Monday, August 9, 2021

কবি সুজিত রেজ -এর একটি কবিতা

 সন্তাপ



এই যে এত ভয়, শরীর-দেহ-মন, কচুকাটা 

নিত্য, ঠাকুরঘরে পঞ্চপ্রদীপ---তেল-ঘি, সলতের পর সলতে...


উপরেও যা পাবো নীচেও পাবো তা--- তবুও পটাপট কাঠি জ্বেলে,বল্কল সন্ন্যাসীর মতো দেখি

জন্ম একটা মুখোশ,মৃত্যুতে তা পোড়ে,

                            মাঝের সময়টুকু ছাগসঙ্গীত।


এই সবকিছু জেনেও লাট্টু-লেত্তি ঘুরিয়েই চলি।

বকলমে প্যাঁচ-পয়জার খিঁচে-খিঁচে মগডালে উঠে বসতে চাই।


ঠিকানা আমার লেখা হয়নি আজও 

                            বজ্রমেঘে পড়ছি তার রূপ।

খোসার কষ্ট অভিমান স্যাঁতলে ধ্রুবপদ রচনা করা ভুলে যাচ্ছি ক্রমশ। বুঝতে পারছি,

চলনবিলের নৈর্ঋত কোণে বসে থাকার দিন ফুরিয়ে এল আমার।

কবি রানা জামান -এর একটি কবিতা

 উড়াতে চাচ্ছি ছাই

 


পুস্পসম সবকিছু ভালো লাগে বেশ

পাথর পেলেই ইচ্ছে করে গুড়ো করে ফেলি

প্যাঁচার ভোঁতা নাক লম্বা করি মনে মনে

পেছনে লেজের অভাব বোধ করি মাঝে মাঝে



উড়াতে চাচ্ছি ছাই

আয়ত্বে কিছুই নাই

খুলছি জটিল গেড়ো

পাচ্ছি না কিছু টেরও


নটে গাছ মুড়িয়ে বানাবো চাঁদে উঠার সিঁড়ি

ভেজাল এড়াতে পান্তাভাত খাবো সারাবেলা

দৃষ্টি শিকলাবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় আছি।

কবি রফিকুল রবি -এর একটি কবিতা

 অস্পৃশ্য ভালোবাসা



আমি তাকালেই দৃষ্টির সীমানা হয় নীল, 

আকাশ হয় কালো। চলে রং বদলের খেলা। তোমার দিকে তাকালেও তুমি হবে বিবর্ণ!


আমি বৃষ্টি ছুঁলে হয় বরফ, 

রোদে দাঁড়ালে ঘনিয়ে আসে আঁধার, চাঁদ ধরতে গেলেই দেখায় কলংক-

আমি ধরলেই তোমার তুমি হবে

অন্ধকার!


আমি হাঁটলে মাটি পুড়ে হয় ঝামা, নদীর কূলে বসলেই ভেঙে যায়, ভেঙে যায়.. পাড়। 

তোমায় নিয়ে হাঁটবো কেমনে খসখসে রাস্তায়,

কোথাও তোমায় নিয়ে বসবো কোন ভরশায়! 

আমি হাত ধরলেই ভেসে যাবে, হারিয়ে যাবে তুমি জীবনের দুঃখ মোহনায়। 


আমার নিশ্বাসে দগ্ধ হয় বাতাস, আমার স্পর্শে সব পুড়ে হয় ছাঁই। তাই, চাইনা তোমায় দগ্ধ করতে, তোমাকে পোড়াতে, 

চাইনা তোমায় দৃষ্টির সীমানায় আনতে!

তুমি দূরে থাকো, আমার স্পর্শের বাইরে থাকো-

মহাকাল আমি তোমায় ভালোবেসে যাবো

 অন্ধ চোখে!

কবি সৌরদীপ দত্ত -এর একটি কবিতা

 দেশ মাতৃকার টান


ঐ যে সৈনিকটি দেখছেন, 

খাঁকি পোষাক পরা

 কাঁধে দেশ রক্ষার ভার

তবু মেরুদন্ড সিধে মাথা উঁচু

চোখে একটুকরো জল ।


মা বাবাকে প্রণাম করে ,

জড়িয়ে ধরলো মা-কে,

আবেগে ভেসে গেলো, মা বললো - 

তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস....

যদিও তাদের অজানা নয় যে ,

এ মায়ার বন্ধন কাটিয়ে,

 তাকে যেতে হবে দূরে,অনেক দূরে....


সীমান্তে থাকতে হবে সদা সজাগ হয়ে,

হতে হবে শত্রুর মুখোমুখি

পাশবিক পরিশ্রম করতে হবে,

এ দেহের উপর দিয়ে অনেক 

ঝড় , ভূমিকম্প, সাইক্লোন 

বয়ে যাবে।


অনেক মাস পরে বাড়ি ফিরলে

দেখা যাবে তার মন ও শরীরের 

অনেক ধোয়া - মোছা হয়েছে,

কিংবা হয়তো অঙ্গহানি।

কোনো কোনো সময় তো শেষ দেখাও,

হয়না, সাদা কাপড়ে মোড়া,

ডেডবডি আসে বাড়িতে,

কখনও কখনও তো দেহও অমিল হয় ।


এভাবেই দেশরক্ষায় শহীদ হয়েছে,

কত লক্ষ লক্ষ প্রাণ, আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে

সম্মান জানানো হয় শহীদদের

কিন্তু যে একবার চলে যায় সে যে আর ফেরে না,

মায়ের শূন্য কোল যে শূন্যই থেকে যায়।


এ কেমন টান !

মায়ের বুক থেকে ছেলে চলে যায় -

দেশরক্ষার ভার নিতে,

হাতে তুলে নেয় আগ্নেয়াস্ত্র,

এ এক বিপুল আকর্ষণ

উপেক্ষা করা যায় না এ টান,

এ যে দেশমাতৃকার প্রতি

বীর সন্তানের টান ।


কবি প্রণব দাস -এর একটি কবিতা

 গোঁজামিল

          

জীবনের কিছু অতীতের ব্যাখ্যা হয় না

ঠিক যেন মরীচিকারা অংক কষতে করেছে ভুল

মেলাতে গেলেই ‌বিয়োগ চিহ্নে দাগ পড়ে‌ যোগ হয়ে যায়।


আসলে শিমুল তুলোও‌‌ মনপাথর

গলাতে পারেনি সকলের

তাই অংক বারবার পড়ছে ভেঙে।


চেষ্টার গতিতে গোনা মাথার চুল

আরো এক গোঁজামিলের সূএ।

কবি মিলি দাস -এর একটি কবিতা

 দোষ করেছ


হঠাৎ কেন অন্ধকারে ভয় পেয়েছ

মানুষ তুমি মানুষ হয়ে দোষ করেছ?

সমুদ্রে আর জঙ্গলেতে বেশ মিলেছ

বিনা স্নানে আঁশটে গন্ধ তাও মেখেছ।


ছোবল দেবে জেনেও তুমি রাত জেগেছ

পরস্পরের আলিঙ্গনে বিষ ঢেলেছ

ঘুমন্ত সেই আলগা বুকে ঘুমিয়েছ

হঠাৎ কেন অন্ধকারে ভয় পেয়েছ?


শরৎ ভোরে শিশির পায়ে পথ হেঁটেছ

বিষন্নতার স্বপ্ন জুড়ে জাল বুনেছো

নীলচে ঘাসের ফুলের বনে তাও খুঁজেছ

এত কিছু করেও তুমি দোষ করেছ?



কবি মিঠুন রায় -এর দুটি কবিতা

 কল্পিত ইমারত 



গভীর তন্দ্রায় মিশে যাচ্ছে 

জেগে থাকার অনুভূতি, 

সিঁড়ি ভেঙে মাটি ছুঁতে চায় স্বপ্নরাশি,

বনস্থলী জুড়ে আছে এক সংকীর্ণ মেঠোপথ, 

সেখানে নেই কোন মিথ‍্যার ফুলঝুড়ি,

নেই কপটতার মায়াবী ভূষণ, 

বাতাসের গায়ে লেপ্টে আছে শিমুল তুলোর স্পর্শ।


ভোরের পৃথিবী জুড়ে বসন্তের ভালবাসা কেমন ছড়িয়ে পড়ে, 

অনুরাগে ফুলের রেণু ছড়িয়ে পড়ে নিজস্ব মুদ্রায় ,

স্তব্দ পাহাড়ের শিখরে,

মেঘের কার্ণিশে সেজে ওঠে 

সে কোন্ কল্পিত ইমারত!


__________________________________________


দিগন্ত 



প্রতিটি দুঃখের ভেতর লুকিয়ে থাকে এক চিলতে নদী,

যে নদীর গহীনে লুকিয়ে আছে অশ্রু, দুঃখের দিনলিপি।


মেদ বহুল সমাজ কলঙ্ক লেপে দিচ্ছে জীবন গাঁথায় প্রতিনিয়ত, 

উন্মনা বকুলের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে দুঃখের নির্যাস।


শুধু মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে ইতিহাস,

 রঙ-বেরঙের দিগন্ত

কবি রাজেন্দ্র কুমার মন্ডল -এর একটি কবিতা

 হঠাৎ একদিন



ধরো , আজ থেকে বছর পনেরো পর..

কোন এক গভীর রাতে পাশে রয়েছে তোমার ঘুমন্ত স্বামী।

তার চোখের আড়ালে যদি তোমার মন চায়,

তুমি খুলবে আমার হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক প্রোফাইল।

দেখতে পাবে একটা ফোকলা হাসি দিয়ে রয়েছে আমার ডিপি,

এবাউট এ দেখতে পাবে কোনোএকদিন সন্ধ্যাবেলায়

 তোমার বলা সেই কথাটি।

 আরো কতকিছু অমুক-তমুক ........

হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে দেখবে হয়ত আমার লাস্ট সিন 2 মিনিট আগে ,

তোমার হয়তো খুব ইচ্ছা করবে একটা সিঙ্গেল মেসেজ করার।

কিন্তু ভবিষ্যতের আর বাস্তবতার কথা ভেবে,

 তুমি পারবেনা মেসেজ করতে।

ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলো দেখে,

তুমি হয়তো ভাববে আমি খুব ভালো আছি।

তুমি হয়তো ভাববে তোমার থেকে অনেক ভালো একজনকে পেয়েছি।

সেদিন হয়তো তোমার একটা ফুটফুটে খোকা বা খুকি হবে,

তোমার অপত্য ও স্বামীর সাথে তুমি রাত্রিযাপন করবে।

সেদিন হয়তো তুমি, আমার দেয়া কষ্টগুলো ভেবে আমাকে 

ভোলার চেষ্টা করবে,

আমার করা ফালতু ফালতু মেসেজ গুলো পড়ে তুমি কাঁদবে।

তুমি হয়তো ভাবে আমি তোমাকে ভুলে গেছি,

কিন্তু না, তোমার আইডিটি থাকবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লিস্টে পিনে।

তোমার সামনে ফুটে ওঠা আমার হাসি মুখের ছবি গুলোর মাঝে,

তুমি কি খুঁজে পাবে কোন হতাশা.?

এটা তো কাল পনেরো বছর পরের কথা,,

যতদিন বাঁচবো, যদি তুমি ভালো থাকো , 

আমিও ভালো থাকবো .....

সেটা তুমি পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকো...।

কবি রোহন মণ্ডল -এর একটি কবিতা

     পতিতা



আমি এক অন্যায়ের শিকার, আমি এক ক্লেদক্ত সমাজের ফসল

আমি এক অসুস্থ সভ্যতার দুহিতা, আমি আজ একজন পতিতা। 


আমি একরাশ দারিদ্রতা আর চোখের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে হয়েছি সমাজচ্যূত, 

শুধু বেঁচে থাকার আশা নিয়ে ধরতে চেয়েছিলাম বিশ্বাসী মানুষের হাতদুটো। 

কিন্তু হায়, সরলতা আর অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ওরা আমাকে করেছে পন্য। 


আজ ক্রেতারা মহান, বিক্রেতাও হয়েছে সাধু, আর আমি

পেলাম শুধু ঘৃন্য এই জীবন। 

 নেকড়ের দাঁত আর হায়নার থাবায় প্রতিদিন নিষ্পেষিত হতে হতে আমি শুধু বলব, 

 "আমি ছিলাম নারী তোমাদের দয়ায় আজ আমি একজন পতিতা। 

 কিন্তু তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি যেন কেউ না করে এরূপ দাক্ষিণ্যতা।" 



কবি আসাদ আলী -এর একটি কবিতা

 ঘুম নয়, ঘাপটি

  


সব'ত জানেন তবু কেন

মেরে থাকেন ঘাপটি

ছোবল যখন তোমার দিকে

তুলবে জাত সাপটি

ঘুমের ভান যাবে ছুটে

বন্ধ খাওয়া লুটেপুটে

রাস্তা খুজে পাবে নাকো

চেয়েও হাজার মাটি

বন্ধ করে ওঠো জেগে

ঘুমের মানে ঘাপটি। 

      

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 নীরজের স্বপ্ন



একটা স্বপ্ন --

একটা স্বপ্ন সত্যি হবার

জাতীয় সঙ্গীত বাজার

তেরঙ্গা আকাশ ছুঁয়ে থাকার

সোনার পদক থাকবে গলায়

পাণিপথ থেকে টোকিও

অনেক বছরের সফর

বল্লমের উড়ান হাওয়ায় ভেসে

সবুজ ঘাসের বুক স্পর্শের

এগিয়ে থাকার, এগিয়ে রাখার

দেশের সম্মান তুলে ধরার

আজ স্বপ্নপূরণের সে দিন

আমাদের ভারত মহান।

কবি সুমিতা ঘোষ -এর একটি কবিতা

 অভিমানী মন


অভিমান কার ওপর করব

কাকে জানাব হাহাকার।

কার কাছে ভালোবাসার দাবী করব

কেউ তো নেই সুহৃদ আমার।

চেনা মুখের আড়ালে অচেনার বাস

কোন্‌ মনে মন নেবে আশ্রয়।

ভীড়ের মাঝে আমি একা

কোথায় আমার নিজের আলয়।

শূন‌্য আমার ভালোবাসার ঝোলা

কাউকেউ দেবার কিছু নেই।

নিঃস্ব আমি, ঝরা ফুল,

জানি কারো প্রয়োজন নেই।

এসেছি একা, যাব একা

একা কাটাব জীবন।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 শূন্যতার গা ঘেঁষে


বিশ্বাসের দরজায় বিড়ম্বনা তুলছে মাথা

আটপৌরে জীবন

নেমে আসে দ্বিধা দ্বন্দের নিত্যসমাস

শূন্যতার ভিতর লেপ্টে যায় নিষ্ঠুরতার সন্যাসী অভিযান


প্রাত্যহিক জীবনে দল বেঁধে অভাবেদের যাওয়া আসা মন্দ লাগে না

মৃত্যু এখন সহজ লভ্য অহংকার

ঘরে ঘরে জ্বলে দুঃখের উনুন

বিবর্তনের গা ঘেঁষে পুড়ে যায় চিতা ভর্তি শ্বাসকষ্ট

অগ্নিস্রাব হয় বিশ্বাসী রমণীদের

অপরিণত বোকা কাহিনীর মতো প্রেম গর্ভবতী হয়

আটপৌরে সংসারে নাড়ীর যোগ বলে কিছু হয়না


শূন্যতার আগমনে আক্রান্ত হয় ভালোবাসা

ধূলোর আস্তরণ জুড়ে বিচ্ছেদের বিস্তীর্ণ মাঠ

অসফল ধূসর স্বপ্নেরা চৈত্রের ঝড়ে ঠুংরী গায়

এভাবেই বিশ্বাসের দরজায় হানা দেয় অপরিচয়

আমরা আধুনিক হই

প্রেমের রাস্তায় খেলা করে খোলাম কুচির নিষ্ঠুর আহ্বান