Sunday, January 2, 2022

কবিতা || নীরবতা নেমে আসে || ক্ষুদিরাম নস্কর

 নীরবতা নেমে আসে




ভাবনার ভেতর খুঁজি জীবন মহৎ,

সেজেছি সন্ন্যাসী শুধু অন্তরে আসক্ত।

চেয়েছি অনেক কিছু---

পেয়েছি কি কম ?

জ্ঞানহীন,ভক্তি হীন,মুক্তি হীন মনে,

কামনা বাসনা আশায় হৃদয় পাথর।

আতর রাত্রির ও নেমে আসে ভোর,

নিষ্ঠুর নীরবতা----

ধীরে ধীরে নেমে আসে ঘুমের ভিতর।

কবিতা || দিনলিপি || জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

 দিনলিপি




আমার সারা উঠোন জুড়ে আজ বিষাদের ছায়া, সেই বিষয়ে ছায়া ডেকে আনতে মৃত্যু, আমার চারপাশে মৃত্যু গন্ধ, প্রতিটি শব্দে বিষাদের স্পর্শ, প্রতিটি অক্ষর হিম নীল হয়ে আসছে, ঘুম ভাঙনের বুকের ভেতর দুরু দুরু ভয়ের স্রোত, কতকাল দিনের আলোতে আর সকাল হয় না, সকালের পসরা সাজিয়ে আছে মৃত্যুর গল্প, গন্ধ, স্পর্শ, আমার দিনলিপি নীল নীল অক্ষরে লেখা, লিখে চলেছি হিম অক্ষরদের।

কবিতা || তবু লিখে যেতে হবে || অমল কুমার ব্যানার্জী

 তবু লিখে যেতে হবে




আমার লেখার মাঝে কি যে থাকে জানি না যে আমি,

তবুও মনে হয় যেন লিখে যেতে হবে,তাই লিখি।

তোমাদের দরবারে হাবিজাবি লেখা গুলো এসে

হয় জড়,

জানি আমি তোমাদের বিরক্ত করে অনর্গল কলমের কালি।

কেউ হাসে কেউ দেয় গালি, ভাবি মনে মনে,

লেখা তুই থেমে যারে আজ,

তবু লেখা থামেনি কখনও, লিখে চলি হাবিজাবি যতো।


আমার এই লেখা, একদিন থেমে যাবে মৃত্যুর

ঘোর অন্ধকারে,

হয়তো সেদিন আমার লেখার মাঝে, আমি কে?

খুঁজে পাবে।

যাকে তুমি খুঁজেছিলে জীবনের প্রতি ক্ষনে ক্ষনে।

সন্ধ্যা অন্ধকারে প্রদীপের শিখা টিম টিম জ্বলে,

দৃষ্টির মাঝে উদ্ভাসিত শব্দমালা ঝাপসা মনে হয়।

কি লিখেছি আমি, অব্যাক্ত থেকে যাবে মনের গভীরে।


আমি আজ নিশ্চিত মনে, বসে আছি নক্ষত্রলোকে,

হাবিজাবি লেখা গুলো আজও বুঝি সমাজের অন্ধ গলি মাঝে মৌচাক বাঁধে।

আমার ফরিয়াদ তোমাদের কাছে লিখে যাব আমি,

পাগলের প্রলাপ বলে দূরে সরিয়ে নিও আপনারে।


অশান্ত অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে বেড়াতে বেড়াতে, বিলীন আমি যে আজ আমার লেখাতে।

হয়তো সেদিন, কোন এক গৃহবধূ আনমনে

পড়িতেছে কার কাব্য খানি?

কৌতূহলী দৃষ্টি তোর আস্ফালন করে,

কার কাব্য পড়িতেছ ঘোর অন্ধকারে?


লিখে যাব আমি নবজাতকের কাছে অঙ্গীকার

আজ,

সমাজের অন্যায় অবিচার, আমার লেখার মাঝে পাবে তা প্রকাশ।

তোমরা তা পড়িবেনা জানি, তবু জেনো, লিখে যাব

আমি,

আমার কবিতা মাঝে আজও বেঁচে, বিদ্রোহী

যবনিকা আমি।

কবিতা || নববর্ষের সাহেব || শ্যামল চক্রবর্ত্তী

 নববর্ষের সাহেব


 


রাতে আমি সাহেব হবো,

তোতলামি আমি ইংলিশ।

বাঙালি বলে করিস না খাটো,

বর্ণ গায়ের কালো ।

 পেয়ালা আমি চলকাই,

তাকে কত রঙিন জল।

 বারোটয় সূচনা নববর্ষ,

আতশবাজিতে হইচই।

হোকনা দূষণ বাতাসের,

ক্রন্দন তাই কতো উদ্ভিদের।

অনাড়ম্বর করনা পালন,

আমরা বাঁচলে , বাঁচাবি জীবন।

কবিতা || দুমদাম, চুপচাপ || সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

 দুমদাম, চুপচাপ




ফুল ফুটছে দুমদাম। 

বাজি ফোটে চুপচাপ

চাঁদের আলো শব্দ করে

সমুদ্র ভাসে সাগর জলে। 


মিথ্যা গড়া পাথর দিয়ে বাঁধ হচ্ছে

বিধায়ক হচ্ছে প্রবল বলশালী

রাশিয়ার বলশেভিক পার্টির মতো

আম পাবলিক মরছে গুমরে গুমরে

পৃথিবীতে মানবিকতা মরছে ধুঁকে ধুঁকে। 


বাংলার হচ্ছে নব রূপায়ন

কলকাতা ভাসছে চোখের জলে। 

নিকাশি দূর অস্ত। 

জল জমছে ঘরের মধ্যে

কে পারবে সূর্যের মুখ থেকে

ছিনিয়ে আনতে 

একটুকরো আশার আলো!

কবিতা || উন্নয়ন || অভিজিৎ দত্ত

 উন্নয়ন 

      




ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার 

একমাত্র ছিল লক্ষ্য দেশের 

উন্নয়নই যেন হয় মুখ্য। 

হায়রে দেশের অবস্থা 

ভোট সর্বস্ব রাজনীতি 

শেষ করলো দেশটা।

ভোট যখনই আসে

মনে পড়ে উন্নয়নের কথা

ভোট চলে গেলে আবার 

সেই পূর্বেকার অবস্থা। 

জাতপাত, ধর্মের তাস খেলে

যে দেশে হয় ভোটের লড়ায় 

উন্নয়ন সেখানে থমকে দাঁড়ায়। 

কোথাও উন্নতি,কোথাও অবনতি 

এইভাবেই হয় জনগণের ক্ষতি।

উন্নয়নের জায়গায় বেশীরভাগই 

এখন আখের গোছাতে ব্যস্ত 

কে,কতো তাড়াতাড়ি বড়োলোক হবো, 

সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত। 

অর্থ আর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে

যে কোনো কাজ হয় সময়ে

তাহলে দেশের জনগণ 

কতদিন সইবে এই অনুন্নয়ন?

কবিতা || জীবন আছে || নবকুমার

 জীবন আছে 




নদীর এক কূল ভাঙে 

দাঁড়িয়ে আছি ভাঙনের তীরে ।


ওপারকে জানাবো প্রার্থনা -

-একটু আশ্রয় দেবে না ?

'হ্যাঁ'বললেও ভাল

'না' বললেও নেই ক্ষতি

শুধু অপেক্ষা একটি যতি ।


হয়তো হড়পা বানে পাড় ভাঙবে-

ভেসে যাবো জলের তোড়ে-

ভাসতে ভাসতে ঠেকবো কোন চড়ায় ।


তুমি যদি দেখতে পাও

বলবে--এখনো জীবন আছে

কিন্তু আমি তো মরা-ই ।

কবিতা || লাটেক্স ফিঙ্গার অথবা বদ্বীপের জবা || নিমাই জানা

 লাটেক্স ফিঙ্গার অথবা বদ্বীপের জবা




ভয়াবহ ইচ্ছামতী নারীর দুটি অলৌকিক চোখের পরিযায়ী গন্ধ অন্তর্বাসের মাথায় থাকা ছোপ ছোপ পরিচলন বৃষ্টিপাতের

আমি ডুয়ার্সের রডোডেনড্রন ধরে পর্ণমোচী হয়ে যাওয়ার পর একটি আগুনের স্ফুলিঙ্গ আর বরফের স্থানাঙ্ক জ্যামিতি খুঁজে বেড়াচ্ছি এক পক্ষকালের ও বেশি সময়

আমাদের কোন অস্থিগ্রন্থিতে রজনীগন্ধা গজিয়ে ওঠেনা আজকাল

আমার নারীকে ঈশ্বরীয় করে তোলে ৩০° ডিগ্রির আপতন কোণ , মরুঝড় দেখতে থাকি লিপস্টিক উধাও শারীরবৃত্তীয় কারুকাজ

নিয়ে , আমি কি তবে গোপনে ল্যাটেক্স ফিঙ্গারের ডগায় বিষের কৌটা খুলে অক্ষরের নাবিক হয়ে বিষের চারা গাছ রোপন করি, 

মূলত একটি অপার্থিব সঙ্গমের দাঁত লেগেছে ভুল কামড়ে

আমি নদীর বদ্বীপে এগিয়ে সাদা জবা পুঁতে আসি আমার শরীরে কোন রমনের চিহ্ন ছিল না প্রাগৈতিহাসিক কালেও

বিবস্ত্র চিহ্নের দেহজ ফসল আমি গলাবন্ধটির কাছে মেরু

প্রদেশের চিন্ময়ী রূপ দেখে পুলকিত হই

জোনাকির কথা মনে পড়ে এই প্রভাতে বশিষ্ট হেঁটে যাচ্ছেন সুধাময় কুটিরের দিকে , চিন্ময় আনন্দ চোখে

তাঁর বাশির ভিতরে তিনটি গোখুরের গোকুল গুণ বাসা বেধেছে।

কবিতা || ছিলাম তোমার অপেক্ষায় || বিমান প্রামানিক

 ছিলাম তোমার অপেক্ষায়




আজও আমি আছি তোমার অপেক্ষায় 

তুমি আমায় আসবো বলে কথা দিয়েছিলে তাই। 

আমি কি ঠিক চিনতে পেরেছি তোমায়! 

যেন আমি আছি এখনও শুধু তোমার অপেক্ষায়। 


যতই এসেছে ঝঞ্ঝা তুফান, যতই এসেছে বাধা 

কৃষ্ণ রূপে ছিলাম আমি, তুমিই আমার রাধা। 

মনের যত ভাবনা ছিল, সবই যেন নিল বিদায়

মনের দুঃখ ঘুচিল সব, শুধু তুমি এলে তাই। 


আমি জানিতাম, তুমি আসবে ঠিক একদিন 

তাই তো আমি স্বপ্নে তোমায় দেখি কোনোদিন। 

তোমায় ঘিরে কুটিল ভাবনা যত ছিল আমার মনে 

সব কিছু আজ দূরে গেল প্রতীক্ষার অবসানে। 


নতুন করে উঠবে ভরে তোমার আমার জীবন 

তুমি আসবে বলেই হয়নি আমার একা একা মরণ। 

সংসার যুদ্ধে জয়ী যেন আমি; তুমি এলে তাই 

সেদিনের সেই দুই মাসের আদরের মেয়েটি আমার কোথায়? 


তবে কি!পাঁচটি বছর পরেও বাবার উপর অভিমান!

নাকি তুমি এসেছো শুধুই একা নিতে কিছু প্রতিদান?

কবিতা || ছত্রখান || সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

 ছত্রখান




যত না বিখণ্ড চুপটি শুয়ে পার হয়

              শব্দময় রাতগুলো,

তারও চেয়ে ভয়ানক ত্রিশূলের ভৌতিক নাচন

তুলে নিয়ে চলে ঘন অন্ধ গুহায়,

এবার নবমীর পাঁঠার বুকে গুরু গুরু রব

কান পেতে শুনি কিম্ভূত কিমাকার।

চোদ্দ পুরুষের দোষের মোড়কে নিজেই অবশেষে

                     শিখণ্ডির মতন,

অন্তরালে লক্ষ কোটি গলদ তমসাবৃত

নানা কারিগরী-কসরতে।

বলির স্বপ্নে বলীর অহেতুক ভাবনাগুলো

ভাসতে থাকে, ভাসতে ভাসতে ভাসতে

        পরিপূর্ণ আসমান বহাল তবিয়তে।

কবিতা || অ্যানড্রয়েড কাব‍্য || সোনালী মীর

 অ্যানড্রয়েড কাব‍্য




নেই কোন দরকার 

কাগজ কলমটার

কবিতারা এলে মনে

জঙ্গলে রণে বনে

চট্ করে ফেলো লিখে

পোস্ট করো দিকে দিকে;


হাটে মাঠে বাসে ট্রেনে

পাহাড়ের নির্জনে

মরুবুকে,সাগরে

বস যদি আহারে

চিন্তার নেই বাত্

বাঁ হাতেই বাজিমাত্

এক আঙুলের শ্রমে

লেখালেখি ওঠে জমে;

আলমারি ড্রয়ারে

দিস্তার পয়ারে

ঘুনপোকা বাসাতে

অক্ষর চষাতে

আর নেই দুঃখু

খুলে গেছে চক্ষু

এসে গেছে অ্যান্ড্রয়েড

লিখে লিখে করো সেভড্।


এই শুধু রেখো মনে

ডিলিটের বাটনে

হাত যদি যায় পড়ে

কবিতারা যাবে উড়ে।

অক্ষর খেলে ঘুনে

কিছু থাকে আস্ত

যন্তর হ‍্যাং হলে

ষোলোআনা পস্তো!

কবিতা || সাহিত্যের নগরকীর্ত্তন || বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র

 সাহিত্যের নগরকীর্ত্তন





সু প্রভাতে সবারে করি গো বন্দন,
ওঠো জাগো সাহিত্যে ভরাও অঙ্গন৷
তৃষিত সাহিত্য রসে মোরা চিরদিন,
মুখিয়ে চায়ের সাথে সদাই প্রতিদিন৷
তপন কিরণ সম সাহিত্যের প্রভাকর,
ভরাক মোদের আজ স্মৃতির আকর৷
মোদের সে সাহিত্যের নগরকীর্ত্তন প্রতিদ্বারে,
আনুক জোয়ার আবার সুখ সমাচারে৷

কবিতা || থাবা || আবদুস সালাম

 থাবা




মানচিত্রের নদী গুলো জড়ো হয়েছে একদিকে

প্রোমোটরেরা খুঁজে চলেছে সমতল ভূমি

কালবৈশাখীর দাপটে লন্ডভন্ড সূর্যের দেশ

নক্ষত্রেরা প্রহর গুনছে আলো জ্বেলে

       উড়ে যাচ্ছে মেঘেদের ঘরবাড়ি


ব‍্যস্ত মানুষেরা জমা দিতে পারে না প্রিমিয়াম

অসুস্থ সব আসবাবপত্র

অন্ধকার নেমে আসছে গরীব ভূখন্ডে


নি্র্জনতম বিন্দুর মতো পরাজয় মাথা চাড়া দেয়

সব অবকাশ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে

পড়ে আছে মহাকাল অনন্ত বারুদের বিছানায়


প্রমোটারের থাবায় হারাতে বসেছে বসত

বিষাক্ত নিঃশ্বাসে পুড়ে যায় গহীন অরণ্য

পুড়ে যায় পৃথিবীর হৃৎপিণ্ড

ঝরে পড়ে দ্বিধাহীন বিশ্বাস

মাথা চাড়া দিচ্ছে আকাশ চুম্বি ফ্ল্যাট বাড়ি।