Monday, August 9, 2021

কবি মিঠুন রায় -এর দুটি কবিতা

 কল্পিত ইমারত 



গভীর তন্দ্রায় মিশে যাচ্ছে 

জেগে থাকার অনুভূতি, 

সিঁড়ি ভেঙে মাটি ছুঁতে চায় স্বপ্নরাশি,

বনস্থলী জুড়ে আছে এক সংকীর্ণ মেঠোপথ, 

সেখানে নেই কোন মিথ‍্যার ফুলঝুড়ি,

নেই কপটতার মায়াবী ভূষণ, 

বাতাসের গায়ে লেপ্টে আছে শিমুল তুলোর স্পর্শ।


ভোরের পৃথিবী জুড়ে বসন্তের ভালবাসা কেমন ছড়িয়ে পড়ে, 

অনুরাগে ফুলের রেণু ছড়িয়ে পড়ে নিজস্ব মুদ্রায় ,

স্তব্দ পাহাড়ের শিখরে,

মেঘের কার্ণিশে সেজে ওঠে 

সে কোন্ কল্পিত ইমারত!


__________________________________________


দিগন্ত 



প্রতিটি দুঃখের ভেতর লুকিয়ে থাকে এক চিলতে নদী,

যে নদীর গহীনে লুকিয়ে আছে অশ্রু, দুঃখের দিনলিপি।


মেদ বহুল সমাজ কলঙ্ক লেপে দিচ্ছে জীবন গাঁথায় প্রতিনিয়ত, 

উন্মনা বকুলের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে দুঃখের নির্যাস।


শুধু মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে ইতিহাস,

 রঙ-বেরঙের দিগন্ত

কবি রাজেন্দ্র কুমার মন্ডল -এর একটি কবিতা

 হঠাৎ একদিন



ধরো , আজ থেকে বছর পনেরো পর..

কোন এক গভীর রাতে পাশে রয়েছে তোমার ঘুমন্ত স্বামী।

তার চোখের আড়ালে যদি তোমার মন চায়,

তুমি খুলবে আমার হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক প্রোফাইল।

দেখতে পাবে একটা ফোকলা হাসি দিয়ে রয়েছে আমার ডিপি,

এবাউট এ দেখতে পাবে কোনোএকদিন সন্ধ্যাবেলায়

 তোমার বলা সেই কথাটি।

 আরো কতকিছু অমুক-তমুক ........

হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে দেখবে হয়ত আমার লাস্ট সিন 2 মিনিট আগে ,

তোমার হয়তো খুব ইচ্ছা করবে একটা সিঙ্গেল মেসেজ করার।

কিন্তু ভবিষ্যতের আর বাস্তবতার কথা ভেবে,

 তুমি পারবেনা মেসেজ করতে।

ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলো দেখে,

তুমি হয়তো ভাববে আমি খুব ভালো আছি।

তুমি হয়তো ভাববে তোমার থেকে অনেক ভালো একজনকে পেয়েছি।

সেদিন হয়তো তোমার একটা ফুটফুটে খোকা বা খুকি হবে,

তোমার অপত্য ও স্বামীর সাথে তুমি রাত্রিযাপন করবে।

সেদিন হয়তো তুমি, আমার দেয়া কষ্টগুলো ভেবে আমাকে 

ভোলার চেষ্টা করবে,

আমার করা ফালতু ফালতু মেসেজ গুলো পড়ে তুমি কাঁদবে।

তুমি হয়তো ভাবে আমি তোমাকে ভুলে গেছি,

কিন্তু না, তোমার আইডিটি থাকবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লিস্টে পিনে।

তোমার সামনে ফুটে ওঠা আমার হাসি মুখের ছবি গুলোর মাঝে,

তুমি কি খুঁজে পাবে কোন হতাশা.?

এটা তো কাল পনেরো বছর পরের কথা,,

যতদিন বাঁচবো, যদি তুমি ভালো থাকো , 

আমিও ভালো থাকবো .....

সেটা তুমি পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকো...।

কবি রোহন মণ্ডল -এর একটি কবিতা

     পতিতা



আমি এক অন্যায়ের শিকার, আমি এক ক্লেদক্ত সমাজের ফসল

আমি এক অসুস্থ সভ্যতার দুহিতা, আমি আজ একজন পতিতা। 


আমি একরাশ দারিদ্রতা আর চোখের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে হয়েছি সমাজচ্যূত, 

শুধু বেঁচে থাকার আশা নিয়ে ধরতে চেয়েছিলাম বিশ্বাসী মানুষের হাতদুটো। 

কিন্তু হায়, সরলতা আর অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ওরা আমাকে করেছে পন্য। 


আজ ক্রেতারা মহান, বিক্রেতাও হয়েছে সাধু, আর আমি

পেলাম শুধু ঘৃন্য এই জীবন। 

 নেকড়ের দাঁত আর হায়নার থাবায় প্রতিদিন নিষ্পেষিত হতে হতে আমি শুধু বলব, 

 "আমি ছিলাম নারী তোমাদের দয়ায় আজ আমি একজন পতিতা। 

 কিন্তু তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি যেন কেউ না করে এরূপ দাক্ষিণ্যতা।" 



কবি আসাদ আলী -এর একটি কবিতা

 ঘুম নয়, ঘাপটি

  


সব'ত জানেন তবু কেন

মেরে থাকেন ঘাপটি

ছোবল যখন তোমার দিকে

তুলবে জাত সাপটি

ঘুমের ভান যাবে ছুটে

বন্ধ খাওয়া লুটেপুটে

রাস্তা খুজে পাবে নাকো

চেয়েও হাজার মাটি

বন্ধ করে ওঠো জেগে

ঘুমের মানে ঘাপটি। 

      

কবি আশীষ কুন্ডু -এর একটি কবিতা

 নীরজের স্বপ্ন



একটা স্বপ্ন --

একটা স্বপ্ন সত্যি হবার

জাতীয় সঙ্গীত বাজার

তেরঙ্গা আকাশ ছুঁয়ে থাকার

সোনার পদক থাকবে গলায়

পাণিপথ থেকে টোকিও

অনেক বছরের সফর

বল্লমের উড়ান হাওয়ায় ভেসে

সবুজ ঘাসের বুক স্পর্শের

এগিয়ে থাকার, এগিয়ে রাখার

দেশের সম্মান তুলে ধরার

আজ স্বপ্নপূরণের সে দিন

আমাদের ভারত মহান।

কবি সুমিতা ঘোষ -এর একটি কবিতা

 অভিমানী মন


অভিমান কার ওপর করব

কাকে জানাব হাহাকার।

কার কাছে ভালোবাসার দাবী করব

কেউ তো নেই সুহৃদ আমার।

চেনা মুখের আড়ালে অচেনার বাস

কোন্‌ মনে মন নেবে আশ্রয়।

ভীড়ের মাঝে আমি একা

কোথায় আমার নিজের আলয়।

শূন‌্য আমার ভালোবাসার ঝোলা

কাউকেউ দেবার কিছু নেই।

নিঃস্ব আমি, ঝরা ফুল,

জানি কারো প্রয়োজন নেই।

এসেছি একা, যাব একা

একা কাটাব জীবন।

কবি আবদুস সালাম -এর একটি কবিতা

 শূন্যতার গা ঘেঁষে


বিশ্বাসের দরজায় বিড়ম্বনা তুলছে মাথা

আটপৌরে জীবন

নেমে আসে দ্বিধা দ্বন্দের নিত্যসমাস

শূন্যতার ভিতর লেপ্টে যায় নিষ্ঠুরতার সন্যাসী অভিযান


প্রাত্যহিক জীবনে দল বেঁধে অভাবেদের যাওয়া আসা মন্দ লাগে না

মৃত্যু এখন সহজ লভ্য অহংকার

ঘরে ঘরে জ্বলে দুঃখের উনুন

বিবর্তনের গা ঘেঁষে পুড়ে যায় চিতা ভর্তি শ্বাসকষ্ট

অগ্নিস্রাব হয় বিশ্বাসী রমণীদের

অপরিণত বোকা কাহিনীর মতো প্রেম গর্ভবতী হয়

আটপৌরে সংসারে নাড়ীর যোগ বলে কিছু হয়না


শূন্যতার আগমনে আক্রান্ত হয় ভালোবাসা

ধূলোর আস্তরণ জুড়ে বিচ্ছেদের বিস্তীর্ণ মাঠ

অসফল ধূসর স্বপ্নেরা চৈত্রের ঝড়ে ঠুংরী গায়

এভাবেই বিশ্বাসের দরজায় হানা দেয় অপরিচয়

আমরা আধুনিক হই

প্রেমের রাস্তায় খেলা করে খোলাম কুচির নিষ্ঠুর আহ্বান

কবি সুনন্দ মন্ডল -এর দুটি কবিতা

 বিশ্বস্ত জিজ্ঞাসা


রাতের কালো আঁধার কবে ঘুচবে?

এই প্রশ্ন

মানবিক চেতনায়।


উন্মুক্ত আকাশে জোনাকির মতো

তারারা জ্বলে

কিছুটা আশা জোগায়।


কিন্তু মানুষ বেহিসেবি

অগোছালো

বেদনায় কাতর, 

ভালোবাসায় আতর ছড়ায়।


বর্তমানের আখড়ায়

শুধুই চিল শকুনের টাটকা অভিযোজন।

তাই নিঃস্বার্থ কিছু আশা করা বৃথা

এমনকি বিশ্বস্ত জিজ্ঞাসাও মেলে না। 

----------------------------------------------------------------


             অন্তত

             ‎ 

অভিমানের চাদর

সরিয়ে রেখে ফিরে এসো অন্তত।

একবার ভালোবেসে দেখো

জীবন সত্যের সন্ধান পাবে।


লুকিয়ে লুকিয়ে কখনো বাঁচা যায় না

থাকে না বিলাসিতা।


জিজ্ঞাসু মনে কখনো 

সত্যানুসন্ধানী হওয়া যায় না।


তাই অভিমানটাই সরিয়ে রাখো।

হাত বাড়িয়ে ফিরে এসো অন্তত

অভিমানী,

শরীর ত্যাগের আগে মন থেকে ত্যাগ করো জঞ্জাল।

কবি অমিত পাল -এর একটি কবিতা

 বেকারত্বের কর্মফল

                    


বিষন্ন গ্লাসে বিষাদ পানীয়

রাত্রির মৌনতা করুণা চোখ নিক্ষেপ করে৷

আচ্ছা, বরবাদেরও তো একটা সীমানা আছে!

আর কত, আর কত?


মাদক তো মোহের বস্তু 

বিরহকে ঢেকে রাখার শামিয়ানা এটা নয়,

সেটা তো---- হৃদয়ের চাপানুতর আর্তনাদ৷

আর, আর...


নিভৃত চোখেও বেকারত্বের ছাপ,

বিরহ তো আমার বেকারত্বের কর্মফল৷

তবুও পাশে থাকার হুমকি কই?

শুধু নীরব চোখে দাঁড়িয়ে আমার সর্বনাশ৷

কবি স্বাগতা দাশগুপ্ত -এর একটি কবিতা

 হে পলাশ


ইঁট কাঠ পাথরে

ধোঁয়া মাখা শহরে

চেয়ে আছে রক্তিম নয়নে 

শুধু একটি পলাশ।

আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকার পাশে

কোন্ জীবন রসের আশ্বাসে-

আজো তুমি মাথা তুলে-

উদ্ধত পলাশ!!

উদ্ধত তোমার ভঙ্গিমা

পত্রহীন উজ্জ্বল রক্তিমা-

নর-নারী মনে তবু

জাগে না যে শিহরণ..

এখানে নবীন আয়োজন 

নিত্য নব প্রয়োজন

পরশপাথর হাতে বসন্ত বন্দনায় --

বৃথা তুমি পরবাসী হে পলাশ।

কবি ইউসুফ মোল্লা -এর একটি কবিতা

 প্রকৃতি


তোমাকে জেনেছি আমি ঝর্ণার মাঝে,

ঝর্ণা যেভাবে পাহাড় বেয়ে নদীতে গিয়ে মেশে।

তোমাকে জেনেছি আমি অরণ্যের ভিতরে,

অরণ্য-এ যেভাবে পাতারা ঝরে ঝরে পড়ে।

তোমাকে পেয়েছি আমি আকাশের মাঝে,

যেখানে নক্ষত্রেরা ঝলমল করে তোমার সাথে।

তোমাকে খুঁজেছি আমি নদীর কাছে,

নদীরাও গল্প করে আমার সাথে।

তোমার চুল পড়ে ছিল পিছন দিকে,

যেভাবে ঝর্ণারা পাহাড় বেয়ে নদীতে গিয়ে মেশে।


কবি সর্বাণী ঘড়াই -এর একটি কবিতা

 আয়ুতে ভরেছি রঙ


 মনের উচ্ছলতায় ভরেছি

             রঙ

লাল নীল গেরুয়া সবুজ


কোথাও ভরিনি সাদা 


সে তো জন্মগত অধিকারে পেয়েছি আত্মায়।


সূর্যের ঔরসে গায়ে মেখেছি রামধনু রঙ 

উজ্জলতায় ঢেকেছি শরীর

মনের রঙ উড়িয়েছি

 আকাশে বাতাসে প্রকৃতির মাঝে


যদি ঘাস ফুল হয়ে বেঁচে থাকি হাজার আয়ু নিয়ে


ধূসর ঝরা পাতায় মিশে যাক সাদা ছাই ।


লাল নীল সবুজের খেলায় জীবন জোয়ারে ভেসে যাক অস্থি কলস।


জন্ম মৃত্যুর ব্যবধানে সাদা রঙে বেড়ে যাক পৃথিবীর আয়ু।

কবি মানসী ঘোষ -এর একটি কবিতা

 আরো হাসতে হবে, আরোও বেশি বাঁচতে হবে


আমি আমার এই হাসিটুকু সবদিন বজায় রাখতে চাই ,আসলে তা আমার স্বভাবসিদ্ধ। চাইলেও বাদ দিতে পারিনা।

আমার অভাবেও আমি নিরন্তর হাসতে পারি, তাতে তুমি আমায় "অদ্ভুত মানুষ" আখ্যা দিতেই পারো।

আবার যদি কখনো বন্ধুত্ব নামক এই ব‍্যখ‍্যাতীত সম্পর্কের কাছে তীব্রভাবে ঠকে যেতে হয়, তবুও এই হাসিটুকু থাকবেই, তাতে তুমি আমায় ভাবলেশহীন বলতেই পারো।

অথবা যখন আমার প্রাক্তণ এর কথা বলবো কিংবা তার সাথে আমার বিচ্ছেদের কথা ওঠে কখনো তখনও এই হাসিটুকু রাখবো, একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস হয়ত থাকতেও পারে, কিন্তু তার মাঝে আমার হাসিটুকু হারাবেনা, বরং হাসির মাঝে দীর্ঘশ্বাসটা হারিয়ে যাবে। এতে তুমি আমায় হৃদয়হীন বলতেই পারো।

আবার ধরো যদি আমার কোনো প্রিয়জনের মৃত্যু হয় সেই মুহূর্তে কান্নার মাঝেও, আমি তার সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে একবার নিশ্চই হাসবো। তুমি এতে আমায় নিষ্ঠুর বললেও বলতে পারো।

আর যদি জীবনের এই হার -জিত এর বন্ধুর পথে কখনো হেরে যাওয়ার সম্মুখীন হতে হয় , তখনও এই হাসিটুকু বজায় রাখবো তাতে আমায় দায়িত্বজ্ঞানহীন বললেও ক্ষতি নেই। 

আর যখন আমার মৃত্যু খুব কাছাকাছি তখনও এই হাসিটুকু থাকবে।

আসলে সবকিছুতে হেরে গেলেও নিজের কাছে যে হারতে নেই, 

আর এই হাসিটুকুই আমায় অদ্ভুত এক প্রাণশক্তি দেয় আবার জিতে যাওয়ার, আবার বেঁচে ওঠার, আবার এক নতুন প্রারম্ভের। এই হাসি কান্না , সুখ দুঃখের নীলগ্রহে যে হাসিটুকু রাখতে পেরেছি তা অনেক বড় প্রাপ্তির।