শব্দ সাগর
মাথার তীব্র যন্ত্রনা বাড়তে থাকে অভাবের তাড়নায়
দুহাতে খামচে ধরি বিছানার চাদর
অঝোর চোখের জলে বালিশ ভিজে যায়
আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরি
তুমি আমাকে শব্দ দাও
তোমার চোখের জলে আমার শব্দ সাগর হয়
তুমি নীরবে বয়ে যাও।
শব্দ সাগর
মাথার তীব্র যন্ত্রনা বাড়তে থাকে অভাবের তাড়নায়
দুহাতে খামচে ধরি বিছানার চাদর
অঝোর চোখের জলে বালিশ ভিজে যায়
আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরি
তুমি আমাকে শব্দ দাও
তোমার চোখের জলে আমার শব্দ সাগর হয়
তুমি নীরবে বয়ে যাও।
একদিনের জীবন
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম নীলচে আকাশের মেঘে,
গান ও গল্পঃ সব শুনে শুনে পাখিদের—
ছুটতাম দুর-দুরান্তর বাতাসের বেগে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম নানা রঙের সুবাসিত ফুলে,
কাজে লাগাতো পূজায় অঞ্জলী অথবা—
বসে থাকতাম প্রেমিকার খোঁপার চুলে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম ছেলেবেলাতে কৈশোরে ফিরে,
আচার-স্কুল ছুটি-বায়োস্কোপ-লোডশেডিং—
খেলতাম বারবার যা হারিয়ে গেছে চিরতরে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম কৃষ্ণচূড়া-শিমুল-ছাতিম গাছে,
ছায়ায় গ্রামের পথ-আড়ালে রেখে রোদ—
মেঘ বনতাম বন-ময়ূরীর আদর ভঙ্গী নাচে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম শ্রাবণের অভিমানীনি বৃষ্টি হয়ে,
বারিধারায় নিস্তেজ করে কংক্রিটের শহর—
ভাসতাম গাঢ় কুয়াশায় শীতের পরশ ছড়িয়ে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম গ্রামের সবুজ ধানে-ভরা মাঠে,
আলের পথে ছেলে-ছোকরার কোলাহল—
দেখতাম এক বাঁধা তরী-পদ্মা নদীর ঘাটে।
একদিনের যদি জীবন হতো
জন্ম নিতাম গোধূলি শেষের সন্ধ্যাবাতিতে,
মা—ঠাকুমারা তুলসিতলায় শঙ্খ উলুধ্বনি—
হয়ে যেতাম সোনালী চাঁদ পূর্ণিমার রাত্রিতে।
বাঁচুক শৈশব
বিদ্যে কোথায় অনেক ভারী?
ব্যাগ এর বোঝা বইতে পারি?
তোমরা বলো আমরা শিশু,
হচ্ছে বিলীন শৈশবের ই।
মানছো তোমরা দিবস কত,
নামের বড়াই শৈশবের ই।
বলবে না তো আমরা শিশু!
কুটিল আর জটিল কেন।
জীবন মোদের ওষ্ঠাগত।
পুষ্টি মোদের জীবন গঠন ,
স্মৃতি মধুর বাড়বে কেমন?
ভাবনা তোমার আমরা শিশু।
ব্যাগের বোঝা কমাও দোহাই।
বাঁচুক শিশু শৈশবের ই।
কেমন যেন
ধোঁয়াশা সৃষ্টির প্রকরণ
অশান্তির বাতাবরণকে
সামনে এনে দেয়
আবেশ মাখানো উচ্ছলতা
কথার যাবতীয় মারপ্যাঁচে
নতুন পরিবেশ তৈরি করে
আলোছায়া মাখানো
অস্থিরতার অসহায়তা
অস্তিত্বের সংকট তুলে ধরে
এলোমেলো কথার নির্বাচন
সুস্হিরতাকে কখনোই
মেলে ধরতে দেয় না ...
সমর্পণ
ঘুম পেলে ঘুমাবো না,
এটা কোনও কাজের কথা নয়,
তবু সম্যক জানি ---
পৃথিবীর সমূহ ঘুম নেমে এল চোখের পাতায়
কোনও নিদ্রার দেবী আঁচল পেতে রাখেন বিশ্বমাঝে,
ঘুমের মাঝে কোনও সুরেলা স্বপ্ন
দেখে ফেলে দয়িতার নীল চোখ, শ্রাবণের কেশরাশি,
আর শুনে ফেলে ধ্বনিত ভালোবাসার গান।
তখন ভিতরে ভিতরে মোমের গলন ...
ভিসুভিয়াসের প্রবল আক্ষেপ ...
আর নিজেকে নিঃশেষ করবার তাপিত প্রহর !
অবশেষে ক্লান্তিহীন অবগাহন
আর নির্বিষ জাগরণের তুমুল পালাগান !
ওদের বলে দিও
ওদের বলে দিও
কবরের উপর যে গাছটি জন্মিয়েছে
তা একটা পথশিশুর।
মায়ের উপর পাশবিক অত্যাচারে-
আমার জন্ম।যদিও মা'টা বোবা ছিলো-
তাঁর চোখের জলে ভেজা কথাগুলো আমি পাঠ করেছি।
দিনের আলো প্রথম দেখা- জীবন সংগ্ৰামে
সমাজের এঁটোকাঁটা আমার একমাত্র হাতিয়ার
ফুটপাত শয্যা পরিত্যক্ত নরম বালিশে।
স্কুলে আলাদা করে ভর্তিবই,কলম,
পাশে একটা ঘর- এর কিছুই ছিলো না
তাই তো পড়াটা আমার আর হয়ে উঠেনি।
একটা চাকুরির জন্য
আমি দ্বারে দ্বারে গিয়েছি ।
তারা আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে শূন্য হাতে।
পেটে পাথর বেঁধে কতো রাত কাটিয়েছি।
একদিন ঠিক করলাম ,এ কষ্ট নিবারণের
ওমা! ওরা আমার বার্থ সার্টিফিকেট চাইলো।
ওদের বলে দিও
এক ফালি চাঁদ
এক কিশোরী চাঁদ
আমার সাথে ভাব জমাতে চায়,
তার আঁচল ভর্তি জোৎস্না রাশি বারান্দায় এসে পড়েছে।
মনের মাঝে ঘর বাঁধতে বারবার অপ্রত্যাশিত ভাবে ছুটে আসে,
সেও মাটির ঘ্রাণ খুঁজতে চায়
অধরের চুম্বন আর মিষ্টি প্রেমের যুগলবন্দী কল্পনা করে।
অথচ আমি চাই বাস্তুহীন
রৌদ্র গন্ধ মেশানো কামহীন এক ফালি চাঁদ।
আমার শহর
মুমূর্ষু পৃথিবী ঘুরে,
নক্ষত্র রাত্রির
গভীর পাদদেশ ছুঁয়ে,
সাগরের উপকণ্ঠে বসে
ক্ষিদের আর্তনাদ শুনে,
ঐ দূরে প্রাচীন শতাব্দীর
ঝড় থেমে গেলে
এই শহরের বুকে
ঘুরতে একদিন আসবো।
দেখতে আসবো
বুঝতে আসবো
আর জানতে আসবো
ভালোবাসার প্রিয় শহর
কেমন আছো তুমি?
শিশু
প্রত্যেকটি শিশু হবে
এক,একটা নক্ষত্র
যদি ঠিকমতো পায়
আমাদের সাহায্য
আমরা যদি শিশুদের
ঠিকমতো সাহায্য করতে পারি
তাদেরকে ঠিকমতো যত্ন করি
এই শিশুরাই ভবিষ্যতে নক্ষত্র হবে
খুব তাড়াতাড়ি।
শিশুদের বোঝা, বোঝানো
তাদেরকে সঠিক পথ দেখানো
অভিভাবকদের বড়ো দায়িত্ব
অভিভাবকরা যদি শিশুদের নেই যত্ন
শিশুরা হবে এক,একটি রত্ন।
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ
এটা মনে রেখো সব
আমরা যদি শিশুদের
মানুষ করতে পারি
আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে
খুব তাড়াতাড়ি।
গীত
আকাশ পানে চেয়ে আমার
কাটছে জীবন,
হায়রে পোড়া কপাল কেন
হয়না মরণ l
হয়না পাওয়া এ জনমে
সময় চলে যায়,
শেষের কালে এসে কেন
বিচ্ছেদ ব্যাথা পায় l
জীবন ভর ডেকেই গেলাম
এসো আমার ঘরে,
মনিকোঠায় রাখবো ধরে
থাকবে হৃদয় জুড়ে l
মন যে আমার ভোলা ভালা
ভেবে ছিলাম পাবো,
হৃদ মাঝারে রেখে তোমায়
এ জনম কাটাবো l
আকুলি বিকুলি মনে
করছি স্বরণ,
তবু কেন পাইনা সাড়া
হয়না দরশন l
বাজী ভীষণ পাজি
দীপাবলীর আলোর মালায় উইঠতো সেইজে শহর-
তুবড়ি, চরকি, রঙ্গমশালের কতই হইত বহর!
গত বছর পুড়ল ছেলে মরল আগুন লেইগে-
বাজি বন্ধোর নিয়মবিধিটো হোতোই যদি আইগে।
ছেইলাটো মুর বেঁইচে যিতো; তুবড়ির খোল ফেটে-
বেঘোরে তার পেরাণটা যেইতো না কো মোইটে।
শুন কেনে সব্বজনে, বন্ধ হোক বাজি-
পেরকৃতি-মানষের শত্তুর এই বাজি বড় পাজি।
অইম্লজানের ঘাটতি ইকেই চলছে পরিবেশে-
গাছ গুলান কাটছে বেকুব, বেইমান অইক্লেশে!
দুর্ঘটনা-দূষণের কাইরণ এই বাজী কভু লয়-
ভবিষ্যতেও থাক বন্ধ, আয়ু হবে না ক্ষয়।
পুত্রের শোইকে মুর জেবন হইন্ছে জেরবার-
এই ভুলটো আর কেউ যেন না কইরে বার বার।
শুনছি মেইলা বাতি পুড়লেও শ্বাসকষ্ট হয়-
মনের পিদীম জ্বাইলিয়েই শ্যামাকে পুজি আয়।
কালি মাইতার অঙ্গ জুইড়ে কালো রূপের বন্যা.....
আঁইধার মাঝে মনের দীপে ফুরাবে সব কান্না।
নারীকে যেন দিতে পারি সম্মান
দমে ফুত্তি লাগছে এ বছরটায় ধান হয়েছে কুদ্যে
লাচছে ফুলমণির মতো আমন ধান বহাল কিবা বাইদ্যে।
দেখে পদে খেতের গতর হুদকে উঠছে আবট পরাণ
মাতায় দিয়েছে উঠান গুলান শিউলি ফুলের সুঘ্রাণ।
বছর বাদে দুগ্গা পূজা কেবা না পাউস মাছের মতন মাতে
ফুলমণি দিয়েছেক বলে রঙিন চুড়ি পরবেক দুহাতে।
এইতো কমাস আগে এখন যায় নাই লতুন বিয়ার গন্ধ
দমে খেয়াল রাখে বউটা যেমন ফুল ভমরার দ্বন্দ্ব।
দেখতে দেখতে আলেক দুগ্গা পুজা সুখ ধরছেক লাই বুকে
আলপনা আঁকে তুলসি তলায় ফুলমণি দিলেক শাকটা ফুঁক্যে।
লাল শাড়িরর বেশ মানায়ছে হাটছেক নাই নজর
গুড়ের মিঠাই করতে করতে আনন্দে করছে বদর বদর।
দুগ্গা থানে দেখাতে যাবেক প্রদীপ যাত্যে হবেক সাথে
সারা রাতটা ঘুরতে হবেক রাখ্যে হাতটি হাতে।
আমি কিসের কমতি যাব ঘুরব টেকের টাকা ভাঙ্যে
পুরাই দিব মন বাঞ্ছা তার পেম সুহাগে রাঙ্যে।
তাইতো বলি পেম সুহাগে
থাকি যেন সারাটা জীবন ধইরে
হৃদয়েতে হৃদয় দিয়ে সুখে যেন যায় মা উঠান ভরে।
হে মা দুগ্গা রাখিস লজর যেন নারীকে দিতে পারি সম্মান
সুখটা আনে ভরাই দিব ফুলমণি আমার পরাণের পরাণ।
কবিতা
কে লিখছে কবিতা!
কে তাকে নিয়ে সহবাস করছে!
কে ভাবছে কবিতা তার প্রাণ
কেউ ভাবছে রোজগারের তকমা
কেউ কি ভাবছে পরবর্তী প্রজন্মের কথা!
শুধু নিজের প্রচারে মাথা দিয়ে বড় বড় কথা--
কবিতা হচ্ছে না। তাই পৃথিবী ভিজছে না।
ভিজতে চায়না। কেননা, যে কবিতা লিখলো,
সে তো কবি নয়, সে পর্যটক মাত্র।
বাংলায় এখন কবি হবার জন্যে শুধু
অসম্ভব মাতলামি! কবিতা হচ্ছে না।
কবিতা বেঁচে নেই। বাঁচানোর চেষ্টাও নেই।
কবি ত্বড়িৎ বন্দোবস্তের পহসনে কবির
গলদ আঁতলামি-- কবিতাকে করছে একলা হবার সাহস। কবিতা খুন হচ্ছে কবিতার সন্তানের হাত ধরেই-- একটাও কবিতা হচ্ছে না।
কোনো বক্তব্য নেই। কোনও ম্যাসেজ নেই।
শিশুদের খাদ্য নেই-- এগুলো শুধু নেশা গ্রস্ত
মানুষের শিৎকার মনে হচ্ছে!
কবিতা পুড়ছে, পুড়বে। চিতায় নাকি শূন্যে!
কে রুখবে এই ধ্বংসের চিহ্ন!