Monday, August 9, 2021

কবি সুনন্দ মন্ডল -এর দুটি কবিতা

 বিশ্বস্ত জিজ্ঞাসা


রাতের কালো আঁধার কবে ঘুচবে?

এই প্রশ্ন

মানবিক চেতনায়।


উন্মুক্ত আকাশে জোনাকির মতো

তারারা জ্বলে

কিছুটা আশা জোগায়।


কিন্তু মানুষ বেহিসেবি

অগোছালো

বেদনায় কাতর, 

ভালোবাসায় আতর ছড়ায়।


বর্তমানের আখড়ায়

শুধুই চিল শকুনের টাটকা অভিযোজন।

তাই নিঃস্বার্থ কিছু আশা করা বৃথা

এমনকি বিশ্বস্ত জিজ্ঞাসাও মেলে না। 

----------------------------------------------------------------


             অন্তত

             ‎ 

অভিমানের চাদর

সরিয়ে রেখে ফিরে এসো অন্তত।

একবার ভালোবেসে দেখো

জীবন সত্যের সন্ধান পাবে।


লুকিয়ে লুকিয়ে কখনো বাঁচা যায় না

থাকে না বিলাসিতা।


জিজ্ঞাসু মনে কখনো 

সত্যানুসন্ধানী হওয়া যায় না।


তাই অভিমানটাই সরিয়ে রাখো।

হাত বাড়িয়ে ফিরে এসো অন্তত

অভিমানী,

শরীর ত্যাগের আগে মন থেকে ত্যাগ করো জঞ্জাল।

কবি অমিত পাল -এর একটি কবিতা

 বেকারত্বের কর্মফল

                    


বিষন্ন গ্লাসে বিষাদ পানীয়

রাত্রির মৌনতা করুণা চোখ নিক্ষেপ করে৷

আচ্ছা, বরবাদেরও তো একটা সীমানা আছে!

আর কত, আর কত?


মাদক তো মোহের বস্তু 

বিরহকে ঢেকে রাখার শামিয়ানা এটা নয়,

সেটা তো---- হৃদয়ের চাপানুতর আর্তনাদ৷

আর, আর...


নিভৃত চোখেও বেকারত্বের ছাপ,

বিরহ তো আমার বেকারত্বের কর্মফল৷

তবুও পাশে থাকার হুমকি কই?

শুধু নীরব চোখে দাঁড়িয়ে আমার সর্বনাশ৷

কবি স্বাগতা দাশগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 হে পলাশ


ইঁট কাঠ পাথরে

ধোঁয়া মাখা শহরে

চেয়ে আছে রক্তিম নয়নে 

শুধু একটি পলাশ।

আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকার পাশে

কোন্ জীবন রসের আশ্বাসে-

আজো তুমি মাথা তুলে-

উদ্ধত পলাশ!!

উদ্ধত তোমার ভঙ্গিমা

পত্রহীন উজ্জ্বল রক্তিমা-

নর-নারী মনে তবু

জাগে না যে শিহরণ..

এখানে নবীন আয়োজন 

নিত্য নব প্রয়োজন

পরশপাথর হাতে বসন্ত বন্দনায় --

বৃথা তুমি পরবাসী হে পলাশ।

কবি ইউসুফ মোল্লা -এর একটি কবিতা

 প্রকৃতি


তোমাকে জেনেছি আমি ঝর্ণার মাঝে,

ঝর্ণা যেভাবে পাহাড় বেয়ে নদীতে গিয়ে মেশে।

তোমাকে জেনেছি আমি অরণ্যের ভিতরে,

অরণ্য-এ যেভাবে পাতারা ঝরে ঝরে পড়ে।

তোমাকে পেয়েছি আমি আকাশের মাঝে,

যেখানে নক্ষত্রেরা ঝলমল করে তোমার সাথে।

তোমাকে খুঁজেছি আমি নদীর কাছে,

নদীরাও গল্প করে আমার সাথে।

তোমার চুল পড়ে ছিল পিছন দিকে,

যেভাবে ঝর্ণারা পাহাড় বেয়ে নদীতে গিয়ে মেশে।


কবি সর্বাণী ঘড়াই -এর একটি কবিতা

 আয়ুতে ভরেছি রঙ


 মনের উচ্ছলতায় ভরেছি

             রঙ

লাল নীল গেরুয়া সবুজ


কোথাও ভরিনি সাদা 


সে তো জন্মগত অধিকারে পেয়েছি আত্মায়।


সূর্যের ঔরসে গায়ে মেখেছি রামধনু রঙ 

উজ্জলতায় ঢেকেছি শরীর

মনের রঙ উড়িয়েছি

 আকাশে বাতাসে প্রকৃতির মাঝে


যদি ঘাস ফুল হয়ে বেঁচে থাকি হাজার আয়ু নিয়ে


ধূসর ঝরা পাতায় মিশে যাক সাদা ছাই ।


লাল নীল সবুজের খেলায় জীবন জোয়ারে ভেসে যাক অস্থি কলস।


জন্ম মৃত্যুর ব্যবধানে সাদা রঙে বেড়ে যাক পৃথিবীর আয়ু।

কবি মানসী ঘোষ -এর একটি কবিতা

 আরো হাসতে হবে, আরোও বেশি বাঁচতে হবে


আমি আমার এই হাসিটুকু সবদিন বজায় রাখতে চাই ,আসলে তা আমার স্বভাবসিদ্ধ। চাইলেও বাদ দিতে পারিনা।

আমার অভাবেও আমি নিরন্তর হাসতে পারি, তাতে তুমি আমায় "অদ্ভুত মানুষ" আখ্যা দিতেই পারো।

আবার যদি কখনো বন্ধুত্ব নামক এই ব‍্যখ‍্যাতীত সম্পর্কের কাছে তীব্রভাবে ঠকে যেতে হয়, তবুও এই হাসিটুকু থাকবেই, তাতে তুমি আমায় ভাবলেশহীন বলতেই পারো।

অথবা যখন আমার প্রাক্তণ এর কথা বলবো কিংবা তার সাথে আমার বিচ্ছেদের কথা ওঠে কখনো তখনও এই হাসিটুকু রাখবো, একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস হয়ত থাকতেও পারে, কিন্তু তার মাঝে আমার হাসিটুকু হারাবেনা, বরং হাসির মাঝে দীর্ঘশ্বাসটা হারিয়ে যাবে। এতে তুমি আমায় হৃদয়হীন বলতেই পারো।

আবার ধরো যদি আমার কোনো প্রিয়জনের মৃত্যু হয় সেই মুহূর্তে কান্নার মাঝেও, আমি তার সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে একবার নিশ্চই হাসবো। তুমি এতে আমায় নিষ্ঠুর বললেও বলতে পারো।

আর যদি জীবনের এই হার -জিত এর বন্ধুর পথে কখনো হেরে যাওয়ার সম্মুখীন হতে হয় , তখনও এই হাসিটুকু বজায় রাখবো তাতে আমায় দায়িত্বজ্ঞানহীন বললেও ক্ষতি নেই। 

আর যখন আমার মৃত্যু খুব কাছাকাছি তখনও এই হাসিটুকু থাকবে।

আসলে সবকিছুতে হেরে গেলেও নিজের কাছে যে হারতে নেই, 

আর এই হাসিটুকুই আমায় অদ্ভুত এক প্রাণশক্তি দেয় আবার জিতে যাওয়ার, আবার বেঁচে ওঠার, আবার এক নতুন প্রারম্ভের। এই হাসি কান্না , সুখ দুঃখের নীলগ্রহে যে হাসিটুকু রাখতে পেরেছি তা অনেক বড় প্রাপ্তির।

কবি শ্রাবণী মুখার্জী -এর একটি কবিতা

 প্রিয়দর্শীনি 
               

 ভাঙছে বুঝি মনের তীর  
লক্ষ জনে শূন্য নীড়  
উদাসী এক বাউল বাতাস 
তোমার অপেক্ষায় ।

স্তব্ধ প্রবল মন্দে মন্দে 
অভিমানীনি দুকুল ছন্দে 
বিরহবেদনা লুকায় মুখ 
শুধু তোমার অপেক্ষা ।

গুন গুন সুরে গুঞ্জরণ 
সূর্যমুখী র আচ্ছাদন 
মনোবীনায় বাজে রেশ 
তোমার অপেক্ষায় ।

উষ্ণ স্রোতে কাঁপছে শিরা ,
ধমনী ও বুঝি বাঁধনছেঁড়া 
অশ্ব খুরের তোলপাড় 
শুধু তোমার ই অপেক্ষা ।



শিরায় শিরায় বাহিত কণা 
চঞ্চলা মন আনমনা ,
ফটক দিকে নজর যেন 
শুধু তোমার অপেক্ষা ।


সূর্য কোথায় দিয়েছে ডুব ,
মেঘে পগার পার ,
রাত্রি এখনো ভীষণ কালো 
তোমারই অপেক্ষায় ।


দেখছে সদাই তৃতীয় হাত 
বিনা মেঘেই বজ্রপাত 
তড়িৎ চুম্বক কলেবর
তোমার ই অপেক্ষায় ।

নামে প্রবল জলপ্রপাত 
হাসি নিংড়ে কুপোকাত 
সিক্ত নয়নে বাঁচার চেষ্টা 
শুধু তোমারই অপেক্ষা ।


কবি ইলা চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

 পরমায়ুতে


পৌঁছাবে কোন এক শূন্যে হাজার বছর পেরিয়ে!

ভাঙলো সিড়ি নিঃশব্দে নীরবে,

হিসেবের কিছু রয়েছে বাকি,

 আজও দিনমান অপেক্ষায় থাকি!

যাক স্তব্ধ হয়ে এ জন্মের মত,

রইল কিছু চাওয়া পাওয়া।

দুটি চোখ ঢেকে রাখি।

উজ্জ্বল যা কিছু আজ ম্রিয়মান।

যন্ত্রণার আয়ু বুঝি পরমায়ুতে।

কবি সুব্রত মিত্র -এর একটি কবিতা

 ছায়াপথে বিরাজিত



সব শব্দগুলো লিখবার জন্য শব্দ হয়নি

সব হিসেবগুলো হিসেবের জন্য জন্মায়নি,

সব কথাগুলো বলবার জন্য ঠোঁটের ওপর ভেসে ওঠে নি

সব অনুভূতির চারাগুলোতে নাড়া দিলেও তা বৃক্ষ হয়ে ওঠেনি,

সব স্মৃতির মায়া গুলো প্রেম হতে পারেনি। 


স্বপ্নের সব গল্পগুলো স্বপ্ন হয়ে আসেনি

কবির কলমে সব ভাবনা কবিতা হয়ে ভাসেনি,

আকাশের সব রং আকাশী হতে পারেনি

তবু সাত-রঙা রামধনু হতে কোন রং খসে পড়ে নি,

বহুদূর হতে ভেসে আসা সব সুর গান হতে পারেনি। 


ডানাওয়ালা সকল পাখি শেখেনি উড়বার কৌশল

কচি পল্লবে পবনে কথা হয় বিরল

প্রকৃতির সব মায়ায় সাজানো নাটকীয় রমণী

পশুদের মৃত্যুতেও কখনো কখনো ওঠে কেঁপে মানবের ধমনী। 


সব মিছিলের শেষে থাকা জনতা--

ন্যায্যতার দাবীতে ডুবে গিয়েও হতে পারেনি নেতা,

সকল সভায় হয়না সালিশি হতে পারে নালিশ;

বিচারকের আসনে বসে থাকা ব্যক্তিত্ব করে যায় বক্তব্যের পালিশ। 


এই কবিতায় কতিপয় মানুষ যদি ঘিরে ধরে আমারে

আমি শত সহস্রবার মাথা ঠুঁকিয়া সম্মান জানাই তাঁহারে,

সব নক্ষত্রের ঠিকানা আকাশের গায় নয়

কিছু নক্ষত্র এই মাটিতে গড়াগড়ি খায়,

লক্ষ্মী পেঁচার গায়ে লক্ষ্মীর ছাপ আছে তা যায় না বোঝা সহজে

অলক্ষ্যে আছে বসে পাখিদের জুটি এই বিকেল সাজে।

কবি পান্থ দাস -এর একটি কবিতা

  যাত্রী


মনে হয় প্রাণ এক

দূর স্বচ্ছ সাগরের কূলে

নিয়েছিল কবে জন্ম !

তা যেন আজ 

মৃত্যুহীন, জন্মহীন, চিহ্নহীন ৷


এসেছি কাকে চেনার জন্য !

পৃথিবীকে ? আকাশকে ? বৃষ্টিকে ?

নাকি সর্বশক্তিমান সূর্যকে ?

বস্তুত এসেছিলে

শুধু চিনতে মনুষ্য প্রকৃতিকে ৷


সৃষ্টির পূর্বে ছিল শুধু

এক অপরিণত মন,

পরিণত হল তা

ধরার এক অমূল্য রতন ৷


রজনীর দিকে মন 

যেতে চায় প্রেমে,

তবে অবচেতনে তা চায় 

যাত্রী হয়ে ৷

কবি মীনা সাহা -এর একটি কবিতা

 বিষাদের ঢেউ



যুগান্তের অন্ধকার মেখে ফিরে যায় প্রেমিক পুরুষ

পড়ন্ত বিকেলের সে রোদ ছুঁয়ে যাচ্ছে অগণিত ঢেউ

পথের ভুলে মরু-প্রান্তর সেজেছিল জলাভূমি

শুকনো পাতার ঝরেপড়া শোকে আহত পাখি ডেকেছিল বনে

রাতের ভাষা নীরব হলে একাকী রাত বলেছিল কথা

দিনের আলোয় ভিজে ভিজে তারাদের বাতি জ্বলেছে কি আজ

ভুলেও বেহাগ ব্যথা জানা হবে না তো কারো

বিষাদে বিষাদে কেটে যাবে শোক

তারার ভাষা হয়েছে আজ নীরব হাজার কথার ভিড়ে

শুধু আলোর বাতিতে সেজে সেজে

অতলান্ত ভুবন দেবে সে পাড়ি

মিটি মিটি আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে ....

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় -এর একটি কবিতা

 মহানির্বান



হাওয়ায় রোজই পাক খেয়ে যায় রাতের পাতার মোহ,ঘুমতে চেয়ে কেউ কেউ তাই 

অন্ধকার বালিশে করে জড়ো

পান্ডুলিপির ভেতর জুড়ে কতো

শব্দেরা করেছে পায়চারি

অজস্র ক্ষত চিবুক শুধু জানে

পাহারায় ছিল অযূত নখ দাড়ি

পুড়িয়ে ফেলে বধির জ্ঞানে

ভেতর জুড়ে অনেক নদীর খেলা

আকন্ঠ এক ছন্দে ডোবানো চোখ

পাক খেয়ে ওঠে মুহুর্ত আর বেলা

মেঘের খাঁচে পর্দা এঁকে দিলে

দিনরাত্রি শিরায় শিরায় নামে

অহংকার ও পুড়িয়ে মারে গাছ

অমাবস্যা শূন্য জানলার কাচে

কেমন করে পাতার পর পাতা

জ্যামিতির ঘর চাঁদা মেপে মেপে

বুকের ভেতর দুর্বলতা সয়ে

মহানির্বানে চোখ গিয়েছে ঢেকে।। 


Sunday, August 8, 2021

কবি সুস্মেলী দত্ত -এর একটি কবিতা

 ঝোঁক



পাতার পর পাতা মাঝের কিছুদিন সভ্য ঘুমচোখে শান্তিভাব

রাত্রি গাঢ় তবু এ হেন শৈশব ঘাঁটছে অ্যালবাম বাস্তুসাপ


ফুটকি বাড়িঘর নদীরা হাত নাড়ে লাজুক পাতা আর আগুন শব

প্রতিটিক্ষণ জানে আসলে হিজিবিজি মধুপে রমনীয় আস্ত ঢপ


ফালতু জেগে থাকা নাছোড় মলমাসে বৃত্তে এককোণে শুকনো বিষ

জীবন চেটে খাই ব্যস্ত রাজপথে ঘুরছি এলোমেলো অহর্নিশ


যেভাবে শেষ শুরু বাড়ছে বুনো ঝাউ দেহাতি একমনে শুনছি গান

উল্টো হাত মুছি ভাবনা নীলাকাশ স্বপ্নে আনমনে অনির্বান


অথচ সামাজিক অথচ ক্রমাগত অথচ রাত দিন আয়ুক্ষয়

ব্যাপক লেখালেখি ব্যাপক বারোমাস ব্যাপক কবি কবি গল্প নয়।