Sunday, August 1, 2021

পান্থ দাসের দুটি কবিতা

   সুখ


কি এই সুখ ?

যেন হাজারো নিস্তব্ধতা বর্তমান,

অসংখ্য আলোর প্রতিফলন

যেন ভ্রাম্যমান,

বিষয়টা হল, 

আদৌ কি আমরা সুখি ?


গভীর অরণ্যের 

যেন বিশাল গাছালী

উঁকি দিচ্ছে,

পাহাড়ের মাঝে

হাজারো গোলাপের ঘ্রাণ 

যেন কিছু বলছে,

প্রজাপতি তার রূপালী প্রদর্শন

করে চলছে,

তবে বিষয়টা হল,

আদৌ কি সে সুখি?

________________________________


সোয়েটার

       

ভাবনা শুধুমাত্র এক,

তবে তাঁর ব্যাখ্যা অনেক,

সময়ের সাথে সাথে

সব পরিবর্তনশীল,

তবে কেন,

অসহায়দের দিন আলো হীন?


শব্দ সাধারণত একটি,

যেথা সোয়েটার ৷

শীতে কেউ তাতে গা ঢাকে,

আবার কেউ তাতে তাঁর আশা ঢাকে !


চলো হই আজই সামিল 

এক অভিনব প্রয়াসে,

থাকবেনা কোন বেদনার সুর

থাকবেনা কোন অসহায়

তার স্বাভাবিক প্রাপ্তি থেকে দূর ৷

আবদুস সালামের একটি কবিতা

নষ্ট


নষ্ট পাড়ায় ঘর বাঁধতে মানা নেই

এখানে কেউ খুঁত ধরেনা

নষ্ট মানুষের দলে দিব্যি বিন্দাস দিনযাপন

পাঁকের ভিতর পাঁকাল মাছের সংসার 


প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে যায়

আনন্দ বাগানে ঝুলে আছে মাকাল ফল

পূর্ব পুরুষেরা ইতিহাসের মলিন পৃষ্ঠায় এঁকে রেখেছে রক্তের জলছবি

মরণের যন্ত্রণারা রোজ এসে চুমু দেয়


ছেঁড়া নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে যায় অবিশ্বাস

বিশ্বাস লুন্ঠিত হয় রোজ

ইতিহাসের দলিল গুলো ভেসে গেছে সময়ের নদীতে

নষ্ট পাড়ায় বিষাদ মেখে দহনেরা বেঁচে থাকার রেওয়াজ করে


রঙিন মানুষেরা শোনায় অধর্মের গান

ধর্ম ব্যাবসায়ীরা ধর্মের সাথে অফার করে বিদ্বেষ

আমরা মেতে উঠি

নষ্ট পাড়ায় নষ্ট প্রজাপতিরা আসে

নষ্ট ফুলে মেখে দেয় নষ্ট প্রেমের মুদ্রিত কলরব

মীনা সাহার একটি কবিতা

 আলোকিত অভিসার


ফুল জোছনায় আলোকিত দিগ-দিগন্ত চরাচর

ভালোবাসা পেলে হৃদয় রঞ্জিত মেঘ-মল্লার রাগে

মনের একান্তে মনোভূমি জুড়ে হৃদয়-পাপড়ি খোলে বরাবর

ভিজে ভিজে বর্ষা-বসন্ত চির-যৌবনা প্রকৃতি জাগে


মন-ময়ূরী উছলে নাচে হৃদয় দুয়ার খুলে

প্রকৃতি-প্রেমে মগ্ন তনুমন ঝুম ঝুম বৃষ্টি-নূপুরে

নদীও উতলা আপন বেগে ছুটছে দুলে দুলে

ফুলের মতই জোছনা ঢালে চঞ্চল হৃদয় জুড়ে


 সুরে সুরে ফুলে ফুলে এ হৃদয় মধু করে পান

ভ্রমর ছুটে যায় মৌ-পিয়াসে মধু আহরণে

হৃদয় ও ফুল মত্ত অভিসারে করে চলে মধু স্নান

স্বপ্ন ছুঁয়ে যায় আকাশের বুক মুগ্ধ সমীরণে


কুসুমিত হৃদয়ে হৃদয়ে গাঁথা হোক প্রেম-মালা

অস্থির ধরণী শান্ত হোক জুড়াক যত জ্বালা


জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ের একটি কবিতা

 দীর্ঘশ্বাস


তোমার আমার মাঝখানে দূরত্ব ততটুকুই যতটুকু ওপরের ঠোঁট থেকে নীচের ঠোঁট, 

রোদ্দুর আর ছায়ায় আমাদের প্রেম ভীষণ মাখোমাখো

চোখের আড়ালে স্বচ্ছন্দে আমাদের যাতায়াত

আকাশের চোখ চিরে নেমে আসে প্রেম

অনর্গল চিবুকে চুমুপাত, অজ্ঞাতবাসে

শুয়ে থাকে শরীর, শুয়ে থাকে আগুনমর্মরে

জীবিত দীর্ঘশ্বাস।। 

সুস্মেলী দত্তর একটি কবিতা

 রতি


কবিয়ানা ঢাকি শূন্য গভীর ক্ষতে

চাঁদ তারা ফুল জোনাকির মজলিশ

নিখাকি বিরহ বেনোৱাত নিশিডাকা

থইথই দেহ আমাকেও কিছু দিস


দিয়েছি ছুঁয়েছি অভিমুখ চোরাস্রোতে

দিগন্তছায়ে হাতমিথুনের নেশা

ফুট কাটা মন কিশোরীর চপলতা

ব্যাপক দহন মঘা আর অশ্লেষা


তারায় তারায় ধুত্তেরি আঁটকুড়ি

থালায় কাঁদছে আবছা সফেন ভাত

ব্যঞ্জন সখা শঙ্খিনী সমারোহে

তবুও দুপুর বিকেল সারাটা রাত|

গোবিন্দ মোদকের একটি কবিতা

 আগুন, কাঠ আর অন্ধকারের গল্প



সেটা ছিল একটা অন্য গল্প।

আগুন, কাঠ আর অন্ধকারের গল্প ---

যে গল্পে অন্ধকার ঘনালেই 

একটা অলৌকিক জলযান এসে

নোঙর করতো মাঝদরিয়ায়। 

কিছু আগুনখেকো পতঙ্গ

তুরীয়ানন্দে সাঁতার দিতো লক্ষ্য স্থির রেখে। 

ওদিকে শুকনো কাঠ আর দাউ দাউ আগুনের 

সে কী ভেল্কি ! 

এ আঙুল দেখায়, তো, ও চোখ ঠারে !

তারপর এমনি করে নীলচে হয়ে আসে রাত্রির শরীর, 

থিতিয়ে পড়ে অন্ধকার, 

শিরা জুড়ে তখন তৃপ্তির উন্মাদনা ... 

একটা স্বস্তির ঘুম। 

তবে এটা কোনও ঘুমের গল্প নয় ;

এটা একটা কাঠের গল্প, কিছুটা আগুনের গল্প,

আর বেশিটা অন্ধকারের .....

শ্যামল রায়ের একটি কবিতা

 অনেক কথা, শুনবে কখন?



আমার কাছে ,তোমার অনেক কথা

                                শুনবে কখন?

                                   জমাই থাক!

আমার কথা, তোমার বলার কথাই

মিল-অমিলের শুধুই স্মৃতি

গল্প বানায়, কবিতা হয়,

                      এসব শুনবে কখন?

                                  জমাই থাক!

                                    কথায় থাক

                                  মনেই থাক।।

ভালোবাসা গুমড়ে কাঁদে, কষ্ট হয় শুনবে কখন?

অনেক কথা, আমার কথা ,

কখন খেয়াল রাখবে? 

                                এসব কথা


                                   জমাই থাক  

                                  মনের মাঝে।                                                      

                                                           

                                                               

                                                    শুধুই স্মৃতি হয়ে।

তুমি ব্যস্ত, তোমার কথাতেই

আমি শুধু হারিয়েই যাই----

খোঁজ না পেয়ে।

তুমি নিকট ছিলে

এখন কেন ,অনেক দূরে?

নেইকো কথা, এখন কেন?

কথা যেন হারিয়ে যাচ্ছে---

আঁকাবাঁকা পথ গুলো ধরে!

শুধুই দাগ , মনটা জুড়ে

এসব কথা শুনবে কখন?

কথাতেই থাক

জমাই থাক।।

পারলে তোমার কথাগুলো

আমায় দাও সকালবেলায়

কথায় রেখে, স্বপ্ন দেখাও

কুয়াশা সরিয়ে শুধুই থাকো

""জুঁই ফুল'' জুঁই ফুলে।

জয়তী দেওঘরিয়ার একটি ছড়া

 বন্ধু মানে

     

বন্ধু মানে , শৈশব পাওয়া

          আনন্দে মাতোয়ারা,

বন্ধু মানে, গল্প-আড্ডা

           খুশিতে মন ভরা।

বন্ধু মানে, ঘোরা-ফেরা

         দেদার খাওয়া-দাওয়া,

বন্ধু মানে, হৈ-হুল্লোড়ে

          উজান স্রোতে বাওয়া।

বন্ধু মানে, বাড়িয়ে দেওয়া 

       শপথের হাতখানি,

বন্ধু মানে, যত্নে ভরা

         বন্ধুত্বের ডালাখানি।

বন্ধু মানে, অসময়ে

        পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি,

বন্ধু মানে,হাতে হাত রেখে 

স্বপ্ন পূরণের জ্যোতি।

বন্ধু মানে, সকাল বিকাল 

        শুভেচ্ছা বিনিময়,

বন্ধু মানে, বিপদ-আপদে

          পাশে থাকার অভয়।

বন্ধু মানে, কোমল পরশ

          স্নিগ্ধ আশার বাণী,

বন্ধু মানে, পরামর্শের 

          ভরসা অনেকখানি।

বন্ধু মানে, সুখ-দুঃখের

           সাথী ওগো তুমি,

বন্ধু মানে, শত বাধার

             মুশকিল আসান জানি।

বন্ধু মানে, ছলনা নয়

           বন্ধুত্বের সাথে,

বন্ধু মানে, আশায় বাঁচি

             হাজার দুঃখের মাঝে।

                              

                            

মায়া বিদের একটি কবিতা

 আ - মরি বাংলা ভাষা

           

মধুর মতো লাগে আমার

      জন্ম দাত্রী মাকে।

আরো মধুর মধুর লাগে

        বঙগ ভাষাটাকে ।

প্রথম যেদিন ভূমিষ্ঠ হই

        ডাকি মা বলে ।

মাই শেখান বলতে বুলি

     কথা বলার ছলে।

বাংলা ভাষায় আঁকি - বুকি

           নতুন বর্ণ শেখা।

মজ্জায় মজ্জায় বাংলা ভাষা

         হয়ে গেছে লেখা।

বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি

           বাংলায় গায় গান ।

সাধু, চলিত, বিকৃত হউক

    বাংলায় আমার ধ্যান।

বাংলা ভাষা আমার কাছে

        সোনার রত্ন খনি।

(আজ ও) গর্বের সাথে অহরহ শুনি

        বাংলা'র বিজয় ধ্বনি।

নৃপেন্দ্রনাথ মহন্তর একটি কবিতা

 কণ্ঠে নেই গান



আকাশ উপুড় করে ঢালে কারা জল

শহরে ভাসছে নাও,ট্যাক্সি অচল।

এ কি পানিয়া ভরণ!


বৃষ্টিতে ভেজে মন,ভেজে ঘরদোর 

বৃষ্টি ভেজায় সমস্ত অক্ষর 

এ কি দেহাতি ধরণ?


বৃষ্টির জল জমে চোখের পাতায়

মাথাটাও বাঁচবে না ঝাঁঝরা ছাতায় 

নিঃস্ব জনগণ। 


ধুতি শাড়ি পাজামা কামিজ ভেজে ছাদে

কবিদের খাতা ভেজে খসে পড়া চাঁদে

ভেজে প্রতিটি চরণ।


বেহায়া বাতাস এসে এলোমেলো করে

কোনো আবরণ তো ছিল না অন্তরে 

তাই রক্তক্ষরণ। 


আমার ছিল না,নেই কোনো পিছুটান 

আমার কণ্ঠে নেই বর্ষার গান

যা হৃদয়হরণ।

চিরঞ্জিত ভাণ্ডারীর একটি কবিতা

 ধান পাক্যেছে মাঠে


আঘন মাসট সিমেই গেল মাঠ ভরেছে ধানে

হুদকে উঠে পরাণট মাইরি চিবাই মিঠা পাতি পানে।

কামার ঘরে আনলম পাঁজাই কাস্তাতে চাঁদ হাসে

পাঁকাল ধানের গন্ধটা আজ গোলাপ হয়ে ভাসে।

যুত্যাই লিলম গরুর গাড়ি সাথে হিলা বাড়ি 

গিলাস ভরে লিব গিলে টাটকা খেঁজুর তাড়ি ।

চল বউ চল কাইস্তা হাতে ধান পাক্যেছে মাঠে 

যাবার পথে জল খাব ঐ শালুক ফুটা ঘাটে ।

পান সুপারী দক্তা বিড়ি বাঁধ গো শাড়ির খুঁটে

চাল সিজাতে কাঁচা লঙ্কা পিয়াজ লিবি কুট্যে ।

সোনায় ভরা ক্ষেতের মাঝে তুকে সুহাগ দিব ভরে

বলবি খুল্যে পরাণের কথা মুর হাতটি ধরে ধরে।

কেঁথা কাঁটার চিরুণ করে আঁচড়্যে দিব চুইল

মাথার খোঁপায় গুঁজ্যে দিব লাল গেঁদারই ফুল।

কলমিলতার লুপূর দিব,কানে অপরাজিতা দুল

কাঁইচ-ফলের টিপ পরাত্যে করব না গো ভুল।

ধান কাটত্যে পিরাই যাবেক আস্ত একটা দুপুর 

মনটা ভালো করার লাগ্যে দিব আড়বাঁশিতে সুর।

গুটাই লিয়ে কাজকম্ম ফিরব সাঁঝের বেলা

দেখব আসে হাসছে বেদম সাঁঝ প্রদীপের আলা।

লাল মাটিট সুহাগ ঠাসা আমরা রাঢ় বাংলা বাসি

উঠান ভরা পুন্নিমা চাঁদ বেদম ভালোবাসি বেদম ভালোবাসি ।



সত্যেন্দ্রনাথ পাইনের একটি কবিতা

 সব জায়গায় ডাক্তার লাগে না 


    বাড়িতে প্রসুতি! 

এ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে

 এক্ষুনি ডাক্তার চাই। 

লেবার রুমের দরকার। 

নর্মাল বা সিজার (যাই হোক লাগবে)! 


সন্তান জন্ম নেবে 

সে পুরুষ কিংবা নারী

যে কোন লিঙ্গের হতে পারে। 


মানুষ হোলো কিনা--

কে দেবে উত্তর! 


মানুষ হতে যে এ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, নার্সিং হোম

 কিংবা টাকার প্রয়োজন নেই। 


চাই শিক্ষা, চাই মানবিকতা

চাই পারিবারিক শিষ্টাচার

চাই শালীনতা, চাই অপরাধ বোধে

নিজের প্রতি বিদ্বেষে

একটা স্বচ্ছতা আনার বোধ

হয়তোবা আরো আরও কিছু। 


মানবিকতা কেনা যায় না। 

বিক্রিও হয়না কোথাও। 


শিখতে হয়। 


মানবিক হতে হয়। 

যে সন্তান জন্মালো

তার দোষ নেই। 

তাকে মনুষ্যত্ব শেখাতে হবে

মানবিক করার লক্ষ্যে এগিয়ে দিতে হবে। 


মানুষ হয়েছি কিনা

 নিজেকে বারবার প্রশ্ন করতে হবে


মানুষ হতে-- ডাক্তার লাগবে না। 



তীর্থঙ্কর সুমিতের একটি কবিতা

 প্রয়োজন



আজও কোথায় যেনো

এক আকাশ বুকের হাহাকার

মাটিতে সোঁদা গন্ধ পাইনা

দিন কেটে যায়,রাত কেটে হয় ভোর

আলোগুলো ক্রমশ ...

সময় নিশানায় ঘোড়া ছুটছে

টগবগ টগবগ

বিশ্বাসে আজও চায়ের কাপটা

ডিসে বসানো

না হয় সারা আকাশ জুড়ে একটাই নক্ষত্র থাকুক


সুভাষ - আজ তোমায় বড় প্রয়োজন।