Monday, August 9, 2021

কবি শ্রাবণী মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 প্রিয়দর্শীনি 
               

 ভাঙছে বুঝি মনের তীর  
লক্ষ জনে শূন্য নীড়  
উদাসী এক বাউল বাতাস 
তোমার অপেক্ষায় ।

স্তব্ধ প্রবল মন্দে মন্দে 
অভিমানীনি দুকুল ছন্দে 
বিরহবেদনা লুকায় মুখ 
শুধু তোমার অপেক্ষা ।

গুন গুন সুরে গুঞ্জরণ 
সূর্যমুখী র আচ্ছাদন 
মনোবীনায় বাজে রেশ 
তোমার অপেক্ষায় ।

উষ্ণ স্রোতে কাঁপছে শিরা ,
ধমনী ও বুঝি বাঁধনছেঁড়া 
অশ্ব খুরের তোলপাড় 
শুধু তোমার ই অপেক্ষা ।



শিরায় শিরায় বাহিত কণা 
চঞ্চলা মন আনমনা ,
ফটক দিকে নজর যেন 
শুধু তোমার অপেক্ষা ।


সূর্য কোথায় দিয়েছে ডুব ,
মেঘে পগার পার ,
রাত্রি এখনো ভীষণ কালো 
তোমারই অপেক্ষায় ।


দেখছে সদাই তৃতীয় হাত 
বিনা মেঘেই বজ্রপাত 
তড়িৎ চুম্বক কলেবর
তোমার ই অপেক্ষায় ।

নামে প্রবল জলপ্রপাত 
হাসি নিংড়ে কুপোকাত 
সিক্ত নয়নে বাঁচার চেষ্টা 
শুধু তোমারই অপেক্ষা ।


কবি ইলা চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 পরমায়ুতে


পৌঁছাবে কোন এক শূন্যে হাজার বছর পেরিয়ে!

ভাঙলো সিড়ি নিঃশব্দে নীরবে,

হিসেবের কিছু রয়েছে বাকি,

 আজও দিনমান অপেক্ষায় থাকি!

যাক স্তব্ধ হয়ে এ জন্মের মত,

রইল কিছু চাওয়া পাওয়া।

দুটি চোখ ঢেকে রাখি।

উজ্জ্বল যা কিছু আজ ম্রিয়মান।

যন্ত্রণার আয়ু বুঝি পরমায়ুতে।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 ছায়াপথে বিরাজিত



সব শব্দগুলো লিখবার জন্য শব্দ হয়নি

সব হিসেবগুলো হিসেবের জন্য জন্মায়নি,

সব কথাগুলো বলবার জন্য ঠোঁটের ওপর ভেসে ওঠে নি

সব অনুভূতির চারাগুলোতে নাড়া দিলেও তা বৃক্ষ হয়ে ওঠেনি,

সব স্মৃতির মায়া গুলো প্রেম হতে পারেনি। 


স্বপ্নের সব গল্পগুলো স্বপ্ন হয়ে আসেনি

কবির কলমে সব ভাবনা কবিতা হয়ে ভাসেনি,

আকাশের সব রং আকাশী হতে পারেনি

তবু সাত-রঙা রামধনু হতে কোন রং খসে পড়ে নি,

বহুদূর হতে ভেসে আসা সব সুর গান হতে পারেনি। 


ডানাওয়ালা সকল পাখি শেখেনি উড়বার কৌশল

কচি পল্লবে পবনে কথা হয় বিরল

প্রকৃতির সব মায়ায় সাজানো নাটকীয় রমণী

পশুদের মৃত্যুতেও কখনো কখনো ওঠে কেঁপে মানবের ধমনী। 


সব মিছিলের শেষে থাকা জনতা--

ন্যায্যতার দাবীতে ডুবে গিয়েও হতে পারেনি নেতা,

সকল সভায় হয়না সালিশি হতে পারে নালিশ;

বিচারকের আসনে বসে থাকা ব্যক্তিত্ব করে যায় বক্তব্যের পালিশ। 


এই কবিতায় কতিপয় মানুষ যদি ঘিরে ধরে আমারে

আমি শত সহস্রবার মাথা ঠুঁকিয়া সম্মান জানাই তাঁহারে,

সব নক্ষত্রের ঠিকানা আকাশের গায় নয়

কিছু নক্ষত্র এই মাটিতে গড়াগড়ি খায়,

লক্ষ্মী পেঁচার গায়ে লক্ষ্মীর ছাপ আছে তা যায় না বোঝা সহজে

অলক্ষ্যে আছে বসে পাখিদের জুটি এই বিকেল সাজে।

কবি পান্থ দাস -এর একটি কবিতা

  যাত্রী


মনে হয় প্রাণ এক

দূর স্বচ্ছ সাগরের কূলে

নিয়েছিল কবে জন্ম !

তা যেন আজ 

মৃত্যুহীন, জন্মহীন, চিহ্নহীন ৷


এসেছি কাকে চেনার জন্য !

পৃথিবীকে ? আকাশকে ? বৃষ্টিকে ?

নাকি সর্বশক্তিমান সূর্যকে ?

বস্তুত এসেছিলে

শুধু চিনতে মনুষ্য প্রকৃতিকে ৷


সৃষ্টির পূর্বে ছিল শুধু

এক অপরিণত মন,

পরিণত হল তা

ধরার এক অমূল্য রতন ৷


রজনীর দিকে মন 

যেতে চায় প্রেমে,

তবে অবচেতনে তা চায় 

যাত্রী হয়ে ৷

কবি মীনা সাহা -এর একটি কবিতা

 বিষাদের ঢেউ



যুগান্তের অন্ধকার মেখে ফিরে যায় প্রেমিক পুরুষ

পড়ন্ত বিকেলের সে রোদ ছুঁয়ে যাচ্ছে অগণিত ঢেউ

পথের ভুলে মরু-প্রান্তর সেজেছিল জলাভূমি

শুকনো পাতার ঝরেপড়া শোকে আহত পাখি ডেকেছিল বনে

রাতের ভাষা নীরব হলে একাকী রাত বলেছিল কথা

দিনের আলোয় ভিজে ভিজে তারাদের বাতি জ্বলেছে কি আজ

ভুলেও বেহাগ ব্যথা জানা হবে না তো কারো

বিষাদে বিষাদে কেটে যাবে শোক

তারার ভাষা হয়েছে আজ নীরব হাজার কথার ভিড়ে

শুধু আলোর বাতিতে সেজে সেজে

অতলান্ত ভুবন দেবে সে পাড়ি

মিটি মিটি আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে ....

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 মহানির্বান



হাওয়ায় রোজই পাক খেয়ে যায় রাতের পাতার মোহ,ঘুমতে চেয়ে কেউ কেউ তাই 

অন্ধকার বালিশে করে জড়ো

পান্ডুলিপির ভেতর জুড়ে কতো

শব্দেরা করেছে পায়চারি

অজস্র ক্ষত চিবুক শুধু জানে

পাহারায় ছিল অযূত নখ দাড়ি

পুড়িয়ে ফেলে বধির জ্ঞানে

ভেতর জুড়ে অনেক নদীর খেলা

আকন্ঠ এক ছন্দে ডোবানো চোখ

পাক খেয়ে ওঠে মুহুর্ত আর বেলা

মেঘের খাঁচে পর্দা এঁকে দিলে

দিনরাত্রি শিরায় শিরায় নামে

অহংকার ও পুড়িয়ে মারে গাছ

অমাবস্যা শূন্য জানলার কাচে

কেমন করে পাতার পর পাতা

জ্যামিতির ঘর চাঁদা মেপে মেপে

বুকের ভেতর দুর্বলতা সয়ে

মহানির্বানে চোখ গিয়েছে ঢেকে।। 


Sunday, August 8, 2021

কবি সুস্মেলী দত্ত -এর একটি কবিতা

 ঝোঁক



পাতার পর পাতা মাঝের কিছুদিন সভ্য ঘুমচোখে শান্তিভাব

রাত্রি গাঢ় তবু এ হেন শৈশব ঘাঁটছে অ্যালবাম বাস্তুসাপ


ফুটকি বাড়িঘর নদীরা হাত নাড়ে লাজুক পাতা আর আগুন শব

প্রতিটিক্ষণ জানে আসলে হিজিবিজি মধুপে রমনীয় আস্ত ঢপ


ফালতু জেগে থাকা নাছোড় মলমাসে বৃত্তে এককোণে শুকনো বিষ

জীবন চেটে খাই ব্যস্ত রাজপথে ঘুরছি এলোমেলো অহর্নিশ


যেভাবে শেষ শুরু বাড়ছে বুনো ঝাউ দেহাতি একমনে শুনছি গান

উল্টো হাত মুছি ভাবনা নীলাকাশ স্বপ্নে আনমনে অনির্বান


অথচ সামাজিক অথচ ক্রমাগত অথচ রাত দিন আয়ুক্ষয়

ব্যাপক লেখালেখি ব্যাপক বারোমাস ব্যাপক কবি কবি গল্প নয়।


কবি শ্যামল রায় -এর একটি কবিতা

 ভালোবাসা ঘূর্ণায়মান হয়না



বেঁচে থাকা আর মৃত্যু সংযুক্ত করতে করতে হেঁটে যাচ্ছি

কখনো রোদ্দুরের ভেতরে বা কখনো বৃষ্টির ভেতর

এইভাবে এলোমেলো হয় মন

তবুও পড়ার টেবিলে তোমার চোখ

আমাকে ভিজিয়ে দেয় উষ্ণতা দেয়

এইসব কথাগুলো লাট্টুর মত ঘুরপাক খেলেও

আনন্দ এলে ভালো লাগে, আবার যন্ত্রণার মধ্যে

মৃত্যুটার রকমভেদ উঁকি মেরে যায়

এখানেই জীবনের উতাল পাতাল।

জীবন তো শরীরের এক-একটা কোষ

এক-একটা সুতোর মতো জীবনযাপন

পরিক্রমা হয়, ভালোবাসাবাসিতে।

জীবনের নানান কথা অক্ষরে অক্ষরে পরিধি গড়ে

সম্পূর্ণ হয়, নিটোল একটা জগতের কথা।

নিঃশ্বাস ফেলি, আলোকিত কথার শব্দে শব্দে

তুমি অন্য পথে হাঁটলে, হোঁচট খেতেই হবে

গোপন থাকে না কোন কিছু, আমার ভাবনাগুলো

তোমার কাছে স্পষ্ট হলেও আমি বুঝি

তুমিতো নতুন তুমি, হারানোর যন্ত্রণা থেকে

তুমি পুষ্পে পর্নে পূর্ণ থেকে যেও

আমি ঘুমাতে পারবো সারাটি রাত।




কবি জয়তী দেওঘরিয়া -এর একটি কবিতা

 টুকু ভাইবে দ্যাখো 


হ্যাঁ গো বাবু,তুমরা শহর থাইক্যে আইসছ?

কীসের লাইগ্যে?কী নাই তুমাদের ঐ শহরে?

সিখানে বিজলি বাতির ঝলকানি আছে,

রকম রকম বাড়ি আছে,গাড়ি আছে,

রকমারি খাবার আছে, লতুন লতুন পিরহান আছে,

খেলা আছে, মেলা আছে

তবে কীসের লাইগ্যে আইস বারে বারে?

ও..হ..ও বুঝেছি, তুমাদের উঠেনে 

সবুজ মাঠ নাই, বন নাই,

উঁচা উঁচা টিল্ হা নাই,কুয়াশ ঢাকা 

খাড়া পাহাড় নাই!

ঝর্ণার ঝর-ঝরানি নাই    

বনে -বাদাড়ে পাইখ-পাখালির 

কিচির-মিচির শব্দ নাই।

ছাড়া গোরু নাই,মোইষ নাই

বাঘ-ভালুক-হাতি নাই।

আর থাইকবেকেই বা কী করে বল?

তুমরা কী আর সেই অবস্থা রাইখেছ? 

তুমরা হইলে শহরের বাবু লক,সইভ্য মানুষ!

গাছ কাইট্যে,গাড়্ হা ভাতাঞ্ বাসা বনাও

একেবারে ঝকঝইকা-চকচইকা।

কালো ধুঁয়ার বিষে লীল আকাটকে দাও ঢাইকে।

আর শ্যাষকালে টুকচা ফেরেশ হাওয়া খাইতে। 

আনখাই ভীড় কইরছ হামদের দ্যাশে।

আর হামদের লেল্ হা ভাইবে  

কতকিছু যে লিলে কাড়্ হে

তা বুইঝবে ক্যামনে? 

তবে সত্যই হামরা লেলহাই বঠি ,

পহিল পহিল নাই বুঝি বাপ।

শুনলি হামদের পাহাড়ে ন'কি

ফ্যাক্টিরি হবেক।

বিদেশি বাবুরা কী এক'ট বনাবেক।

যে'ট পৃথিবীর মইধ্যে সেরা হবেক।

যেমনি বলা অমনি কাজ

হামরাও ফূর্তিয়ে লাইচতে লাগলি।

তা'বাদে যখন দেখলি একে একে

হামদের শাল গেল,পিয়াল গেল

মহুল গেল

তখন সইত্য বলছি মাইরি----

বুকের ভিতরট মোচড় দিতে লাইগ্ ল 

কাখে কী বইলব,কে শুনবেক

হামদের কথা!

'বুক ফাটে তাও মুখ ফুটে নাই।'

বাবুরা বইলতে লাইগল----

দ্যাখ্ ন ক্যামন পাল্টাঞ্ দিব ইঠিনট

রাইত'ট লাইগবেক যেমন দিন 

শ্যাষে ত'রাই চিনতে লারবি।

ত হঁ বাবু, হামরা সত্যই

  অনেক কুছু চিনতে লারছি।

সেই লিরিবিলি জুছনার রাইত নাই

জুছনা রাইতে মিঞা-মরদের সুহাগমাখা পিরিত নাই।

চাইরদিক এমন সাজন সাজাঞ্ দিল

যে হামদের শখ-আহ্লাদটুকুও 

কাইড়্ হে লিলেক শহরের বাবুরা।

এখনও কান পাতলেই শুইনতে পাই---

টুরগার কান্দ্ না,বামনীর কান্দ্ না।

বুকের উপর হাতুড়ির ঘা,গাঁইতের ঘা।

ঘায়ে ঘায়ে হঁয়ে গেইলছে 

গ'টা এক'ট দগদইগা ঘা।

এই ঘায়ের কন্ হ মহলম নাই!

সত্য কইরে বল'ন বাবু----

হামদের ই দ্যাশ'ট যে পাল্টাল 

ত তাথে হামদের কী লাভ হইল?

হামরা ত এখনও সেই তুমাদের 

আইঠ পাত উঠাই শুধু দু'টা

ভাতের লাইগ্যে।

কত বাবু-বিবি গাড়ি কইরে আসে,

খিচিক খিচিক ফটক তুল্ হে,পলাশ গুঁজে

আর ধুলা উড়াঞ্ চইলে যায়। 

একবার ভাইলেও দ্যাখে নাই হামদের দিকে!

এক'ট ন'য়াও জুটে নাই হামদের কপালে। 

তবে কীসের পরিবর্তন?কীসের সভ্যতা?

সবাই ত দেখছি লুঠেরার দল

হামদের বুক চিরে সব রস নিঙাড়্যে নিয়ে

গুছাছে নিজেদের আখের। 

টুকু ভাইব্যে দ্যাখন বাবু-------

কথাগিলান কি হামি মিছা বললি?

কবি মায়া বিদের -এর একটি কবিতা

 দুঃখকে কর জয়



দুঃখ আমার এতই আপন

         আমি দুঃখকে ভালবাসি।

দুঃখের নৌকায় করি ভ্রমণ

           সুখের নেশায় ভাসি।


নদীর বুকে জোয়ার - ভাটার

        চলছে খেলা অবিরাম।

সুখ-দুঃখের গাড়ির ছোটার

         নেই কোন বিরাম।


রাশি রাশি দুঃখের মাঝে

    আসে তাৎক্ষণিক সুখ।

শত দুঃখ গ্লানি ও বোঝে

          দুঃখী জনের মুখ।


সুখের নেশা বড়ো নেশা

      খুঁজতে হলে পরে।

দুঃখের উপর রেখে আশা 

         চলবে মনের জোরে।

কবি চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী -এর একটি কবিতা

 পায়রা,টঙ ফিরে না


পূর্ণতা মাপতে গিয়ে গভীর, এক শূন্যতা

বুকে চাপা- দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হাঁটছে পথ ,

ঠিক যেন পঙ্গপালের করাল গ্রাসে সবুজপাতার আর্তনাদ ।

বাড়ি? সেতো বটবৃক্ষের ছায়ার মতো স্নিগ্ধ আঁচল

মাঝে মাঝে দুটি পায়রার ক্ষণিক ঝগড়া

বিরতিতে অবিরত,ডানা থেকে ঝরে পড়া

শীতের রোদের মতো মিঠে জোছনা পরাগ ।

অথবা পুঁইয়ের সবুজ ছুঁয়ে দুটি চুড়ুইয়ের ঘুনসুটিপনা

চোখে সম্পৃক্ত হারিয়ে যাবার হরিৎ-নেশা।

বেশ ছিল সাতফুলে সাজি ভরা প্রজাপতি দুপুর

অভাবি কলসির কানা উপচে প্রীতি ঋদ্ধ সংলাপ

হৃদয়ে হৃদয়ের অনুভবে লেখা কিছু জীবন্ত কবিতা ।

মাটিতে পা রেখে কুড়ানো যায় চাঁদের বিমোহিত সুঘ্রাণ

আকাশে দাঁড়িয়ে কখনো কি পান করা যায় হরিৎ-মদের গ্লাস?

যে উঁচুতে উঠতে গিয়ে মাটিকে ছুঁতে পারে না আঙুল

তার হৃদয় স্পন্দনে বাজে কি বল প্রেমের সুর?

বড়,মস্ত বড় হতে গিয়ে উঠোন ছোটো ছোটো

ঝাঁটার বাড়ি খাওয়া পায়রা ভুলেও,টঙ

ফিরে না ফিরে না হায় কক্ষনো ।

কবি সত্যেন্দ্রনাথ পাইন এর একটি কবিতা

 মধ্যবিত্ত


অভিশাপে নাকি গরীব জন্মায়

            আর

    আশীর্বাদে জন্মায় ধনী

মধ্যবিত্ত কেমনে জন্মায় জানো নাকি কেউ

    সব ব্যাপারে সবখানেই যে ঋণী! 


গরীবের আছে সরকার পাশে

    আছে কিছু অন্নদাতা

ধনীর আছে অঢেল অর্থ, খাদ্য উদ্বৃত্ত

  আমলা আইন বিধাতা। 


গরীবের নাকি শিক্ষা কম তাই

       মানের বালাই নেই। 

হাত পেতে নেয় ত্রাণসামগ্রী

       বাঁচার আশাতেই। 

ধনীর আছে প্রাণভ্রমরা যুগ হতে যুগান্তরে

      মধ্যবিত্তরা বুকে চেপে রেখে

          সদাই কেঁদে মরে। 


ও হোলো গরীব, তিনি হলেন ধনী

      রইলে পড়ে তু -- মি----

বাড়িতে বসে বাজাও বেহালা

       দুঃখটারে চুমি। 

তোমার জন্যে আছে নিস্তব্ধ আকাশ

 আর কিছু মিথ্যে আশ্বাস

তাই প্রাণপনে ডাকো পরমেশ্বরে

       যদি থাকে বিশ্বাস।। 


ঘরখানা ছেড়ে, যাবে কোথা কাজে

 বন্ধ সবই ' লকডাউনে'

বরং উদাস চোখে স্ত্রীর পানে চেয়ে

       কাঁদো-- কাঁদো প্রাণপনে। 


      তুমি না মধ্য বিত্ত

     কোথায় তোমার স্থান? 

তারচেয়ে, উচ্ছিষ্ট অন্ন তুলে নাও মুখে

           ওটাই তোমার প্রাণ।। 


     ওরে মধ্যবিত্ত !

     কেন করিস চিন্তা তবে

রাত পোহালেই তো সূর্য উঠবে ভবে। 

নাইবা কেউ ডাকলো তোকে

   মনের একতারাটা বাজা

অপূর্ব এক প্রসন্নতা পাবি

 তুই হবি রাজার রাজা।। 



কবি তীর্থঙ্কর সুমিত -এর দুটি কবিতা

 শহর সাজ


কয়েকটা হাত এগিয়ে যাচ্ছে

কয়েকটা মুখ বদলে যাচ্ছে ক্রমশ

সভ্যতার চাদরে আজ

শুধুই ছবি আঁকা

নিজের মত নিজেরাই সাজিয়ে নিই

নামতার সংখ্যা

বিপুল পরিবর্তন


চোখের ভিতর চোখ লুকিয়ে

শহর সেজেছে জলসা ।                

________________________________________


জীবন কথা


কয়েকটা কথা ___

বদলে যাচ্ছে

ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে মুখ,হাত

ঠোঁটের বিবর্তন সময়ের সাথে সাথে

হয়তো এটাই

ফিরে আসা রাস্তায়

এক একটা পথ দাঁড়িয়ে

চিনতে চিনতে

নদী কথায় লিখে রাখা আছে

আমার প্রবাহিনী স্রোতের কথা


বদলে গেলেই জীবন বাঁচে।