Sunday, January 2, 2022

নিবন্ধ || ভারতের অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি - একটি কার্যকর অর্থপ্রদানের মোড || শিবাশিস মুখোপাধ্যায়

 ভারতের অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি - একটি কার্যকর অর্থপ্রদানের মোড 





এখন ভারতের অর্থনীতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো একটি আধুনিক ব্যবস্থা।

এটি হল একটি ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল মুদ্রা যা পণ্য ও পরিষেবা কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে অর্থাৎ যে কোনও প্রকৃত মুদ্রা বা বিল ব্যবহার করা হয়নি এবং সমস্ত লেনদেন অনলাইনে হয়। অনলাইন লেনদেন সম্পূর্ণ নিরাপদ তা নিশ্চিত করতে এটি শক্তিশালী ক্রিপ্টোগ্রাফি সহ একটি অনলাইন লেজার ব্যবহার করেছে। এখানে, আমরা ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত সমস্ত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করেছি যেমন ধরন, এটি কীভাবে কাজ করে, ব্যবহার করে, কীভাবে এটি কিনতে এবং সংরক্ষণ করতে হয়।


ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?


এটি একটি সম্পূর্ণরূপে ভার্চুয়াল মুদ্রার লাইন যা ক্রিপ্টোগ্রাফির সিস্টেমে চলে। এটি বিনিময়ের একটি বিকেন্দ্রীকৃত মাধ্যম হিসাবে কাজ করে যেখানে প্রতিটি লেনদেন যাচাই এবং সহজতর করতে ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। বিনিময়ের এই মোডটি মূলত ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে চলে । এটি একটি পাবলিক লেজার যা একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘটিত সমস্ত লেনদেন ধারণ করে। অতএব, নেটওয়ার্কে থাকা প্রত্যেকে প্রতিটি লেনদেন দেখতে পারে এবং অন্যদের ব্যালেন্সও দেখতে পারে।



ক্রিপ্টোকারেন্সি কিভাবে কাজ করে?


বিটকয়েনের প্রতিষ্ঠাতা সাতোশি নাকামোটোর মতে, এটি একটি পিয়ার-টু-পিয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম। এতে, এটি অনেকটা পিয়ার-টু-পিয়ার ফাইল লেনদেনের মতো, যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা নিয়ন্ত্রকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


তাই, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি একটি শেয়ার্ড লেজারে নিছক লেনদেন বা এন্ট্রি যা শুধুমাত্র কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করার পরে পরিবর্তন করা যেতে পারে। সাধারণত, বিটকয়েন নেটওয়ার্কের মতো ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে, প্রতিটি লেনদেনে জড়িত পক্ষের - প্রেরক এবং প্রাপক - ওয়ালেট ঠিকানা বা সর্বজনীন কী এবং এই ধরনের লেনদেনের পরিমাণ থাকে।


ক্রিপ্টোকারেন্সির ধারণা কীভাবে তৈরি হয়েছিল?


ডিজিটাল মুদ্রার ধারণাটি ৯০ এর দশকের প্রযুক্তিগত পদ্ধতির মধ্যে যথেষ্ট আকর্ষণ অর্জন করেছিল। একাধিক সংস্থা এবং প্রোগ্রামাররা মুদ্রার একটি সমান্তরাল লাইন তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিল যা কোনও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নাগালের বাইরে হবে। যাইহোক, হাস্যকরভাবে, যে সংস্থাগুলি এই ডিজিটাল


ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার কি?


বিগত বছরগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তা ভাবার মতো। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েন, সারা বিশ্বে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।


পেমেন্ট - একটি মোড হিসাবে


প্রাথমিকভাবে, ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থপ্রদানের মোড হিসাবে বিটকয়েনের সামান্য মূল্য ছিল। যাইহোক, সময়ের সাথে সাথে, রেস্তোরাঁ, ফ্লাইট, জুয়েলার্স এবং অ্যাপের মতো বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু বণিক এটিকে একটি কার্যকর অর্থপ্রদানের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করতে এসেছে। অর্থপ্রদানের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহণকারীদের মধ্যে একটি হল অ্যাপল ইনক। এটি অ্যাপ স্টোরে লেনদেন করার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির অনুমতি দেয়।


বিনিয়োগ


ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েন, বর্তমানে বর্তমানের সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগের বিকল্পগুলির মধ্যে একটি। এর মূল্য উপলব্ধি অত্যন্ত গতিশীল এবং এটি মূলধন সম্প্রসারণের জন্য একটি চমৎকার উপায় হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যাইহোক, ব্যক্তিদের অবশ্যই এই বিনিয়োগের পথের অস্থিরতা নোট করতে হবে। বিটকয়েন, সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি যার সর্বাধিক বাজার শেয়ার রয়েছে, একটি সম্পদ হিসাবে মূল্যের কিছু অনিয়মিত পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে৷ যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বস্তুগত পরিবর্তনের মূলে নয় বরং জনপ্রিয়তা এবং লোভের পরিবর্তন, তাই এই ধরনের মূল্যের ওঠানামা স্বাভাবিক।

যাইহোক, ভারত, একটি অর্থনীতি হিসাবে এখনও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে একটি কার্যকর অর্থপ্রদানের মোড হিসাবে ব্যাপকভাবে অন্বেষণ করতে হবে। তা সত্ত্বেও, অ্যাপল এবং ফেসবুকের মতো বড় কোম্পানিগুলি তার কারণ উত্থাপন করার সাথে, এটি আশা করা হচ্ছে যে ক্রিপ্টোকারেন্সি শীঘ্রই ভারতে আকর্ষণ লাভ করবে। 

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিল পেশ করা হবে।

গল্প || একাকিত্বের বন্ধু || ডঃ রমলা মুখার্জী

 একাকিত্বের বন্ধু 

 



  রীতার মেয়ে তানিয়া বিয়ে করে বিদেশ চলে গেল, রীতার স্বামীও গত হয়েছেন বছর দুই হল। ছেলে তো বউ নিয়ে কলকাতায় আলাদা ফ্ল‍্যাটে থাকে। মেয়েটাই ছিল রীতার একমাত্র সঙ্গী। মেয়ের অভাবে রীতার বুকটা ব্যথায় টনটন করে। একাকীত্বের বোঝায় ক্লান্ত তানিয়ার চোখের জল বাধা মানে না।

      তানিয়ার বিয়ের পাহাড়-প্রমাণ উপহার-সামগ্রী গোছানোর শেষে রীতা দেখে মাত্র পাঁচটা বই তানিয়া উপহার পেয়েছে, অথচ রীতা তার বিয়েতে পেয়েছিল বাষট্টিটা বই। রীতা বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতো বলে রীতার মা বইগুলো রীতাকে দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সব বই তখন পড়া হয়ে ওঠে নি।

    সংসারের সব কাজকর্ম, দুই ছেলেমেয়েকে ভালোভাবে মানুষ আর স্বামীর ফাইফরমাস খাটতে খাটতে বই পড়ার অভ‍্যেসটাতে রীতার ভাটা পড়তে পড়তে ক্রমশ শূণ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল।

      একাকিত্বের গ্লানি মুছতে রীতা আঁকড়ে ধরল আলমারিতে সযত্নে রাখা তার সেই বিয়েতে পাওয়া বইগুলোকে। বই পড়তে পড়তে রীতার বুকের ফাঁকাটা কখন যে ভরাট হয়ে যায় রীতা বুঝতেই পারে না। চুঁচুড়ায় রীতার বাড়ি থেকে জেলার গ্রন্হাগারটা খুব দূরে নয়। একদিন গিয়ে রীতা সদস‍্য হয়ে এল। প্রায়ই সে গ্রন্থাগার থেকে নানান বই নিয়ে এসে পড়তে থাকে। রীতা মনে মনে বলে, "বই, তোমার মত বন্ধু আর পৃথিবীতে কেউ নেই। এত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে মানুষ করলাম, কিন্তু কেউই তো আর সেরকম খোঁজখবর নেয় না। বই, আমার সই, তোমার জন্যে আমি সব দুঃখ ভুলে নতুন আলোয় বাঁচার দিশা পেলাম। 

       বি. এ. পড়তে পড়তে রীতার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পর অসুস্হ শাশুড়ির সেবা করতে গিয়ে আর পরীক্ষাটা দেওয়া হয় নি। রীতা মনস্থ করল নেতাজী ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে সে গ্র‍্যাজুয়েশনটা করে নেবে। চুঁচুড়ার একটি কলেজে ভর্তি হয়ে শনি আর রবিবার ক্লাশ করতে যেতে শুরু করল। তাদেরই প্রতিবেশী অভাবী ঘরের মেয়ে তানিয়ার বন্ধু পর্ণা, রীতাকে এ ব‍্যাপারে অনেক খোঁজখবর এনে দিয়েছিল আর সহযোগিতাও করেছিল। পর্ণা একটা চাকরি করে বলে ওপেন থেকে গ্র‍্যাজুয়েশনটা করে নিচ্ছিল। অবশ‍্য রীতাও পর্ণাকে গরীব বলে কখনও দূরে সরিয়ে রাখে নি, তানিয়ার সঙ্গে মিশতেও বাধা দেয় নি। যতটা পারত রীতা মেধাবী পর্ণাকে সাহায্যই করে এসেছে এতকাল। সেই উপকারের প্রতিদান দেবার একটু সুযোগকে পর্ণা হাতছাড়া করলো না। রীতার উৎসাহ দেখে সে অবাকও হয়ে যায়! কিন্তু ছেলে সুজয় ভাবল তার মায়ের বোধহয় বুড়ো বয়সে ভীমরতি হল, তানিয়া অবশ‍্য খুবই মাকে অনুপ্রেরণা দিল বিদেশ থেকে। 

          অবশেষে বাষট্টি বছর বয়সে রীতা যখন বি এ পাশ করল প্রতিবেশীরা সবাই ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগল। রীতার সাফল‍্যের আনন্দে পর্ণাই মিষ্টিমুখ করালো সবাইকে রীতার দেওয়া সুন্দর দামী শাড়িটা পরে। 

গল্প || কর্মসংস্থান || রথীন পার্থ মণ্ডল

 কর্মসংস্থান


বয়সের ভারে কুঁকড়ে গেছেন আমার বাবা। ঠিক মতো কথা বলতে গেলেও এখন হাঁপাতে থাকেন।সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনো অবস্থা। তাই পড়াশোনা শেষ করার পর বেহাল সংসারের খরচ জোগাতে টিউশনি করতাম। কিন্তু লকডাউনে গৃহবন্দী হবার পর থেকে সেটাও হারাই। 


    গত বছর আজকের দিনেই চাকরির মেরিট লিস্টে আমার নামটা দেখে বাবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলেছিল-- " যাক, এবার তোর চাকরিটা দেখে আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারব। "


    বাবার মৃতদেহের সামনে বসে হঠাৎ করেই আমার সেদিনের কথাটা মনে পড়ে গেল।

অনুগল্প || জানালা || সিদ্ধার্থ সিংহ

 জানালা




রিসিভার তুলেই হোটেলের বারোতলা থেকে ফোন করল লোকটি--- হ্যালো, হোটেল ম্যানেজার? আপনি একটু তাড়াতাড়ি আসুন তো... আমার সঙ্গে আমার বউয়ের ঝগড়া হয়ে গেছে। ও জানালা দিয়ে নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চাইছে।
হোটেল ম্যানেজার বলল, সরি স্যার, এটা আপনাদের পার্সোনাল ম্যাটার। আমরা এ ব্যাপারে নাক গলাতে পারি না।
সঙ্গে সঙ্গে লোকটি বলল, আরে, মেনটেনেন্স তো আপনাদের দায়িত্ব। বউ অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই খুলছে না। যত তাড়াতাড়ি পারেন, এসে জানালাটা খুলে দিন।

কবিতা || কচি কলাপাতার রঙ || দিলীপ কুমার মধু

 কচি কলাপাতার রঙ




আমি ভাবছিলাম পাখিটার কথা

রঙ করা পাখিটার কথা,

কচি কলাপাতার মতো রঙ....


ওই রঙটাই আসল, নাকি

ওর সাথে আরো রঙ মিশিয়ে

লোভাতুর করেছে, কে জানে !


মাথায় কাপড় বউটি বলেছিল--শিল্পীর কাজ,

সাহেব বলছিল--নচ্ছার কাজ !আরো দুজন হাঁটছিল, বলল--মরণ !!


কচি কলাপাতার রঙটা হিসেবি আজ

বারকয়েক উঁকিঝুঁকি মারছিল--

ওর ইচ্ছে মিউজিয়ামে থাকার ।


শীত-গ্রীষ্ম যাই-ই বলো

একটা ভলোকিছুর জন্যে

আর একটা ভলোকিছু অপেক্ষা করে ।

কবিতা || তবু স্বপ্নের বর্ণালী || চাঁদ রায়

 তবু স্বপ্নের বর্ণালী

           



দুটি শালিক সজনে ডালে মুখোমুখি

নীল সাদার ছাত্রী টি স্কুল থেকে এল ফিরে

আমার সবুজ স্বপ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে 

কেতকী চেয়ে আছে হলুদ গাঁদার দিকে

ঈশানীর পাড়ে সাদা শুকনো কাশ

কালো ছায়া সব দিচ্ছে ঢেকে

শুষ্ক নদীতে ধূসর পাথুরে ঘটিং

রবীন্দ্র সঙ্গীত হলুদ রঙের দূরে

'সেদিন দুজনে----'ফ্যাকাসে ছবি আঁকে

লালনের গৈরিক সুর সম্বল

এখনো তবু আশা সোনালী ঊষার।

কবিতা || ছত্রাক || চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

 ছত্রাক



মরণের মুখে ছুঁড়ে দিতে ঘৃণা থুত-কার

বুকের ভেতর জ্বালিয়ে রাখি আগুন।

বড়ই বেমানান

খুদ-ঠোঁটে চুড়ুই পাখির ডানার প্রতিবাদ-

মরণকে গচ্ছিত রাখি তাই,অনুগ্রহের শ্বরশয্যায়।

শবের শরীর থেকে লুটে যতখুশি শ্বেতসার

লালসা নর্তন রাখে যুবতি জোছনায়,

আকাশ থেকে টপাটপ পেড়ে এনে

নিজস্ব সিন্ধুকে ভরে উন্মাদ

সর্বজনীন নয় কোজাগরী চাঁদ-

উল্লসিত একেকটি ছত্রাক

কবিতা || সন্ধ্যা বেলায় || ফরমান সেখ

 সন্ধ্যা বেলায়

         


সন্ধে বেলায় রবি যখন

    দেয় বিদায়ের হাঁসি,

মাঠের থেকে লাঙ্গল নিয়ে

     বাড়ি ফিরে চাষী।


শিশির তখন পড়তে থাকে

     দূর্বা ঘাসের ডালে,

মাছেরা সব লুকোয় গিয়ে

    গভীর নদীর খালে।


চারিদিকে বাড়তে থাকে

    মশাদের আমদানি,

মন্ত্র পড়ে সন্ধে জ্বালায়

    হিন্দু ঘরের রানী।


নৌকা মাঝি নৌকা খানি

     ফিরায় নদীর কূলে,

গাছের ডালে বাদুড় গুলো

    উল্টো করে ঝুলে।


জোনাকিরা জোনাক জ্বালায়

    সন্ধ্যা হওয়ার সাথে,

মাঠের শিয়াল সন্ধে হতেই

      হট্টগোলে মাতে


মধুর সুরে বাজতে থাকে

    গো-রাখালের বাঁশি,

গগন কোলে মিষ্টি হেসে

      উঁকি মারে শশী।

কবিতা || চলো ফিরে যাই || নমিতা বোস

 চলো ফিরে যাই


     


ভালবাসলে সব রক্তের গ্রুপ-ও।

না এ-প্লাস না বি-মায়নস।

ভালবাসার মুন্সিয়ানায় খলম কুচি ও শব্দ বন্ধ ।

এ গঙ্গা বহতা ,সব স্বরবর্ণ।


জল ঢালা দুপুর ,নোনতা

আমেজ,সাবেকি সারেঙ্গী,

চলো ফিরে যাই।


শুকনো ইতিহাস,বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস,মনের দরজা হাট,

চলো ফিরে যাই ।


জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি,নির্দায় ভিসুভিয়াস,উত্তপ্ত বন্দেয়ানা ,

চলো ফিরে যাই ।


কলমের কৌলিন্যে নির্ভীক নিবন্ধ ,সোমরসে উপন্যাস ,

চলো ফিরে যাই ।


অজন্মা নয় গর্ভকোন,ভাঙাচোরা চৌকাঠ,উন্মাদ বসন্ত,

চলো ফিরে যাই।


আত্মঘাতি সাদা পাতা,নিয়মের কালরাত্রি,নেভানো বাতিঘরে শুধু ফিরে ফিরে চাই,

চলো ফিরে যাই,চলো ফিরে যাই,ফিরে যেতেই যে চাই ।

কবিতা || এভাবেই তৈরি হয় || সামসুজ জামান

 এভাবেই তৈরি হয় 

               


শুধুই ফুরফুরে দখিনা বাতাস শুধুই শিমুল গাছে সমীরণ

এতে জীবনের উষ্ণ পরশ কই? 

মাঝে মাঝে কলাগাছে ঝড় না হলে 

জীবন কেমন যেন আনোনা পান্তা ভাত।

 ভালোবাসা কথাটা তখনই দামি হয় যখন তার মুখের ভিতর লবণাক্ত স্বাদ জমে ওঠে।

 রোমাঞ্চকর পর্বত অভিযানে কত শত প্রাণ চলে যায় 

তবু ও তো আজও লোক চলে।

অমরনাথে মৃত্যু হল না তাই কখনো হয়?

 ওরে পাগল মৃত্যু না থাকলে জীবন কখন উপভোগ্য হয়?

ছায়া ছায়া যেসব স্মৃতি আপাত ভালো মানুষ হয়ে উকিঝুকি মারছে

জীবনের চৌকাঠে বারান্দায় তাদের একটু সুড়সুড়ি দাও 

দেখবে ঠোট কাঁপতে কাঁপতে একসময় হুহু করে অশ্রু ঝরছে।

 হৃদয় নামের রুমালটা ভিজে যাবে

এভাবেই ভিজে ভিজে তৈরি হয় ভালোবাসা 

এভাবেই রামী চন্ডীদাস শিরি-ফরহাদ লাইলী-মজনু 

এভাবেই তৈরি হয় ভালবাসার ইতিকথা।

কবিতা || বছরশেষ || প্রদীপ কুমার লাহিড়ী

 বছরশেষ




বছর শেষের প্রভাত বেলা  
আসে সে নিয়ে মরণ খেলা 
কোবিদ ভাইয়ের বিদায় বেলা 
দিয়ে গেলো অম্রিকন এর ঠেলা 
জানিনা নতুন বছর কেমন যাবে
 এ দুই দুশমন মোদেরসাথে রবে  
 ভয় করিনে লড়তে মোরা সবাই রাজি 
 মারি মোদের সাথী কেয়া করেগা কাজী 
 মরণের সীমানা ছেড়ে যাবো সবে মোরা
যাসনে ভাই না মোরে একটু তবে দারা

কবিতা || নব বর্ষে || তাপস কুমার বেরা

 নব বর্ষে 



শুভ নব বর্ষে 

অশুভ শক্তির 

হোক পরাজয় |

বিবেকহীন মানুষদের 

শুভ বোধ 

জেগে উঠুক |

প্রবঞ্চকরা 

পরিহার করুক 

তঞ্চকতা |

দুঃখী মানুষের 

দুঃখ দূর হোক |

দরিদ্র মানুষের 

দারিদ্র দূর হোক |

শান্তি আসুক |

সুখী হোক সবাই |

অশান্তির 

কালো মেঘ 

কেটে যাক 

চির তরে |

শুভ নব বর্ষের 

হোক জয় |

কবিতা || ভালো থেকো তুমি || সুব্রত মিত্র

 ভালো থেকো তুমি




তারাগুলো জ্বলে আছে সব ,

আসলে সবগুলোতো তারা নয়

আমার মাঝে আমার সত্যতা

কতটা রয়েছে দৃঢ় তাও যে বলার নয় ,

কত স্মৃতি বয়ে গেল মালা হলোনা

চলে গেল প্রাণটা আপন হলোনা ,

দেহটাও হয়ে ওঠে মূর্তি যখন

মূর্তি বিনাশের আগুন জ্বলেছে

শত শতাব্দীর ইতিহাস ডিঙ্গিয়ে

শ্বসানের আগুনে পুড়ে যায় অভিমান ,পুড়ে যায় দণ্ড ,

ডুবে যায় সুখ পারিজাতের নম্র পত্রের ভাষা

নিজ সুখের সূর্যরশ্মি দিয়ে

তোমার মায়ার পাথর পুড়িয়ে দিয়েছি আমি ।

এই অঙ্গের সাথে পৃথিবীর মিল বড় অমিল

কটুকথা ,অপমান ,অবহেলা আমায় কিনেছিল দুবেলা

ক্ষমা করো ,ক্ষমা করো ,ক্ষমা করো নিয়তি মোর।

কোন পাপী মহাজনের দলিলের দাখিল নেব ভেবেছিলাম

মৃত্যুর পরেও মৃত্যু আমাকে মেরে ফেলে বারবার ।