Sunday, October 3, 2021

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 আক্ষেপ



কেন আমায় ডাকো বারে বারে এই অন্ধকারে বসন্ত দিন আমি, এখানে আমার ভূমিকা অল্পই

সারা শরীরে আবীর মাখা তোমার, পায়ের নীচে সাগর থৈ থৈ।

আমার শুকনো পাতায় ডালে ডালে ঝড় নামছে ওই

তুমিও কি জানতে পারো কার সেই পাগল করা গানের গলা ভাসায় তোমায়? ভাসায় তোমার বই? 

তুমিও কি জানতে পারো এমন ঝড়ে আমি যে তার শুকনো পাতা হই

বসন্ত কাল আসছে আবার শরীর কাঁপে থর থর, তোমার সঙ্গে তলিয়ে যাওয়ার উপায় আমার কই।

কবি কমল মন্ডল -এর একটি কবিতা

 সিদ্ধান্ত 

          


মানুষ মানুষের কাছে ফিরে এলে

লোপাট হয় বিবেক 

রাতে রক্ত খেয়ে এসেছে কুকুরগুলো

স্বাধীনতার রক্ত, মনুষ্যত্বের রক্ত, ভালোবাসার রক্ত 

যে ভালোবাসা মানুষকে সুন্দর হতে শেখায়। 

বাক্যের মধ্যে এলোমেলো শব্দ এলে 

জীবনের মধ্যে এলোমেলো সিদ্ধান্ত এলে 

সবই সংজ্ঞাহীন!

শঙ্খ বাজে ঈশ্বরের পাড়ায় পাড়ায়

মানবিকতা দশমী উপভোগ করে 

মা আর আসবেনা এ পাড়ায়

ফুল দিয়ে সাজানো মৃত থামগুলোয়

 স্বর্গের বারান্দা ঝুলতে থাকে

সিদ্ধান্ত ভুল করে ঈশ্বর ঢুকে পড়ে 

অন্ধকার গলিতে....... 

কবি সেখ নজরুল -এর একটি কবিতা

 নীল আকাশ

         


জ্যান্ত তুমি কে বহুদিন দেখিনি,

এখন দেখা হয় ফেসবুক পোস্টে কিংবা ফোন গ্যালারি ভিতরে।

সত্যিই বলতে এতো ভালো লাগতো যে,

মন পাওয়ার জন্য অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলাম।

 মুখে যখন বললাম,

হতবাক হয়ে চোখের জল ফেলতে লাগলো।

কারণটা না বলাই থাক...

মন আমি পেয়েছিলাম ঠিকই,

তবে সেটা অন্য অনুভূতিতে।

হাজার হাজার মুখের ভিড়ে,

 কেন যে এই মুখ এত মনে পড়ে।

আজও আমার অজানাই রয়ে গেল!

হঠাৎই শুনলাম মরীচিকার পিছনেই ছুটছো,

অবশেষে যখন ধ্যান ভঙ্গ হলো,

অনেক দেরি হয়ে গেল।

সত্যিই জ্যান্ত তুমিকে দেখতে বারবার মন চাই,

আজও চোখ ছল-ছল করে ডায়েরির পাতায়।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল এর মধ্যে এটা অন্যতম....

 তবে ভালবাসার মধ্যে কোনো ভুল ছিলো না।

কবি পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 তুমি আগন্তুক



আমার মনের 

জীর্ণশাখায় 

হলুদপাতার দেশে


ভিনদেশী এক

রাতের বাতাস

শব্দ ঝরায় হেসে 


ঘুম কেটে যায়, 

ঘুমের ভিতর

মধুর মত জ্বালা  


মাদুর পাতে 

আদুর গায়ে 

চাঁদের কথামালা


খুব থরথর 

আতুর ঠোঁটে

গা জ্বরজ্বর ভাঁজে 


নাভির গানে 

জীবনমুখী  

মহুয়া মাদল বাজে 


হলুদপাতা

গভীর গোপন

ভিস্যুভিয়াস হলে


ভিনদেশী রাত

বারুদ বারুদ

উঠবে আগুন জ্বলে


আহা উঠবে আগুন জ্বলে

আহা উঠবে আগুন জ্বলে।

কবি অভিজিৎ দত্ত -এর একটি কবিতা

 মহাত্মা গান্ধী

               


ইংরেজদের কঠোর অত্যাচারে

ভারতবাসী যখন জর্জরিত 

পরাধীনতার নাগপাশে

সবাই যখন ক্ষুব্ধ তৎকালীন

ইংরেজদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে

অনেকেই যখন দ্বিধাগ্রস্ত 

সেই মুহূর্তে সত্য ও অহিংসাকে

অস্ত্র করে 

যে মানুষটি লড়াই করেছিলেন 

সেই অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব 

পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধী 

নামে হয়েছিলেন খ্যাত ।


কর্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় 

যেতে হয়েছিল যাকে 

সেই মহাত্মা গান্ধীর লড়াই 

শুরু হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।


সাদাকালোর মিথ্যে ভেদাভেদ 

বর্ণবৈষম্যের কালো অন্ধকার 

গ্রাস করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে 

মহাত্মা গান্ধী ও রেহাই পায়নি 

এই অত্যাচারের হাত থেকে ।

ট্রেনের প্রথম শ্রেণীতে ওঠার জন্য 

শ্বেতাঙ্গ ইংরেজদের কাছে 

ধাক্কা খেতে হয়েছিল তাকে 

মহাত্মা গান্ধী হালকা ভাবে নেননি 

এই ঘটনাটিকে ।

তিনি লড়াই করেছিলেন বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে 

সত্য আর অহিংসার অস্ত্রে 

পরাজিত করেছিলেন বর্ণ বৈষম্যকে।


দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে 

লড়াই শুরু করেছিলেন অত্যাচারী 

ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে ।

খেদা, চম্পারন আর আমেদাবাদে 

এক এক করে হয়েছিলেন জয়ী 

অত্যাচারী ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে 

সত্য আর অহিংসার অস্ত্র কে সঙ্গে নিয়ে ।


ইংরেজ সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে 

অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো 

তিনটে বিখ্যাত আন্দোলন করেছিলেন 

ভারতবাসীদের সঙ্গে নিয়ে । 


শেষ পর্যন্ত ভারত হয়েছিল স্বাধীন 

কিন্তু দেশভাগ আহত করেছিল মহাত্মা গান্ধীকে 

তিনি চিরকাল চেয়েছিলেন' অখন্ড ভারতের পক্ষে ।


হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা 

ব্যথিত করেছিল তাকে 

শেষ পর্যন্ত দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য 

আমরণ অনশনের কর্মসূচি 

চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে ।

এই মহান নেতাকে 

শেষ পর্যন্ত মরতে হয়েছিল 

নাথুরাম গডসের মত 

এক উগ্র হিন্দুত্ববাদীর হাতে।


বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন 

বলেছিলেন হিংসায় উন্মুক্ত পৃথিবীতে 

কেউ বিশ্বাস করবে না 

গান্ধীজীর মত মহান নেতা 

জন্মেছিলেন এই পৃথিবীতে 

আজ গান্ধীজীর জন্মদিনে

ব্যথিত চিত্তে স্মরণ করি 

ও শ্রদ্ধা জানাই এই মহান নেতাকে।

কবি নীতা কবি মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 জাতির পিতা




মহাত্মা গান্ধী নামে বিখ‍্যাত ভুবনে

"জাতির জনক"তুমি তাই রাখি স্মরণে

"বাপুজী"বলেই আমরা ডাকি সবে প্রাণ ভরে

ত‍্যাগের মন্ত্র দিয়ে রেখেছিলে সবে ধরে।


অহিংসা ,ধৈর্য্য, সংযম সব মহা গুণ নিয়ে

ভারতবাসীকে শেখালে কঠোর অনুশীলন দিয়ে

"ইংরেজ ভারত ছাড়ো" এই মহামন্ত্রে

স্বদেশ চেতনাটুকু জাগালে স্নায়ুতন্ত্রে।


আফ্রিকাদেশে গিয়ে প্রতিবাদ গড়লে

কালো মানুষের পাশে তুমি 

নিজে দাঁড়ালে

তোমার সাহসী প্রতিবাদে ইংরেজ-রাজারা

হয়েছিল শঙ্কিত ,বেজেছিল নাকাড়া।


শাসকের শোষনটা যবে উঠে তুঙ্গে

সেইকালে ডাক দিলে "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে"

সৎপথে থাকো আর জপ করো তাঁর নাম

সবার উপরে আছেন রঘুপতি রাজারাম।


শ্রম করো যতো পারো, সূতো কাটো চরকায়

মনে হও দৃঢ়-চেতা, কাউকে যে ভয় নাই

ভারতের গর্ব তুমি,তুমি গুণী-সন্তান

মহাত্মার দেশ বলে করে সবে জয়গান।


ভারতের ইতিহাসে উজ্জ্বল আকারে

লেখা আছে তব নাম স্বর্ণের অক্ষরে।


বিতর্কিত পুরুষ তুমি, বিতর্কও থাকবে

নিঃস্বার্থ ত্যাগ দিয়ে অমর হয়ে বাঁচবে।

কবি নবকুমার -এর একটি কবিতা

 লাটাই এর ঘুড়ি 



মাইথনের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছ ।

জলজ শিল্পের কারুকলায়

ভো-কাট্টা ঘুড়ির মতো 

ভেসে গেছ অলীক তুফানে-


অথচ একদিন গভীর অন্ধকার রাতে

তোমাকে ডেকেছিল মাইথন

হৃদয়ের কবাট খুলে

দেখাতে চেয়েছিল ভালোবাসার স্বরলিপি 

তখন বাঁধা তুমি লাটাই এর ঘুরন্ত বেড়ায় 


একদিন থাকবেনা ঘুড়িটি

লাটাই ও থাকবেনা - সূতো-

 

কিন্তু মাইথন থেকে যাবে 

জলীয় বুকে বিমূর্ত শিল্পের মতো। 

কবি রাজা দেবরায় -এর একটি কবিতা

 আদর্শের আরেক নাম বিদ্যাসাগর

 


বিদেশি অনুকরণের প্রতিবাদ হিসেবে বিদ্যাসাগরের ছিলো ধূতি-চাদর এবং চটি। কোনো অবস্থাতেই তা পরিত্যাগে রাজি ছিলেন না তিনি।


চটি বা দেশীয় জুতো পরে এশিয়াটিক সোশ্যাইটিতেও ঢোকা বারণ বলে দারোয়ান তাঁকে আটকে দেবার পর সোশ্যাইটির সহকারী সম্পাদক খবর পেয়ে বিদ্যাসাগরকে ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি যাননি। তাঁকে জাতিগত মর্যাদার অপমান অনুভবে সোশ্যাইটির কাছে কৈফিয়ত চেয়েছিলেন। কোনোদিন আর এশিয়াটিক সোশ্যাইটিতে যাননি।

কবি বদরুদ্দোজা শেখু -এর একটি কবিতা

 চোখ দু'টো 




যত্তো দোষ এই চোখ দু'টোরই , চোখে নাই সংযম

তাই তো দেশে হচ্ছে এতো খুনধর্ষণ হর্দম ।


চোখের মধ্যে লোভ লালসা 

বাড়ছে ঘনঘোর তমসা

খোশ মেজাজে পুরুষ-পশু হচ্ছে দস্যু বেদর্দি বেরহম।


ঘরে ঘরে নেট -দুনিয়ায়

পর্ণো এবং পরকীয়া

বে-আব্রু বেলেল্লাপনায় লোমহর্ষক খুল্লম খুল্লম ।


কারে দণ্ড দিবে তুমি ?

দুষ্ট হচ্ছে মনোভূমি

নারী পুরুষ উভয় লিঙ্গ ডিজিট্যালি সবাই বেশরম ।


চোখের যাদু অসীম অপার

অনুধাবন করো একবার, 

 বন্ধু, চোখ মুদলে জগৎ আঁধার, চোখ খুললেই মনোরম ।


পর্দা টানো চোখে চোখে

ক্ষমতা- মদমত্ত রোখে ,

দুর্বলকে প্রবলের থেকে রক্ষা করো ঈভের আদম ।

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 আমি আছি




আমি টুকরোয় আছি

তবু সুতোর টানে মন

জীর্ণপাতার মতো ঝরে যাবার আগে !


বৃষ্টির ফোঁটা এক বুক

আমি অসম্পৃক্ত রসায়ন

কিছু ছন্দে, কিছুটা বিচ্ছিন্ন-- নানা ভাগে! 


আমি সুখে দুঃখে ভরা 

মেঘ আসে যায় রঙমেলান্তি খেলা

ঝড় আসে তুচ্ছতায়, আমার পালক খসে। 


আমি আছি ব্যস্ততায়

ব্যথাময় কথা শুনি গাছের পাতায় 

পথ চলে নীরবে, নীরবতা কথা বলে। 


আমি আছি পূর্ণতায়

মগ্ন আকাশ ,সোনা রোদ শিউলিতলায়

মাটির গন্ধ ভাসছে,শিশির ভেজা মাঠের। 


আমি অনাদি শাশ্বত

নিরাকার অপ্রত্যক্ষ থেকে সাকার বাহুল্যে

কাল থেকে ব্যপ্তি উদ্ভাসিত তমসায়।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 বিকল্প আমি 



আমার প্রজন্ম আমার অস্তিত্ব ছিঁড়ে ফেলবে দেখে নিও

প্রতিদিন টুকরো টুকরো বেঁচে থাকা গুলো রক্তাক্ত হয়

নিহত জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ে চাঁদের রোদ


সুখের রজনীতে ঘষাঘষি দুঃখগুলো বিস্ময় চিহ্ন আঁকে

কালের প্রবাহে সেঁকে নিই ভরসা

অন্তত না মরার তীব্র শোক এখন আর গ্রাস করেনা


বারান্দায় নেমে আসে নীরব ভাষার সংকেত

এভাবেই নীরব আকুতি গুলো বৃদ্ধাশ্রম এর বারান্দায় রঙিন হলে পরবর্তী প্রজন্মের অমিকে খুঁজে পাই

কবি মহীতোষ গায়েন -এর একটি কবিতা

 মুখোশহীন মানুষ



মায়াবী পূর্ণিমা রাতে অমলিন জোৎস্নার

আলোয় স্নান করে আমরা ফিরে আসছি;

আর ভয় পাওয়া নয়,মাতাল ভৈরবী সুর

আর ঠেলে দেবে না যুগন্ধর অন্ধকারে।


ভোরের কুয়াশা সরে যাচ্ছে,সরে যাচ্ছে,

হৃদয়ের স্বপ্নজাল,হলুদ পোড়ার মত দুপুরে

ছেলেটা,মেয়েটা চলে গেল রাঙামাটির পথ ধরে

খোয়াই নদীর ধারে পড়ে থাকে রোমান্সের মমার্ত।


ঝরাপাতার গান শাল মহুয়ার ডালে-ডালে,

শাখায়-শাখায়;সবাই আমরা চলে যাচ্ছি চেনা পথ

থেকে অনেক দূরে,পলাশ গাছে ইষ্টিকুটুম ডেকেই

চলেছে,মাদলের সুর বেজে চলছে অনাবিল।


গোধূলির বুক চিরে চলে জীবনের রেলগাড়ি

শালপাতায় সিঙ্গাড়া আর গরম চা-এর কাপে

পড়ে দীর্ঘনিশ্বাসের হাওয়া;এখনও রক্তের মধ্যে

বেঁচে আছে কৃষ্টি,অকৃত্রিম প্রেমের নন্দন মাধুর্য।


ঘুমের রাজত্বে অবলীলায় বিচরণ করে স্বপ্নের

ফেরিওয়ালা;হৃদয়ের আঙিনায় অপেক্ষারত সুখ,

যাবতীয় শান্তি,আলো-আঁধারি রহস্যের হাতছানি,

অম্লান আলোয় পথচলার সুতীব্র অঙ্গীকার স্পষ্ট।


কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার আগে সচেতন হয়ে

ওঠে আমাদের বিবেক;জীবন তো একটাই,আমরা

মহাশূন্যে বিচরণ করি,তবুও পাখিরা গেয়ে ওঠে

গান,ফুল ফোটানোর আনন্দে মুখরিত চরাচর।


নীলিমায় নীল ঢেকে যাচ্ছে,আবর্ত ছিঁড়ে বেরিয়ে

আসছে মুখোশ মানুষ,শুদ্ধি-মন্ত্র উচ্চারিত হলো...

মন্দিরে,গীর্জায়,মসজিদে বেজে ওঠে মাঙ্গলিক সুর

এই প্রথম আমরা মানুষ হলাম, মুখোশহীন মানুষ।

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 নারীকে যেন দিতে পারি সম্মান



দমে ফুত্তি লাগছে এ বছরটায় ধান হয়েছে কুদ্যে

লাচছে ফুলমণির মতো আমন ধান বহাল কিবা বাইদ্যে।

দেখে পদে খেতের গতর হুদকে উঠছে আবট পরাণ

মাতায় দিয়েছে উঠান গুলান শিউলি ফুলের সুঘ্রাণ।

বছর বাদে দুগ্গা পূজা কেবা না পাউস মাছের মতন মাতে

ফুলমণি দিয়েছেক বলে রঙিন চুড়ি পরবেক দুহাতে।

এইতো কমাস আগে এখন যায় নাই লতুন বিয়ার গন্ধ

দমে খেয়াল রাখে বউটা যেমন ফুল ভমরার দ্বন্দ্ব।

দেখতে দেখতে আলেক দুগ্গা পুজা সুখ ধরছেক লাই বুকে

আলপনা আঁকে তুলসি তলায় ফুলমণি দিলেক শাকটা ফুঁক্যে।

লাল শাড়িরর বেশ মানায়ছে হাটছেক নাই নজর

গুড়ের মিঠাই করতে করতে আনন্দে করছে বদর বদর।

দুগ্গা থানে দেখাতে যাবেক প্রদীপ যাত্যে হবেক সাথে

সারা রাতটা ঘুরতে হবেক রাখ্যে হাতটি হাতে।

আমি কিসের কমতি যাব ঘুরব টেকের টাকা ভাঙ্যে

পুরাই দিব মন বাঞ্ছা তার পেম সুহাগে রাঙ্যে।

তাইতো বলি পেম সুহাগে

থাকি যেন সারাটা জীবন ধইরে

হৃদয়েতে হৃদয় দিয়ে সুখে যেন যায় মা উঠান ভরে।

হে মা দুগ্গা রাখিস লজর যেন নারীকে দিতে পারি সম্মান

সুখটা আনে ভরাই দিব ফুলমণি আমার পরাণের পরাণ।