যন্ত্রণা;
শিকড় উপরে যাওয়া গাছের সংকেত হীন যন্ত্রনার মতো নীরব।

আমার ব্যর্থতা----
আমি আমার বেদনা নিয়ে গুমোট বেঁধে থাকি;
আকাশের কালো ধূসর মেঘের মতো রূপ নিয়ে।
আর চেপে রাখতে না পারলে চোখে জল আসে,
তখন আধমরা শালিকের মতো ছটফট করি।
কাউকে মন খুলে বলতেও পারিনা।
আমার বেদনা নীরবে ক্রন্দনরতা মা'র মতো নিশ্চুপ।

তবে এ বাস্তব সত্য কে মানতে হবে;
সে যত' লোহার মতো কঠিন হোক না কেনো।

চিরদিন বসে থাকি;
অপ্রাণ পাথরের মতো ভারী হয়ে।
আর কেবল আত্মবিশ্লেষন করি---
প্রেমার্ত মনে বেদনার ছাপ কেন প্রস্ফুটিত হল;
উৎসবের বদলে দুঃখের মতো মূর্তি নিয়ে।

Friday, October 27, 2023

নও সার্বজনীন - সিক্তা পাল || Nou Sarbojanin - Sickta pal || Kabita || কবিতা || Bengali Poems || Bengali poetry

 নও সার্বজনীন 

      সিক্তা পাল 


ঢাকের কাঠি বোল তুলেছে

     ঢ্যাঙ কুরাকুর কুর,

আয়রে তোরা সবাই ছুটে

     মায়ের পুজার সুর।


মা আমাদের জগৎ জননী

     দশ হাতে ধরেন অস্ত্র,

অসুর যতো করেন নিকাশি 

     করি পুজা গলদ-বস্ত্র।


চারটি দিনে মায়ের পুজায় 

     সবাই মাতে আনন্দে,

বাঁধ ডাঙা জনরাশির বন্যায়

     ভাসছে নগরী স্বানন্দে।


শহর গ্রামে রকমারি প্যান্ডেলে 

     চোখ হচ্ছে ছানা বড়া,

জন- প্লাবন ঠেলতে ঠেলতে 

     হচ্ছি শুধু দিশে হারা।


আলোর রোশনাই তে মুখরিত 

     পথ ভূমি মাঠ প্রান্তর,

আঁধার বুঝি আজ শিহরিত 

     মুখ লুকাতে গুহান্তর!


মলিন মুখের শুষ্ক দৃষ্টি-ধারা

     ইতি উতি কেবল চায়,

তাদের আপন নয় শালঙ্কারা 

     দিনান্তে 'মা কষ্ট সাজায়।


জীবন নদী অঙ্গারের পথে বায়

     শারদীয়ায় শুকছে টাকা,

'তারই স্রোত যত্রতত্র ভেসে যায়

     স্বপ্ন যে তার শূণ্যে ঢাকা।


চারটি দিনে বইছে কতো সম্ভার 

     পেসাদের অধীর অপেক্ষা,

আধা খাওয়া পরিত্যক্ত খাবার

     কুড়ায় তড়া, করি 'উপেক্ষা।


দিনান্তে ঝুপরিতে সারে আহার 

     পরম তৃপ্তির ঢেকুর ওঠে,

সারমেয়র সাথে উচ্ছিষ্ট খাবার 

     ভাগে খায় হাসি ঠোঁটে।


উদরের জ্বালায় নেই তো অমিল

     দুপেয়ে আর চারপেয়ে তে,

সার্বজনীন মা মানতে কষ্টে 'নীল

     তাই আঁধার মন দুঃখেতে।